দেশের ১৫ নদীর ২৪ পয়েন্টের পানি বিপদসীমার ওপরে

সিটি নিউজ ডেস্ক:: দেশের ১৫টি নদীর ২৪ পয়েন্টে পানি এখন বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ১৬টি জেলা এখন বন্যা কবলিত। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। যদিও কুশিয়ারা ছাড়া সব নদীর পানি এখনও পর্যন্ত স্থিতিশীল আছে। কিন্তু ভারী বৃষ্টির হলে ব্রহ্মপুত্র, যমুনাসহ উত্তরাঞ্চলের ধরলা, তিস্তা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির অবনতিসহ নতুন বেশকিছু এলাকা প্লাবিত হবার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবহাওয়া ও বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টরা।

রবিবার (১৯ জুলাই) দেশের ১৩টি নদীর ২১ পয়েন্টের পানি বিপদসীমার ওপরে থাকলেও  সোমবার (২০ জুলাই) তা বেড়ে ১৫টি নদীর ২৪ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। কাল মঙ্গলবার আরও বেশ কয়েকটি নদীর পয়েন্টের পানি বিপদসীমার ওপরে উঠে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতকীকরণ কেন্দ্র।

কেন্দ্রের তথ্যমতে, ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম পয়েন্টের পানি  রবিবার বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সোমবার তা বেড়ে হয়েছে ৪৮ সেন্টিমিটার। ঘাগট নদীর গাইবান্ধা পয়েন্টের পানি একই আছে ৫৩ সেন্টিমিটার,  ব্রহ্মপুত্র নদীর  নুনখাওয়া পয়েন্টের পানি কিছুটা নেমে ৪৪ থেকে ৩৬ হয়েছে, চিলমারী পয়েন্টেও কমে ৬২ থেকে ৫১ হয়েছে, যমুনা নদীর ফুলছড়ি পয়েন্টে ৮৫ থেকে কমে ৮২,  বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে ৯২ থেকে কমে ৮৯, সারিয়াকান্দি পয়েন্টে ৯৮ থেকে কমে ৯৭, কাজিপুর পয়েন্টে ৯১ থেকে কমে ৮৪, সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৮১ থেকে কমে ৭৭, আরিচা পয়েন্ট ৬৮ থেকে কমে ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে গূড় নদীর সিংড়া পয়েন্টে ৫৩ থেকে বেড়ে ৫৭, আত্রাই নদীর বাঘাবাড়ি পয়েন্টে একই আছে ১০০, ধলেশ্বরী নদীর এলাসিন পয়েন্টে পানি ১ সেন্টিমিটার বেড়ে ১০৭ থেকে ১০৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এখন প্রবাহিত হচ্ছে। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদীর জামালপুর পয়েন্টে একই রয়েছে, অর্থাৎ বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর, লাক্ষ্যা নদীর নারায়ণগঞ্জ পয়েন্টে ৪, কালিগঙ্গা নদীর তারাঘাট পয়েন্টে ৫৮ থেকে বেড়ে ৭৬, ধলেশ্বরী নদীর জাগির পয়েন্টে ১০, পদ্মা নদীর  গোয়ালন্দ পয়েন্টে ১০৩ থেকে বেড়ে ১০৭, ভাগ্যকুল পয়েন্টে ৬৪ থেকে বেড়ে ৭২, মাওয়া পয়েন্টে ৫৭ থেকে বেড়ে ৬৫ এবং সুরেশ্বর পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার  বিপদীসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে ৩, পুরাতন সুরমা নদীর দিরাই পয়েন্টে ২ থেকে বেড়ে ৮ এবং মেঘনা নদীর চাঁদপুর পয়েন্টের পানি বিপদসীমার ৯  থেকে বেড়ে ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভুইয়া জানান, কুশিয়ারা ছাড়া সব নদীর পানি এখনও স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীগুলোর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল অবস্থায় থাকতে পারে। তবে ভারী বৃষ্টির কারণে আগামী ৭২ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর ও ভারতের আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং এর আশেপাশে ভারতের হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। ফলে এই সময়ে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও উত্তরাঞ্চলের ধরলা ও তিস্তা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান  নদ নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।

এদিকে জেলাগুলোর মধ্যে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। অন্যদিকে নাটোর, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারিপুর, রাজবাড়ি, শরীয়তপুর ও ঢাকা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল অথবা সামান্য উন্নতি হতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, প্রবল সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং বরিশাল, ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও  কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

সোমবার দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে ডিমলায় ৮৩ মিলিমিটার। এছাড়া ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকায় ২০, ময়মনসিংহের নেত্রকোনায় ১৯, সিলেটের শ্রীমঙ্গলে ৪,  রাজশাহীর বগুড়ায় ৫, খুলনার যশোরে ৫  এবং বরিশালের  ভোলায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি  রেকর্ড করা হয়েছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin