পার্ক যারা দখল করে রেখেছেন ভালোয় ভালোয় চলে যান: মেয়র আতিক

সিটি নিউজ ডেস্ক::

পার্ক, খেলার মাঠ দখলকারীদের কড়া মেসেজ দিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, অনেকে পার্ককে নিজেদের সম্পত্তি মনে করেন। পার্ক অন্য কারো সম্পত্তি না। এটি সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি সুতরাং এখানে অন্য কেউ দখল করে থাকতে পারবে না। কেউ কেউ পার্কগুলো দখল করে রেখেছেন, তাদের বলছি আপনারা ভালোয় ভালোয় চলে যান, না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা পার্ক উদ্ধার করবই।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) গুলশান-২ এর ৮৩ নং রোডে স্থাপিত বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মেয়র একথা বলেন। ডিএনসিসির ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাশ, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার, আওয়ামী লীগ দলীয় সংরক্ষিত সংসদ সদস্য নাহিদ ইজহার খান, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মমকর্তা মো. সেলিম রেজা, স্থপতি ইকবাল হাবিব প্রমুখ।

মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে প্রায় ১৭০০টি গাছ আছে। এই গাছগুলো অক্ষুন্ন রেখেই পার্কের কাজ করা হয়েছে। পার্কে ইনডোর জিমনেসিয়াম রয়েছে। নির্ধারিত পেমেন্টের মাধ্যমে ইনডোর জিমনেসিয়াম ব্যবহার করা যাবে, যাদের সামর্থ্য নেই তারা আউটডোর জিম ব্যবহার করবেন। পার্কের ভেতর কফি হাউজ আছে। সেই কলকাতার কফি হাউজের গানের মতো করে কেউ যদি বলেন গুলশানের কফি হাউজে আসব, চলে আসবেন। এখানে বার বি কিউ পার্টি করার ব্যবস্থা থাকবে।

তিনি বলেন, পার্কের ভেতরে মিউজিক্যাল ফাউনটেইন (ঝরনা) আছে। কারো মন ভালো না লাগলে চলে আসবেন, ফাউনটেইন চলবে মন ভালো হয়ে যাবে। রাগ নিবারণের জন্য ঘরে থাকতে হবে না। এই পার্কের আসলে রাগ থাকবে না।

মেয়র বলেন, অনেকে পার্ককে নিজের সম্পত্তি মনে করেন। পার্ক অন্য কারো সম্পত্তি না। এটি সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি সুতরাং এখানে অন্য কেউ দখল করে থাকতে পারবে না। আমরা ২৭টি পার্কের ডিজাইন করেছি, কাজ করছি, কিছু খেলার মাঠও থাকবে। এই পার্ককে অনেকে মনে করেন নিজস্ব সম্পত্তি। ওনারা দখল করে রেখে দিয়েছেন। বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫টি পার্ক নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে আমাদের ঠিকাদারদের বাধা দেওয়া হয়েছে। তারা কাজ করতে দিচ্ছে না। যেই পার্কগুলো কেউ দখল করে রেখেছেন, আপনারা ভালোই ভালোয় চলে যান, না হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো। পার্কের ডিজাইন যখন হয়েছে, পার্কের অর্থ বরাদ্দ যখন দিয়েছি এই পার্ক হবেই, এর কোনো বিকল্প নেই।

পার্ক রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে মেয়র বলেন, পার্কটা আমার না, আপনার না, এই পার্ক সকলের। এই পার্ক আমাদের। এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সকলের। পার্ককে মেইনটেইন করতে হবে। সেজন্য আমাদের একটি কমিটি করা আছে। যারা পার্কটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী তারা ওই কমিটির কাছে নিজেদের বিষয়গুলো উপস্থাপন করবেন সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে যে কোনো প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে।

রীভা গাঙ্গুলী দাশ বলেন, খুবই ভালো লাগছে পার্কটি দেখে। সব সময় এই রাস্তা দিয়ে যাই-আসি। এরকম এলাকায় একটি গ্রিন স্পেস হওয়াটা খুব দরকার। কোভিড-১৯ এর কারণে আমরা খুব কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। তবে কোভিড-১৯ আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য কাজ করতে হবে। সুস্বাস্থ্যের জন্য পার্ক খুবই দরকার। পার্ক থাকলে কেউ ঘরে বসে থাকবে না। পার্কে আসলে নিজেদের মধ্যে সম্পর্কটা বাড়ে। সবাই পারিবারিকভাবে উপভোগ করা যায়।

কি আছে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদ পার্কে:

প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য এবং নিজস্ব ইকোসিস্টেম অক্ষুন্ন রেখে সজ্জিত বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদ পার্কটি ঢাকা শহরের গুলশান এলাকার ফুসফুস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর কতগুলো কারণ ব্যাখা করলেই বোঝা যাবে।

প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক এই পার্ক দখলমুক্ত করে পুনসংস্কার করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তারই অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের ১৫ মার্চ পার্কের কাজ শুরু হয় আর শেষ হয় ২০২০ সালের ১৫ মার্চ। ৯ একর আয়তনের এই পার্ক স্থাপনে ব্যয় হয়েছে ১৬ কোটি। পার্কের ডিজাইনার হিসেবে ছিল ভিত্তি স্থপতিবৃন্দ। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেছে পিএফ করপোরেশন। বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কটি ঢাকা শহরের গুলশান এলাকায় অবস্থিত দূতাবাস এলাকা সংলগ্ন একটি কমিউনিটি পার্ক। এটি গুলশান ট্যাংক পার্ক নামেও পরিচিতি।

কি কি সুবিধা আছে:

পার্কের অভ্যন্তরে প্রায় ১ হাজার ৭০০টি গাছ রয়েছে। পার্কের ভেতর ৫ ধরনের হাঁটার পথ রয়েছে। লাল ইটের হাঁটার পথ, কনক্রিট ব্লকের হাঁটার পথ, সবুজ ঘাস সমৃদ্ধ হাঁটার পথ, ডব্লিউ পিসি (উড প্লাস্টিক কম্পোজিট) প্ল্যাংকের পথ এবং ইলাসটো পেভের বাইসাইকেল লেনের পথ। পার্ক ব্যবহারকারীদের জন্য টয়লেট (মহিলা এবং পুরুষ) গোসলখানাসহ জিমনেসিয়াম, ওযুখানাসহ নামাজের স্থান, কেন্টিন ও ৬টি বসার কিয়স্ক।

পার্কটিতে বঙ্গবন্ধু কর্নারসহ একটি লাইব্রেরি রয়েছে। এছাড়া ৩টি পুকুরঘাট রয়েছে। জলাধারের চারপাশে ৩টি দর্শক ডেক সমৃদ্ধ একটি হাঁটার পথ নির্মাণ করা হয়েছে। জলধারারের উত্তর পশ্চিমের ঢালে একত্রি ৪০০ মানুষের বসার সুবিধা সম্বলিত ঘাসে ঢাকা সবুজ মুক্তমঞ্চ (এমপিথিয়েটর) নির্মাণ করা হয়েছে।

এছাড়াও বাস্কেটবল গ্রাউন্ড ও ব্যাডমিন্টন কোর্ট রয়েছে। পার্কটিকে সুন্দরভাবে ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে সিসিটিভি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। যেখান থেকে পার্কটির প্রতিটি কর্নারে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পার্কটি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকতে পারে। সেই কন্ট্রোল রুমের পাশ দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে ৪ তলা উঠলেই ওপর থেকে পুরো পার্কের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন দর্শনার্থীরা। পার্কে চারটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। পার্কে জলাধারমুখী বসার বেঞ্চও চোখে পড়বে। ব্যবহারকারীগণের পানীয় জলের তৃষ্ণা নিবারণের জন্য পার্কের পূর্ব এবং পশ্চিম পাশে বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থাও রয়েছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin