উখিয়ার গহীন অরণ্যে অস্ত্র তৈরির কারখানা, আটক ২

সিটি নিউজ ডেস্ক:: কক্সবাজারের উখিয়ার গহীন অরণ্য, যেখানে ছিল হাতি, বাঘ ও ভাল্লুকসহ হিংস্র জীবজন্তুর অভয়ারণ্য, সেই মধুরছড়ার জঙ্গলে এখন তৈরি হচ্ছে মরণাস্ত্র। রোহিঙ্গা আসার আগে থেকেই সংঘবদ্ধ একটি চক্র ওই জঙ্গলে ভেজাল টাকা তৈরি, অপহরণ বাণিজ্য, ডাকাতির প্রস্তুতিসহ চাঁদাবাজি করে আসলেও এখন সেখানে তৈরি হচ্ছে দেশীয় তৈরি বন্দুক।

বিভিন্ন এলাকা থেকে চোর, ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের টাকার বিনিময়ে অস্ত্র লেনদেন হয়ে আসছিল। রোহিঙ্গা আসার পর ওই গভীর জঙ্গল লোকালয়ে পরিণত হলেও দেদারছে তৈরি হচ্ছে দেশীয় তৈরি বিভিন্ন প্রকার অস্ত্র।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৫ এর একটি চৌকস দল শুক্রবার দিবাগত রাতে ওঁত পেতে অবস্থান চিহ্নিত করে। ভোর রাতে র‌্যাব অভিযান শুরু করলে সেখানে অবস্থানকারী বেশ কিছু ডাকাতদল গোপন পথ দিয়ে পালাতে সক্ষম হলেও র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ে যায় অস্ত্র তৈরির দুইজন কারিগর। এরা হচ্ছে মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের মৌলভীকাটা গ্রামের মোখলেসুর রহমানের ছেলে আনোয়ার (৫০), অপরজন একই উপজেলার নতুনবাজারের মগরিকাটা গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মো. এখলাস (২৫)। তারা ইতিপূর্বে মহেশখালীর জঙ্গলে অস্ত্র তৈরি করে জেলেদের সরবরাহ করে আসছিল।

সম্প্রতি ডাকাতের একটি বিশাল দল অস্ত্রসহ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করার পর অস্ত্র ক্রেতা কমে যাওয়ার কারণে তারা কুতুপালং ক্যাম্পের পাশের জঙ্গলে এসে আশ্রয় নেয়। সেখানে বিভিন্ন প্রকার অস্ত্র, ছুরি, রাম দা ও বটিসহ মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র তৈরি করে রোহিঙ্গাদের সরবরাহ করে আসছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: আগৈলঝাড়ায় আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর সুস্থতা কামনায় দোয়া মোনাজাত

র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অস্ত্র তৈরির কারিগররা জানিয়েছেন আবু মুজিব (৫১) নামের এক ব্যক্তি অস্ত্র তৈরির জন্য তাদেরকে মহেশখালী থেকে নিয়ে এসে মধুরছড়া জঙ্গলে একটি টিনের ঘর নির্মাণ করে দেয়।

আটককৃত আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আস্তানার ভেতরে ও বাইরে আশপাশে তল্লাসি চালিয়ে তিনটি দেশীয় অস্ত্র, ২ রাউন্ড গুলি ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে শনিবার সকালে উখিয়া থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আহমেদ সঞ্জুর মোরশেদ জানান, আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এএএম

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin