প্রতারনার অভিযোগ রহমতপুর’র সোহেল’র বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদন :: বরিশালে রহমতপুরে গড়ে উঠেছে এক ভয়ঙ্কর প্রতারকের প্রতারণায় পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছেন দেশের বিভিন্ন এলাকার সরলমনা, নিঃসঙ্গ, স্বামী পরিত্যাক্তা মহিলারা। অবশেষে অনুমান অষ্টম স্ত্রীর বরিশাল এয়ারপোর্ট থানায় করা মামলার পর বেরিয়ে আসে একের পর এক প্রতারণার গল্প, ঘটনার বিবরণে জানা যায় বরিশালের বাবুগঞ্জ নিবাসী সুবর্ণা (৩৫)( ছদ্মনাম) এর সাথে ৫ বছর পূর্বে পরিচয়ে ঘটে বরিশালের রহমতপুর এলাকার দেহেরগতি ইউনিয়ন এর মোহাম্মদ শাহজাহন বাবুর্চি শাজাহান অথবা ড্রাইভার শাজাহান নামে সে পরিচিত তার ছেলে আবুল বাশার ওরফে তারেক ওরফে সোহেল (৪৮) নামের এক মধ্যমবয়স্ক সাথে, নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলে, সুন্দর চেহারা এবং কথার ছলনায় ফেলে এক সময় বিয়ে করে একত্রে বসবাস করা শুরু করে ডিভোর্সি, এক সন্তানের জননী ওই মহিলার সাথে।

শিয়ালের মতো দ্রুত এই প্রতারক কখনো মেজর, কখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী,কখনওবা আমেরিকা প্রবাসী মিথ্যা পরিচয়ে এসব অপকর্ম করে বেড়াতেন। এরপর থেকে বিভিন্ন ছলা কৌশলে স্বর্ণ অলংকার, নগদ অর্থ সহ মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নিতেন। আর তার এসব কর্মে সহযোগিতা করত তার আপন বোন,( প্রতারক চক্রের লিডার) ও পিতা। ঢাকার-তানিয়া-মুক্তা , পলাশী ও ইরিন, ময়মনসিংহের ঝুমা, টাঙ্গাইলের রেহানা, বরিশালে লিপি ও আগৈলঝাড়ার গৈলা দাস কাঠি মরিয়ম বেগম সহ আরো অনেকে মহিলার সাথে বিয়ে বিয়ে নাটক করে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা, সর্বশেষ স্ত্রী করা মামলার এজাহার থেকে জানা যায় বিভিন্ন সময় তার কাছ থেকে প্রায় আনুমানিক ১৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এবং তার অনুপস্থিতিতে বাসার মূল্যবান জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলেছেন।

পরবর্তীতে আরও টাকার জন্য তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করলে তিনি এয়ারপোট থানায়-বাবুগঞ্জ থানায় মামলা করলে সে পালিয়ে যায়, থানার পুলিশ তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। এক সময় রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে যৌনবর্ধক ঔষধ বিক্রেতা বিভিন্ন উপায়ে মিমাংসা বিশেষ করে ডিভোর্সি, নিঃসঙ্গ মহিলাদের মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলার মাধ্যমে এসব অপকর্ম করে বেরাতেন, কখনো বা সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা সহ চাঁদাবাজির ছিল তার নিয়মিত কর্মকান্ড।সর্বশেষ স্ত্রীর থাকা কালীন অবস্থায় অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে বরিশালের নথুল্লাবাদ বাঙালি হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট আপত্তিকর অবস্থায় কতিপয় এক সাংবাদিকের ফটোশুটে ধরা পড়েছিলেন এই প্রতারক এলাকায় স্থানীয় জনসাধারণ হাতে ধরা খেয়ে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান।

দীর্ঘদিন ঢাকায় অপকর্ম চালানোর পর ধরা খেয়ে বরিশালে পালিয়ে এসে এক বছর বাড়িতে লুকিয়ে থেকে, পরবর্তীতে আবার স্বভাবসুলভ ভাবেই নতুন উদ্যমে । অপকর্ম চালু করে। এখন পলাতক থাকলেও সুযোগ সুবিধা মতো আবারও শুরু হবে তার প্রতারণা বলে এলাকাবাসীর ধারণা,তাই তাকে দ্রুত গ্রেফতারের মাধ্যমে উপযুক্ত শান্তি নিশ্চিত করা উচিত বলে মনে করেন ভুক্তভোগী সহ স্থানীয় জনসাধারণ।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin