কর্মকর্তাদের দ্বন্দে ফিরত গেল কাবিখার ১৬০ টন গম

সিটি নিউজ অনলাইন ডেস্ক: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পের ১৬০ মেট্রিক টন গম ফেরত দেয়া হয়েছে। ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে কাবিখার দ্বিতীয় পর্যায়ের এ বরাদ্দ হয়েছিল।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরীন চৌধুরী ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) দেলোয়ার হোসেনের মধ্যে দ্বন্দের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বুধবার (৮ জুলাই) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বরাদ্দ ফেরত দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ অবস্থায় বাতিল হওয়া প্রকল্পের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের (ইউপি) মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এদিকে রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ফোরামের নেতারা বলছেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার জন্য প্রকল্পের বরাদ্দ ফেরত দেয়ার মাধ্যমে রায়পুরবাসীকে উন্নয়ন বঞ্চিত করা হলো। দ্বন্দ্ব নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে কাবিখা প্রকল্পের অধীনে লক্ষীপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের বরাদ্দে ১২টি প্রকল্পের বিপরীতে ৯৬ মেট্রিক টন, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলামের একটি প্রকল্পের ৯ মেট্রিক টন ও উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১২টি প্রকল্পের বিপরীতে ৫৫ মেট্রিকটন গম বরাদ্দ হয়। রাস্তাঘাট ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে এসব বরাদ্দ হয়।

তবে পিআইওর (উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) অভিযোগ, ইউএনও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ৩০ জুন বরাদ্দগুলো ফেরত পাঠিয়েছেন।

রায়পুর ইউপি চেয়ারম্যান ফোরামের সভাপতি ও বামনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাফাজ্জাল হোসেন বলেন, বরাদ্দ ফেরত যাওয়া রায়পুরের ইতিহাসে এ প্রথম ঘটনা। এ অবস্থা চলতে থাকলে সরকারের স্বাভাবিক উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হবে। চলমান সংকটগুলো নিয়ে আমরা ডিসির সঙ্গে বৈঠক করব।

পিআইও দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, ‘আমার চাকরি জীবনে এত অলস ইউএনও দেখিনি। তিনি ২৮ জুন রাতেও আমাদের বাসায় ডেকে কাবিখার দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পের ১৬০ মেট্রিক টন বরাদ্দকৃত গম ছাড় দেয়ার কথা বলেছিলেন। পরে তার একগুয়েমির কারণে বরাদ্দগুলো ফেরত যায়।’

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি মামুনুর রশিদ বলেন, দুই কর্মকর্তার সমন্বয়হীনতার কারণে বরাদ্দটি ফেরত গেছে। এতে রায়পুরের মানুষ উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরীন চৌধুরী কোনো অভিযোগ না করে বলেন, বরাদ্দ ফেরত যাওয়ার ঘটনায় আমার কোনো গাফিলতি ছিল না।’তবে এ বিষয়ে পিআইওর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, বরাদ্দ ফেরত যাওয়ার বিষয়টি আমি অবগত না। তবে ইউএনও-পিআইওর মধ্যে দ্বন্দ্বের কথা আমি শুনেছি। তাদের দ্বন্দ্ব নিরসনে আামি কথা বলব।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin