খোকনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: মেয়র তাপস

সিটি নিউজ ডেস্ক:: দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

সোমবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানী কমলাপুর টিটিপাড়া সায়েদাবাদ গোপীবাগসহ বিভিন্ন এলাকার বক্স কালভার্টের ময়লা ও বর্জ্য অপসারণ কাজ পরিদর্শন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মেয়র বলেন, রোববার (১০ জানুয়ারি) জাতির জনক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ছিলো। এর আগে ৯ জানুয়ারি আমরা লক্ষ্য করলাম যে তিনি ঘটা করে একটা সভা ডেকে আমার বিরুদ্ধে বিষেদাগার করলেন। আমার মনে হয় এটি ওনার ব্যক্তিগত আক্রোসের একটি বহিঃপ্রকাশ।

আমরা গত ১৭ মে থেকে দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছি, সে কার্যক্রম চলমান আছে। আপনারা লক্ষ্য করেছেন, মার্কেট সংক্রান্ত কিছু তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সেখানে বিভিন্নভাবে টাকা লেনদেন হয়েছে, যাদের সঙ্গে টাকা লেনদেন হয়েছে তারাই অভিযোগ এনেছেন। সেখানে ব্যবসায়ী হিসেবে অবৈধ দোকানগুলো যাদের দখলে ছিলো তারা অর্থ লেনদেন করেছেন। এখন তিনি পুরো দোষ আমার ওপরে চাপানোর চেষ্টা করছেন, আমি মনে করি এটা অনভিপ্রেত। শুধু আক্রোশের বশবর্তী হয়ে তিনি এ বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন।

অপর এর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই তিনি মাননহানীকর বক্তব্য তিনি দিয়েছেন। আমি অবাক হয়েছি তার বক্তব্য শুনে, তিনি নিজেকে দূর্নীতিবাজ হিসেবে স্বীকার করেছেন আর আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। সুতরাং আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে এটা মানহানীকর হয়েছে, ব্যবস্থা অবশ্যই নিবো। আর মানহানীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেতো আইনী ব্যবস্থাই নিতে হবে।

এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেয়র বলেন, ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে আমরা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার অধীনে যেসব খাল, বক্স কালভার্ট সেগুলো হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ জানুয়ারি থেকে আমাদের খালগুলো পরিষ্কার করাসহ কালভার্টগুলো থেকে বর্জ্য অপসারণ শুরু করেছি।

সোমবার ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার মানিকনগর থেকে গোপীবাগ, টিটিপাড়া এসব এলাকা আমরা পরিদর্শনে এসেছি এবং আপনারা লক্ষ্য করেছেন কি অবস্থা বিরাজমান। আগে আমাদের যে ধ্যন-ধারণা ছিলো, বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে দীর্ঘদিন ধরে কোনো কাজই হয়নি। সব জায়গায় শুধু বদ্ধ-স্তুপ বর্জ্যই না বদ্ধ মাটি জমে গেছে। এটি বিশাল একটা কর্মযজ্ঞ, তারপরেও আমরা একটা পরিকল্পনা নেবো, জানুয়ারিতে শুরু করেছি যাতে আগামী মার্চ মাসের মধ্যে পানি নিষ্কাশনের কিছু ব্যবস্থা করা যায়। সেই লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। আশা করছি, আগামী বর্ষা মৌসুমে ঢাকাবাসীকে কিছু হলেও সুফল দিতে পারবো।

মেয়র বলেন, এর আগে বিভিন্ন ধারণা দেওয়া হলেও আসলে সত্যিকার অর্থেই এখানে গত কয়েকবছর ধরে কোনো কাজ করা হয়নি। বক্স কালভার্টগুলো, খালগুলো পরিষ্কার করা হয়নি। যার কারণে দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত সমস্যা ব্যপক আকার ধারণ করেছে। সুতরাং আমাদের এখনকার যে কাজটা সেটা অত্যন্ত জটিল, অতন্ত দূরুহ। তারপরেও আমরা শুরু করেছি। এটা যদি সফলভাবে করতে পারি ভবিষ্যতে আমাদের কাজগুলো আরও শৃঙ্খলার মধ্যে আসবে ব্যবস্থাপনার মধ্যে আসবে। তখন আমরা সুফলগুলো ঢাকাবাসীকে দিতে পারবো।

এখন যে পরিস্থিতিতে আছে, তাতে আমি অবাক যে জলাবদ্ধতা আরও বেশি হওয়ার কথা। তারপরেও যে আমরা টিকে আছি, এটাই অবাক। এখানে পানি প্রবাহের কোনো ব্যবস্থাই নেই, পুরোটাই বদ্ধ।

জাতির প্রশ্ন, ঢাকাবাসীরও প্রশ্ন এতোদিন কেন কাজ হয়নি। বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, প্রকল্প নির্ভর কাজ হয়েছে কিন্তু সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin