হিরণ স্কয়ার বনাম বরিশাল নিউ মার্কেট

সিটি নিউজ ডেস্ক:: বরিশাল শহরে একসময় একটি নিউ মার্কেট ছিল। এটি বর্তমান প্রজন্মের জানা নেইতো বটেই, মনে করি বস্ময়করও । বিবি’র পুকুরের দক্ষিন পাশে বর্তমানে যে অবহেলিত হিরণ স্কয়ার, সেখানটায়ই ছিল নিউ মার্কেট। তারও পূর্বে ঐ স্থানে একটি মজা পুকুর এবং একটি ডোম ঘর ছিল বলে জানা যায় ।

১৯৫৮ সালে সেই মজা পুকুর ভরাট এবং ডোম ঘর উচ্ছেদ করে সেখানে গড়ে তোলা হয় একতা বরিশাল নিউ মার্কেট। তবে সেই নিউ মার্কেট কখনো জমে ওঠেনি ।

ছোট ছোট স্টল গুলোর কোনটিতে টেইলারিং আবার কোনটিতে সাধারণ রেস্টুরেন্ট মানে চা-সিঙ্গারার দোকান, লন্ড্রি এসব দেখা গেছে। অনেকগুলো স্টলই অব্যবহৃত থাকায় আবর্জনায় ভরে ওঠে আর হয়ে ওঠে পাগল ও নেশাখোরদের আশ্রয়স্থল ও পরবর্তীতে পায়খানা-প্রশ্রাবখানার নিরাপদ কেন্দ্র । ফলে দুর্গন্ধে সেখানে ঢোকাও ছিল দুস্কর ।

সেই নিউমার্কেটের গেট বা প্রবেশদার ছিল তিনটি, উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিনে । অনেক সময়ি পথচারীরা উত্তর বা পশ্চিম গেট দিয়ে ঢুকে দক্ষিনের ফজলুল হক এভিন্যুয়ে যাতায়াত করতেন।। কিন্তু শেষটায় তাও সম্ভব ছিলনা আবর্জনা আর প্রকট দুর্গন্ধের কারনে । সেভাবেই পড়ে থাকে অনেক দিন।

এমনি এক ভাগারকে সৌন্দর্যমন্ডিত করা কাজ হাতে নেন প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরণ । জরাজীর্ন ভবনটি ভেঙ্গে ফেলে গড়ে তোলেন পাবলিক স্কয়ার। তবে কাজ সম্পন্ন করার আগেই তিনি মেয়র পদ হারান এবং অকালে চলে যান না ফেরার দেশে ।

পরবর্তীতে পাবলিক স্কয়ারের নতুন নামকরণ করা হয় হিরণ স্কয়ার । কিন্তু মামলাজনিত কারণে সেটির নির্মান কাজ শেষ না করতে পারায় বর্তমানে পরিত্যক্ত । সেখানে সম্পন্ন হয়নি আধুনিক রেস্টুরেন্ট যা দর্শনীয় স্থানের মূল আকর্ষন । মাঝে-মধ্যে ফোয়ারাটি চলতে দেখা যেত, এখন তাও অচল ।

বর্তমানে সোহেল চত্বরে অবিরাম চলতে থাকা ফুচকা ও ভাজা-পোড়ার অগুনতি ভাসমান দোকানের দখলে, আছে বিভিন্ন ধরনের ব্যানার- ফেস্টুনও, যে কারণে ছবি তোলাও দুস্কর। মটর সাইকেলের অঘোষিত স্ট্যান্ডও হিরণ স্কয়ারের সামনের রাস্তাটি । নগরবাসীর দাবি, মামলার ঝামেলা মিটিয়ে উন্মুক্ত করা হোক হিরণ স্কয়ার ।

লেখক:
এম.এম আমজাদ হোসাইন
প্রবীন সাংবাদিক
ও সাবেক প্রধান শিক্ষক,
হালিমা খাতুন বালিকা বিদ্যালয়, বরিশাল।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin