করোনা কালিন দীর্ঘ ৯ মাস বিরতির পর বিএমপি পুলিশের মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত

সিটি নিউজ ডেস্ক:: করোনা কালিন দীর্ঘ ৯ মাস বিরতির পর বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আজ (২৮জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় পুলিশ লাইন্স মাঠে এ মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। সহকারী কমিশনার (ফোর্স) মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বাধীন মাস্টার প্যারেডে সভাপতিত্ব করেন বিএমপি কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান (বিপিএম-বার)। এ সময় তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস এর প্রাদুর্ভাব এড়াতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে নিয়মিত পিটি প্যারেড অনুশীলন চলমান থাকলেও দীর্ঘদিন পরে আমরা মাষ্টার প্যারেড গ্রাউন্ডে একত্রিত হয়েছি। উল্লেখ্য নিয়মিত পিটি প্যারেড অনুষ্ঠিত হলেও মহামারী করোনার কারণে গত বছর ৮ মার্চ বিএমপিতে মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সভাপতির বক্তব্যে বিএমপি কমিশনার বলেন, শৃঙ্খলা আমাদের শক্তি, আমরা বাংলাদেশ পুলিশের একেকজন এম্বাসেডর, কারো ভুলের জন্য সমগ্র বাহিনীকে যেন কলুষিত হতে না হয়।

মাষ্টার প্যারেড শৃঙ্খলার একটা অংশ, আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় বা স্ট্যান্ডার্ড নষ্ট হয় এমন আচরণ থেকে বিরত থাকতে আরও শৃঙ্খলা বাড়াতে নিজেদের স্মার্ট পুলিশ হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত প্যারেড অনুশীলন এর বিকল্প নেই। এ সময় পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, নিজেদের স্মার্ট পুলিশ হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত প্যারেড অনুশীলনের বিকল্প নেই। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ অন্যায়ের বিপক্ষে দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে কয়েক ধাপ এগিয়ে আছে। এই অবস্থা ধরে রাখতে হবে। কমিশনার আরও বলেন, নিজেদের সুরক্ষিত রেখে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন, জননিরাপত্তা ছাড়াও অসহায়দের খাদ্যসহায়তা, লকডাউন এলাকায় পাহাড়া, কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের নজরদারি, রোগীকে হাসপাতালে আনা, মৃতদের গোসল, দাফন ও সৎকারে গিয়ে আমরা সংক্রমিত হয়ে এ মহামারীতে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মূল্যবোধ সম্পন্ন মানবিক পুলিশ হিসেবে মানবিক ভাবমর্যাদা ও আস্থা তৈরি করার মাধ্যমে সর্বপ্রথম যে মানবিক চিত্র তুলে ধরেছি, তা থেকে পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

দুর্যোগ চলে গেলেও তা ধরে রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশ পুলিশের একেকজন এম্বাসেডর তথা ইউনিফর্মড বাহিনী, কোন একজনের ভুলের জন্য সমগ্র বাহিনীকে কলুষিত হতে হয়। সুতরাং, মানবাধিকার সমুন্নত রেখে যথাযথ নিয়মে জনগণকে বুঝের মাধ্যমে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে, কোন প্রকার নিষ্ঠুরতার চিত্র যেন উঠে না আসে, সেবিষয়ে সতর্ক থেকে কাজ করতে হবে। মানবিক মানচিত্র প্রতিষ্ঠায়, কর্তব্যপালনে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার প্রায় ৯০ জন করোনা আক্রান্ত সদস্য আত্মাহুতি দিয়ে আমাদের উৎসাহ উদ্দীপনা যুগিয়েছে, সেই সকল সম্মুখ যোদ্ধাদের রুহের মাগফেরাত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান কমিশনার। মাস্টার প্যারেডে উপকমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্, উপকমিশনার মো. মোকতার হোসেন, উপকমিশনার জাকির হোসেন মজুমদার, উপকমিশনার মো. খাইরুল আলম, উপকমিশনার খাঁন মুহাম্মদ আবু নাসের, উপকমিশনার মো. মনজুর রহমান, অতিরিক্ত উপকমিশনার রুনা লায়লা এবং অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. ফজলুল করীম সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।সুত্র, ই-নিউজ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin