জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ইভান শাহরিয়ার সোহাগ’কারাগারে’ গোয়েন্দা নজরদারীতে বরিশালের নৃত্য শিল্পীরা!

সিটি নিউজ ডেস্ক ॥ নাচের কথা বলে ২০ থেকে ২২ বছরের তরুণীদের দিয়ে হোটেলে ব্যবসা করাতো জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ইভান শাহরিয়ার সোহাগ। তার সাথে তার ঘনিস্টজনরা এবার গোয়েন্দা নজরদারীতে,বিশ্বস্থ সুত্রে জানা গেছে বরিশালের অনেক নৃত্য শিল্পী’র নাম নারী পাচাঁর চক্রের সাথে সম্পৃকততা বা সহযোগীতা থাকতে পারে এমনটাই ধারনা করছে প্রশাসন। কয়েকজন নৃত্য শিল্পী দেরকে করা নজরদারীতে রেখেছেন এমটাই গোয়েন্দা বিভাগের সুত্রের দাবী। বিশেষ করে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ইভান শাহরিয়ার সোহাগের সাথে অত্যান্ত ঘনিষ্ঠতা ছিলো কয়েকজনকে । সেই দিকে করা নজর সবার। প্রায় সময় অভিযোগ উঠে আসে যে কিছু লোক খারাপ উদ্দেশ্যে তরুণীদের বিদেশে পাঠানোয়। আর এই সকল অসাধু ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তরূণীদের নানা রকম প্রলভন দেখিয়ে থাকেন। এমনকি তরুণীদের লোভ দেখানো হয় যে বিদেশে গিয়ে অনেক অর্থ উপার্জ করতে পারবে।

এই সকল ফাঁদে পড়ে অনেক তরুণী বড় রকমের বিপদে পরে। তবে এবার দেশের এক পরিচিত মুখ যার নাম ইভান শাহরিয়ার তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ উঠে এসেছে। এমনকি তিনি তরুণীদের দিয়ে অবৈধ কাজ করাতেন বলে অভিযোগ উঠে এসেছে। দুবাইয়ে ড্যান্সবারের আড়ালে নারী পাচারের অভিযোগে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের একটি দল রাজধানীর নিকেতনের একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির অ্যাডিশনাল ডিআইজি শেখ রেজাউল হায়দার। তিনি বলেন, দুবাইয়ে ড্যান্সবারের আড়ালে নারী পা’চারের অভিযোগে সম্প্রতি আজম খানসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে উঠে আসে কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগের নাম।

সেই তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট তাকে গ্রেফতার করে। তিনি বলেন, শনিবার সকালেই তাকে আদালতে সোপর্দ করে অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে। অভিযানে অংশ নেয়া ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান জানান, গ্রেফতারকৃত চক্রটি দুবাইয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ থেকে নৃত্যশিল্পী নিয়ে যেতেন। পরে এদের মধ্য থেকে ২-১ জন করে রেখে আসতেন। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগ। এ বিষয়ে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তে এবং পূর্বে গ্রেফতার আসামিদের জবানবন্দিতে কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগের জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে। এখানে উল্লেখ্য যে, গত মাসে দুবাই পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে আজম খানসহ নারী পাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে সিআইডি। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই চক্রটি মূলত নৃত্যকেন্দ্রিক।

কয়েকজন নৃত্য সংগঠক ও শিল্পী এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। তারা দেশের বিভিন্ন নাচের ক্লাব বা সংগঠন থেকে মেয়েদের সংগ্রহ করে কাজ দেয়ার নামে দুবাই পাঠান। পরে দুবাইয়ের হোটেল ও ড্যান্সবারে তাদেরকে যৌনকর্মে বাধ্য করতেন। চক্রটির বাংলাদেশের মূলহোতা আজমসহ তার দুই সহযোগী ময়না ও মো. আলামিন হোসেন ওরফে ডায়মন্ডকে গ্রেফতারের পর সিআইডি জানায়, প্রথমে হোটেলে চাকরি দেয়ার কথা বলে ২০-২২ বছর বয়সী তরুণীদের প্রলুব্ধ করা হতো। বিশ্বস্ততা অর্জনের জন্য বেতন হিসেবে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধ করা হতো। শুধু তাই নয় দুবাইয়ে যাওয়া-আসা বাবদ সব ধরনের খরচও দিত দালাল চক্র। কিন্তু দুবাই যাওয়ার পরে তাদেরকে হোটেলে জিম্মি করা হয়, জোরপূর্বক দেহ ব্যবসাসহ ড্যান্সক্লাবে নাচতে বাধ্য করা হয়। গত আট বছরে এভাবে প্রলুব্ধ করে চাকরির নামে বাংলাদেশের শতাধিক তরুণী-কিশোরীকে দুবাইয়ে পা’চার করা হয়েছে।

তাদেরকে দিয়ে প্রস্টিটিউশনে জড়াতে বাধ্য করেছে আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্র। এদিকে, প্রায় সময় এমন অভিযোগ উঠে আসছে যে দেশ থেকে তরুণীদের নানা রকম প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নেওয়া হয় এবং সেখানে নিয়ে তাদের কে বিভিন্ন মূলক অবৈধ কাজে যুক্ত করা হয়। আর বিদেশে যাওয়ার পর এই সকল তরুণীদের আর কিছু করার থাকে না এ জন্য তারা বাধ্য হয়ে এই সকল অ’বৈধ কাজের সাথে যুক্ত হয়। আর এবার এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠে এসেছে যা নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin