পবিপ্রবি’র রেজিস্ট্রার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে গোপনে শর্ত পরিবর্তনের অভিযোগ!

সিটি নিউজ ডেস্ক :: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পেছনের তারিখে স্বাক্ষর করে স্মারক নম্বর ঠিক রেখে গোপনে শর্ত পরিবর্তন করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত ২৯ অক্টোবর শিক্ষকদের আপগ্রেডেশন ও রেজিস্ট্রার নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সরকার কর্তৃক প্রকাশিত গেজেট অনুসারে সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশের নিয়ম থাকলেও নিয়োগের শর্তাবলী পত্রিকায় প্রকাশ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে ২৯ অক্টোবর নিয়োগের শর্তাবলীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ।

পরে গত ৪ নভেম্বর পেছনের তারিখে (২৯ অক্টোবর) স্বাক্ষর করে ও স্মারক নম্বর ঠিক রেখে গোপনে নিয়োগের শর্ত পরিবর্তন করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রথমে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির ৮ নম্বর শর্তে “বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা অগ্রাধিকার পাবেন” এমন শর্ত রয়েছে। পরবর্তীতে এর ৭ দিন পর “অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট পদের জন্য নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা অভিজ্ঞতা ও বয়সের শর্তাবলীর যেকোনো একটি শিথিলযোগ্য” মর্মে একটি শর্ত সংযোজন করা হয়। বিজ্ঞপ্তির শর্ত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিয়মানুসারে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিধান থাকলেও তা না করে গোপনে পেছনের তারিখে স্বাক্ষর দিয়ে শর্ত পরিবর্তন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার। এদিকে সরকারী আইনের তোয়াক্কাও করছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

স্ব-শাসিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই রূপ চাকরি প্রবিধানমালা জারির বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারী গেজেট প্রকাশ করে সরকার। গেজেটে “কোন পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে এমন কোন বিষয় উল্লেখ করা যাবে না” মর্মে নির্দেশনা দেয়া হয়। তবে এই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রেজিস্ট্রার নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টির আভ্যন্তরীণ প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে পবিপ্রবি প্রশাসনিক সরকারি বিধি লংঘন। এদিকে সরকারি বিধি লঙ্ঘন ও গোপনে শর্ত পরিবর্তনের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত। গোপনে শর্ত পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে তেমন সমস্যার কিছু নেই। ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে আমরা এমনটা করে থাকি। তবে সরকারের বিজ্ঞাপন নীতিমালা অনুসরণ না করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি। সরকারের নির্দেশনা অমান্য করার বিষয়ে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারের নির্দেশনা হুবহু মানা হয়না। আমরা রিজেন্ট বোর্ডের ফলো করি।” তবে রিজেন্ট বোর্ডের সরকারী নির্দেশনা অমান্যের সুযোগ আছে কিনা এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেননি তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকদের প্রভাবশালী একটি অংশ জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের ছেলে ও প্রো-ভিসি প্রফেসর মোহাম্মদ আলীর মেয়েকে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দিতে ও তাদের পছন্দের একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে রেজিস্ট্রার পদে বসাতে যোগসাজশে নিজেদের মতো আইনের ব্যাখ্যা করে এসব অনিয়ম করছেন তারা। শিক্ষকদের ওই অংশটি আরও দাবি করেন, এ ব্যাপারে হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য কিছুই জানেন না । তিনি জানলে এমন অনিয়ম হতে দেবেন না বলেও বিশ্বাস করেন তারা। এদিকে রেজিস্ট্রারের অনিয়মের পক্ষে প্রো-ভিসির সাফাই গাওয়ায় শিক্ষকদের করা দাবির সত্যতা পাওয়া গেছে। রেজিস্ট্রার ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের করা অনিয়মের বিষয়ে প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, টাইপিং এর সময় ভুল হয়েছিল।

এজন্য পরে সেটি ঠিক করে দেয়া হয়েছে। তবে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ছাড়া এভাবে শর্ত পরিবর্তন অথবা সংযোজন করা যায় কিনা এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান তিনি। এসব অনিয়মের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় পটুয়াখালীর উপ-পরিচালক মো. ওয়াজেদ আলী গাজী পুরো নিয়োগ-প্রক্রিয়ার বিষয়টি শুনে বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে পবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশীদের মোবাইলে কল দেয়া হলে ভাইস-চ্যান্সেলর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা ফোন রিসিভ করে বলেন, “বোর্ড চলছে ভেতরে। স্যার এখন কথা বলতে পারবেন না। এজন্য উপাচার্যের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নি।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin