৬৪টি পৌরসভায় ভোট কাল

সিটি নিউজ ডেস্ক:: তৃণমূলে আবার ভোটের আয়োজন। প্রথম ধাপে ২৪ এবং দ্বিতীয় ধাপে ৬০টির পর এবার ৬৪টি পৌরসভায় ভোট শুরুর অপেক্ষা।

শনিবার সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত ভোট চলবে এসব এলাকায়।

আগের দুই দফার মধ্যে প্রথমবার ২৪টি পৌরসভার সবগুলোতে ইভিএমে, দ্বিতীয় দফায় ৬০ পৌরসভায় প্রায় অর্ধেকে ইভিএমে ভোট হলেও এবার সবগুলোতে ভোট হবে ব্যালটে।

বিতর্ক এড়াতে এবারও কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে ভোরে। গত ১৬ জানুয়ারি যেসব পৌরসভায় ব্যালটে ভোট নেয়া হয়, সেগুলোতেও একইভাবে ভোরে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়।

ভোটের আগের দিন শুক্রবার কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট বাক্স, সিল, অমোচনীয় কালি পাঠানো হয়।

এ ধাপে মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরসহ মোট প্রার্থীর সংখ্যা তিন হাজার ৫৫০ জন।

এদের মধ্যে মেয়র প্রার্থী ২৫৭ জন। সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৭৭২ জনের এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রার্থী দুই হাজার ৫২১ জন।

প্রথম দফায় পৌর নির্বাচনে ৬৫ শতাংশ ও দ্বিতীয় ধাপে ৬২ শতাংশ ভোট পড়েছে। দুই দফায় ভোট হয়েছে মোট ৮৪ পৌরসভায়। এর মধ্যে বেশিরভাগ এলাকাতেই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হলেও কিছু এলাকায় ভোট নিয়ে অভিযোগও উঠে।

তবে বহুদিন পর কেন্দ্রে ভোটার ফেরাই ছিল পৌরসভা নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। অবশ্য এর মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভোটে আবার ভোটের নিম্নহার নিয়ে তৈরি হয়েছে সমালোচনা।

এর তিন দিন পর আবার তৃণমূলের এই ভোট বেশ কিছু প্রশ্নের জবাব দিতে পারে।

নির্বাচনি সরঞ্জাম
৬৪ পৌরসভায় শুক্রবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে ব্যালট ছাড়া অন্য সব নির্বাচনি সরঞ্জাম।

আগের দুই ধাপের তুলনায় তৃতীয়ধাপে প্রচার চলাকালে সহিংসতা ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষ করে সংঘর্ষ-সহিংসতায় বারবার নাম এসেছে বরগুনার। সদর পৌরসভার পাশাপাশি পাথরঘাটাতে ভোট হচ্ছে সেখানে।

এখন পর্যন্ত সহিংসতার যতগুলো ঘটনা ঘটেছে, তার সবগুলোই হয়েছে আওয়ামী লীগ ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে। অবশ্য মৌলভীবাজার পৌরসভায় ভোটের আগের দিন সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির প্রার্থী ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন পরিবেশ না থাকার কথা বলে।

বরিশালে ভোট হচ্ছে গৌরনদী ও মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভায়। সেখানে নির্বাচনে দায়িত্বরতদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা নুরুল আলম বলেন, ‘ব্যালট পেপারের অধিকতর নিরাপত্তার জন্য সকালে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছানো হবে।’

পাবনায় ভোট হবে কেবল সদর পৌরসভায়।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা কাওছার মোহাম্মদ বলেন, ‘সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের জন্য নেয়া হয়েছে সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ছয় প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এর বাইরে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার সদস্য কেন্দ্রে কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন।

এ ছাড়া থাকছে স্ট্রাইকিং ফোর্স। এক জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন।

এই পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা এক লাখ ১২ হাজার ২৪৪ জন। মেয়র পদে লড়ছেন পাঁচ জন, কাউন্সিলর পদে ৭৪ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৭ জন।

নির্বাচনি সরঞ্জাম কেন্দ্রে
কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নির্বাচনি সরঞ্জাম কেন্দ্রে পাঠায় নির্বাচন কমিশন। ছবিটি ফেনী থেকে তোলা।

ভোলায় ভোট হচ্ছে দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন পৌরসভায়। দুই পৌরসভার ১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে আটটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।

দুই পৌরসভায় পাঁচ জন মেয়র প্রার্থী, ১৫ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী ও ৬১ জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী আছেন।

জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা আলাউদ্দিন আল মামুন বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। চার স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

দুই পৌরসভায় মোতায়েন থাকছে ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, দুই প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাবের ছয়টি সেকশন। দুই জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও স্টাইকিং ফোর্সও দায়িত্ব পালন করবেন।

চুয়াডাঙ্গায় ভোট হচ্ছে দর্শনা পৌরসভায়। শুক্রবার বিকেল থেকে নির্বাচনি এলাকার ৯টি ওয়ার্ডের ১৬টি কেন্দ্রে পাঠানো হয় ব্যালট ছাড়া ভোটের সরঞ্জাম।

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে স্ব স্ব ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এসব নির্বাচনি সরঞ্জাম বুঝে নেন।

৯টি ওয়ার্ডে ১৬টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা তারেক আহমেমদ।

ভোটের নিরাপত্তায় মহড়া দিতে থাকছে তিন প্লাটুন বিজিবি ও দুই প্লাটুন র‌্যাব।সুত্র,নিউজ বাংলা

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin