প্রেমের ফাঁদে শারীরিক সম্পর্ক, অন্তঃসত্ত্বা তরুণী

সিটি নিউজ ডেস্ক: প্রেম ফাঁদে ফেলে তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন প্রেমিক। এক পর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তরুণী। এখন বিয়ে করতে রাজি না প্রেমিক। অবৈধ গর্ভপাত করতে দেওয়া হচ্ছে হুমকি। এই হুমকি এবং ‘কলঙ্কের’ ভয়ে বাড়িছাড়া তরুণীর পরিবার। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের পল্লীতে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে এখন পর্যন্ত ওই পরিবারের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই তরুণীর বাড়িটি তালাবদ্ধ। প্রতিবেশীরাও তাদের কোনো সন্ধান জানেন না। স্থানীয় ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কালাম বলেন, গত ২৬ জানুয়ারি মেয়েটি আমাকে মোবাইলে কল দিয়ে জানায়, ‘মেম্বার সাব আমার পাশের বাড়ির আখলুল মিয়ার ছেলে জামিল মিয়া প্রেমের ফাঁদে ফেলে আমাকে নষ্ট করেছে। আমি এখন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। হাসপাতালে আইছিলাম (এসেছিলাম) সন্তান নষ্ট করতে কিন্তু ডাক্তাররা রাজি হননি।’ এরপর মেয়েটি ফোন কেটে দেয়।

ইউপি সদস্য জানান, আমি শুনেছি মেয়েটির পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে চলে গেছে। কোথায় গেছে আমি জানি না।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের নারিকেলতলা গ্রামের আখলুছ মিয়ার ছেলে টমটমচালক জামিল মিয়া প্রতিবেশী তরুণীর সঙ্গে প্রেমের ফাঁদে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এতে তরুণী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এখন ওই অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে বিয়ে করতে রাজি না হয়ে বাচ্চা নষ্ট করাতে হুমকি দিচ্ছেন জামিল। এর পর গত ২৬ জানুয়ারি উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যান ওই তরুণী। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক অবৈধভাবে গর্ভপাত করতে রাজি হননি। পরদিন থেকে ওই তরুণীসহ পরিবারকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে অভিযুক্ত জামিল মিয়াও পলাতক আছেন।

এ বিষয়ে জামিল মিয়ার বাবা আখলুছ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ চেষ্টা করে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স জোৎসনা বলেন, ‘মেয়েটি এসেছিল হাসপাতালে। অবৈধভাবে গর্ভপাত বেআইনি বলায় তারা চলে গেছেন।’

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। থানায় কেউ অভিযোগও করেনি। খোঁজ নিয়ে দেখব।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin