জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের ট্যাক্সে আমাদের বেতন ও রেশন হয়,-বিএমপি কমিশনার

সিটি নিউজ ডেস্ক:: বিএমপি এয়ারপোর্ট থানাধীন আরজি কালিকাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় , চাঁদপাশা বরিশালে, সকাল সাড়ে দশ ঘটিকায় বিট পুলিশিং কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয় । উদ্বোধন করেন, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম-বার । বিএমপি পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম-বার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফেস্টুন-পায়রা উড়িয়ে, বিট পুলিশিং কার্যালয় উদ্বোধন শেষে বক্তব্যে এ কথা বলেন। তিনি বলেন,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই স্বাধীন দেশের পুলিশ কেমন হবে তার রুপকল্প তিনি রাজারবাগ,পুলিশ একাডেমি এবং পুলিশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্যে সব সময় বলতেন। পুলিশ এবং যে কোন রাষ্ট্রের কর্মচারী রাষ্ট্রের সেবক,জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের ট্যাক্সে তাদের বেতন ও রেশন হয়।

সুতরাং রাষ্ট্রের কর্মচারীর একমাত্র পরিচয় জনগনের সেবক এবং তিনি জনগণের নিকট সেবা পৌঁছে দিবে। তাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, “তোমরা স্বাধীন দেশের পুলিশ, তোমরা ব্রিটিশ পুলিশ নও, তোমরা জনগণের পুলিশ”। সেই জনগণের পুলিশ হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা, কৃষক -শ্রমিক, মেহনতী মানুষের আকাঙ্খা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল সমাজ ব্যবস্থা নির্মান সহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আইনমান্যকারী সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে একেকটি থানাকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এরিয়াতে ওয়ার্ড পর্যায়ে ভাগ করে জনবান্ধব পুলিশ এখন আপনার দোরগোড়ায়।পরীক্ষা করে দেখুন পুলিশ বদলে গেছে, আর বদলে গেছে বলেই জনগণকে পার্টনার বানিয়ে নির্ভেজাল, নিরপেক্ষ সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। পুলিশ একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান, জনগণের নিরাপত্তার চাহিদা নির্ভূল পূরণই হলো পুলিশের কাজ।নিরাপত্তা চাহিদা পূরণ না হলে, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা না থাকলে মৌলিক চাহিদা অপূর্ণ থেকে যায়।, সত্যিকারের আস্থাবান পুলিশিং সেবা প্রতিষ্ঠায়, আপনাদের সহযোগিতা এবং অংশগ্রহণ আমাদের সমৃদ্ধ করতে পারে।

পুলিশ একটি বিশেষ বাহিনী, যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার সেবা জনদরদী হয়ে কোন রকম উপনিবেশিক মনোভাব পরিহার করে, লাখো শহীদের রক্তের অর্জনে হাজার মানুষের স্বপ্নের এই বাংলাদেশে জনতার পুলিশ হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আমাদের অঙ্গিকার “মুজিব বর্ষের অঙ্গিকার, পুলিশ হবে জনতার ” সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি মহোদয় পুলিশকে যুগোপযোগী, আধুনিক ও জনতার পুলিশ প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা গ্রহন করেছেন। এছাড়াও জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নির্ভেজাল সেবা জনগণের নিকট পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে পুলিশের জনবল, সরঞ্জাম, ট্রেনিং ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পুলিশ যথেষ্ট আধুনিক হয়েছে, বর্তমান পুলিশ নিজেরা নিজেদের আত্মসমালোচনা করে জনগনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম প্রতিষ্ঠা করেছে।

জনগনের দোড়গোড়ায় পুলিশিং সেবা পৌছেঁ দিতে চার থানা এলাকাকে সাতানব্বই টি ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করে কমিউনিটি পুলিশিং এর পরিপূরক বিট পুলিশিং প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। একজন সাব ইন্সপেক্টর ও সহকারী পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে প্রত্যেক বিটের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রতিটি বিট পুলিশিং কার্যালয়ের বিট অফিসার আপনাদের সবচেয়ে কাছের মানুষ হয়ে যে-কোন সহযোগিতায় পাশে থাকবেন। বিট এলাকায় ভালো লোক, মন্দ লোক, ওয়ারেন্টধারী, দুষ্কৃতকারীদের তথ্য দিয়ে সমাজের সু শাসন, শৃঙ্খলা রক্ষায় সাধারণ মানুষের অংশীদারত্ব বিশেষ ভূমিকা রাখবে। আমরা থানায় প্রত্যেক মাসের নির্দিষ্ট তারিখে ওপেন হাউজ ডে করে থাকি, আমাদের উধ্বর্তন অফিসার সরাসরি আপনাদের অভিযোগ,অনুযোগ শুনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা গ্রহনকারী ও সেবা প্রদানকারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে পুলিশের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে সেগুলো সংশোধনের ব্যবস্থা তথা শাস্তির আওতায় এনে তা লিপিবদ্ধ করে পরবর্তী ওপেন হাউজ ডে’তে আলোচনা করা হয়। জনসম্পৃক্ততা নিয়ে অপরাধীর বিরুদ্ধে সত্যিকারের প্রতিরোধ গড়তে পারি; তাহলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের জনগণের পুলিশ হতে পারবো। কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষের ঘাম ঝড়ানো টাকায় আমরা বেতন রেশন সহ সকল সুবিধা ভোগ করে থাকি, সেই জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে, নিজেকে রাষ্ট্রের একজন কর্মচারী হিসেবে নিজেকে পরিপূর্ণ সেবক হিসেবে নিয়োজিত রেখে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে কোথাও কোনো পুলিশ অনিয়ম করছে কি-না তা জানতে বিভিন্ন অভিযোগ মাধ্যম সহ প্রতিটি থানায় প্রতিমাসে ওপেন হাউজ ডে, কমিউনিটি পুলিশিং এর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে । আপনাদের ফিডব্যাক পেলে আমরা আরও সমৃদ্ধ হবো।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin