শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে অপপ্রচার, তিন শিক্ষক গ্রেফতার

সিটি নিউজ ডেস্ক:: চাঁদপুরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপিকে নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগে দুই কলেজ ও এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন- ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলম (৪০), কলেজের আইসিটি শিক্ষক মো. নোমান সিদ্দিকী (৩৫) এবং পার্শ্ববর্তী একটি মাদ্রাসা শিক্ষক এবিএম আনিছুর রহমান (৪০)।

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভুয়া আইডি খুলে অপপ্রচারের অভিযোগে দুটি জিডি করেন পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। আরও একটি জিডি করেন হান্নান নামের আরেক শিক্ষক।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী বলেন, ফেসবুক আইডি থেকে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নামে গুজব এবং অপপ্রচার ছড়ানোয় অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার ও হান্নান নামের আরেক শিক্ষক জিডি করেন। জিডি অনুসন্ধান করে এর সত্যতা পাওয়ায় আমরা মামলা করি। এরপর আমাদের তদন্তকারী কর্মকর্তা নিরবচ্ছিন্নভাবে তদন্ত কাজ চালিয়ে যান। একপর্যায়ে কিছু ব্যক্তি এবং একটি প্রতিষ্ঠানকে সন্দেহ হয়। সন্দেহের ভিত্তিতে সার্চ ওয়ারেন্টের জন্য আমরা আদালতে একটি আবেদন দেই। আদালতের সার্চ ওয়ারেন্ট পেয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার গভীর রাতে ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজের আইটি সেকশনে একটি অভিযান পরিচালনা করি। গোয়েন্দা তথ্যের সত্যতা অনুযায়ী ওই সময় কলেজ বন্ধ থাকা সত্বেও সেখানে আমরা তিন শিক্ষককে পাই।

তিনি বলেন, ওই কলেজের ইসলামিক ইতিহাসের প্রভাষক জাহাঙ্গীর, কলেজের আইসিটি শিক্ষক মো. নোমান সিদ্দিকী এবং পার্শ্ববর্তী মাদ্রাসা শিক্ষক এবিএম আনিছুর রহমানকে ‘জয় আহমেদ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে এ ধরনের কার্যক্রম চালানোর সময় হাতেনাতে আটক করি।

জিডিকারী পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার জানা, গত সংসদ নির্বাচনের প্রায় এক বছর আগে থেকে এমডি জাহাঙ্গীর নামে একটি আইডি থেকে দীপু মনি আপা, তার ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ভাই এবং আমাকেসহ স্থানীয় কয়েকজন নেতাকে অকথ্যভাষায় গালাগালি করে। এসব পোস্টের স্ক্রিনশট নিয়ে নির্বাচনের এক মাস আগে আমি এসপির কাছে গিয়েছি। এসপি সাহেব এগুলো দেখেছেন। আমি তাকে সুনির্দিষ্টভাবে বলেছি, এগুলো ফরাক্কাবাদ কলেজের শিক্ষক জাহাঙ্গীর এগুলো করেছে। এসপি সাহেবের পরামর্শমতে নির্বাচনের আগে তথ্যপ্রমাণসহ আমি থানায় অভিযোগ দেই। এরপর শিক্ষামন্ত্রীর নামে ভুয়া আইডি খুলে অপপ্রচারের কারণে গত এপ্রিল মাসে আরেকটি জিডি করি। পরে পুলিশ আদালতের অনুমতি নিয়ে তা সিআইডিতে পাঠায়। আমি জানতে পেরেছি, ফরক্কাবাদের হান্নান নামের এক শিক্ষকও একটি মামলা করেছেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin