বরিশাল শেবাচিমের রোগ শনাক্তের অনেক যন্ত্রপাতি বিকল অবস্থায়

সিটি নিউজ ডেস্ক:: বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলবাসীর নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রোগ শনাক্তের যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ায় সুযোগ সন্ধানীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে হাসপাতালে। আর এতে করে চরম আর্থিক সঙ্কটসহ ভোগান্তিতে পরেছেন সাধারণ রোগীরা। জানা গেছে, রোগীদের চিকিৎসা সেবার সহায়ক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সরকার কর্তৃক প্রতিনিয়ত আধুনিক মেশিনারিজ দেয়া হয়ে থাকে দক্ষিণাঞ্চলের সর্বাধুনিক ও সর্ববৃহত শেবাচিম হাসপাতালে। তবে এসব যন্ত্রপাতি যতই ব্যয়বহুল হোক না কেন, কিছুদিনের মধ্যেই রহস্যজনক কারণে সেগুলো বিকল হয়ে পড়ছে।

যা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একেবারেই বিপরীত। বর্তমানে হাসপাতালে থাকা সিটিস্ক্যান, এমআরআই, ল্যাসিক মেশিন নষ্ট থাকায় এগুলোর সেবা পাচ্ছে না রোগীরা। আবার ক্যান্সার রোগীদের জন্য কোবাল্ট-৬০ মেশিন, এনজিও গ্রাম মেশিন, দুই তৃতীয়াংশ এক্স-রে মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনও বিকল থাকায় হাসপাতাল থেকে কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। পাশাপাশি নির্ধারিত সময় ও নির্ধারিত সংখ্যা থাকাতেও হাসপাতালে পরীক্ষা করাতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে রোগীদের। এর বাইরে জনবলসহ নানান সঙ্কটের কারণে মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষাও বন্ধ থাকে হাসপাতালে। ফলে বাধ্য হয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শে সেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রতিনিয়ত করাতে হচ্ছে হাসপাতালের সামনে থাকা ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট স্টাফদের তথ্যানুযায়ী, হাসপাতালের প্যাথলজিসহ পরীক্ষা নিরীক্ষার গোটা বিভাগ চলে প্রভাবে। যেখানে প্রভাব খাটিয়ে কেউ কেউ বছরের পর বছর ধরে ডেপুটেশনে অন্যত্র থাকছেন। আবার কেউ প্রভাব খাটিয়ে যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও এই বিভাগে আসছেন। আবার যারা একটু দক্ষ পদে রয়েছেন, তাদের বেশিরভাগই বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।এরমধ্যে কেউ মালিকানায় কিংবা কর্মে জড়িত রয়েছেন। আর তাদের কারণেই হাসপাতালের কতিপয় চিকিৎসকদের সঙ্গে সক্ষতা গড়ে উঠেছে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সঙ্গে। আর্থিকসহ নানানভাবে সুবিধা দিয়ে সেসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুকূলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর জন্য রোগীদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন কতিপয় চিকিৎসকেরা। আর এ সুবিধার কারণেই গত কয়েক বছরে হাসপাতালের সামনে একে একে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালনার দায়িত্ব থাকা স্টাফদের দেয়া তথ্যানুযায়ী, হাসপাতাল থেকে এক রোগীকে বাহিরে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আনতে শুধু চিকিৎসকদের নয়, ওয়ার্ডবয়, আয়া, ট্রলিম্যানসহ সবাইকে আর্থিক সুবিধা দিতে হয়।

আবার অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টার হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে তাদের প্রতিনিধিও নিযুক্ত রাখেন। হাসপাতালের কতিপয় চিকিৎসকদের কমিশন বাণিজ্যের প্রতিবাদ করায় সৃষ্ট বিরোধের জের ধরে অতিসম্প্রতি টানা তিনদিন কর্মবিরতী পালন করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বলেন, কমিশন বাণিজ্য নিয়ে মিড-লেভেলের চিকিৎসকদের সঙ্গে ইন্টার্নদের আগেও মনোমালিন্যের ঘটনা ঘটেছিল। তারা বলেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে যে আর্থিক সুবিধা আসে তা অভ্যন্তরীণভাবে ওপেন-সিক্রেট ব্যাপার। বছরের পর বছর ধরে এ ধরনের সুবিধা চলে আসছে। সাবেক ইন্টার্নদের তথ্যানুযায়ী হাসপাতালের সবচেয়ে বেশি আর্থিক সুবিধা আসে অর্থোপেডিক্স ও মেডিসিন ইউনিট থেকে। হাসপাতালের চিকিৎসকদের দাবি, কমিশন বাণিজ্য বলতে কোন বিষয় নেই। তারা বলেন, বেশিরভাগ ওয়ার্ডেই রোগীদের যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেয়া হয়ে থাকে, তা চিকিৎসকরা কোন নির্ধারিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে মার্ক করে দেয় না। তবে একটি ভাল মানের ডায়াগনস্টিক সেন্টার দিয়ে পরীক্ষা করানোর কথাটি বলা হয়ে থাকতে পারে। এ ব্যাপারে সরাসরি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি হাসপাতাল প্রশাসন।

তবে গত ২২ অক্টোবর ডাঃ মাসুদ খানের বিচার ও কমিশন বাণিজ্য বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপি দেয়ার সময় ইন্টার্নদের নানান অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ বাকির হোসেন নিউজজিকে বলেন, কমিশন বাণিজ্যের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। তবে ভুক্তভোগী একাধিক রোগীর স্বজনরা জানান, রোগীদের নির্ধারিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাওয়ার জন্য কতিপয় চিকিৎসক মৌখিকভাবে চাপ প্রয়োগ করে থাকেন। এ ব্যাপারে আউটডোর ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডাঃ সৌরভ সুতার নিউজজিকে বলেন, নির্ধারিত কোন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাওয়ার জন্য রোগীদের চিকিৎসকরা বাধ্য করেন না। কেউ করে থাকলে সেটা ওই চিকিৎসকের ব্যক্তিগত বিষয়। হাসপাতালের ভেতরের মেশিন নষ্ট থাকাসহ নানান কারণে রোগীরাই বাহির থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাচ্ছেন।সুত্র, বরিশাল সংবাদ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin