তিন হাসপাতাল ঘুরেও বাঁচাতে পারলো না আহত শিশু রাফিকে

সিটি নিউজ ডেস্ক:: একের পর এক হাসপাতালে ঘুরেও চিকিৎসা পেলো না সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত চার বছরের শিশু রাফি (৪)। অবশেষে দুর্ঘটনার এক দিন পরে শেবাচিম হাসপাতালে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয় তার। নিহত রাফি নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডস্থ ভাটারখাল এলাকার বাসিন্দা ও মাহেন্দ্র চালক সবুর হাওলাদারের ছেলে। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শেবাচিম হাসপাতালের শিশু সার্জারি ইউনিটে তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয় রাফি।

নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, ‘বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) এনায়েত ভাটারখাল এলাকায় তার মোটরসাইকেল সার্ভিসের জন্য দেন। মোটর মেকানিক মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়। এসময় ওই মোটরসাইকেলের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয় শিশু রাফি।

নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, ‘দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রাফিকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য প্রথমে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যান। দীর্ঘ অপেক্ষার পরেও সেখানে চিকিৎসকের দেখা পাননি। তাই সেখান থেকে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় বান্দ রোডস্থ ডায়াবেটিক হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে গিয়েও মেলেনি চিকিৎসা। তাই ওই হাসপাতাল থেকে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় নগরীর জেনারেল (সদর) হাসপাতালে। এখানেও একই অবস্থা। চিকিৎসা না পেয়ে নিরুপায় রাফির পরিবার তাকে পুনরায় শেবাচিম হাসপাতালের শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করে। সেখানেই চিকিৎসা অবহেলায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শিশুটি।

শনিবার সকালে শিশুটির করুণ এ মৃত্যুর খবরে এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। করোনার অজুহাতে চিকিৎসকদের এমন অনাচার এবং অবহেলার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। তাছাড়া শিশুর মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তবে এ নিয়ে পরিবার কোন ধরনের আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে ইচ্ছুক না থাকায় ময়না তদন্ত ছাড়াই পুলিশ মৃতদেহ দাফনের অনুমতি দিয়েছে।

সুত্র বিএসএল নিউজ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin