বরিশালে বহিষ্কৃত নেতা গঠন করছেন আ’লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি!

সিটি নিউজ ডেস্ক: মাদক সম্পৃক্ততার অভিযোগে আওয়ামী লীগ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার হওয়া জগলুল মোর্শেদ প্রিন্স এর কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়েছেন ২৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার না হলেও তিনি ওই ওয়ার্ডে একক আধিপত্যে কমিটি গঠনের পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ ত্যাগী নেতাদের।

এমনকি ওয়ার্ডের অযোগ্য, নিষ্ক্রিয়, মাদকাসক্ত এবং হাইব্রিড নেতাদের আওয়ামী লীগের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রস্তাবিত কমিটির একটি তালিকও মহানগরের কাছে জমা দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি অভিযুক্ত জগলুল মোর্শেদ প্রিন্স।

যদিও তার দেয়া ওই তালিকা মহানগর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানাগেছে। পাশাপাশি পদ প্রত্যাশীদের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অবদান এবং জীবনবৃত্তান্তসহ নতুন তালিকা জমা দিতে বলেছেন ২৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগকে।

জানাগেছে, ‘বরিশাল মহানগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জগলুল মোর্শেদ প্রিন্স এর বিরুদ্ধে পূর্বে থেকেই মাদক সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। সেই বিতর্কের মধ্যেই তাকে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

এদিকে, কমিটির পদ পাওয়ার পরে গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি নগরীর দক্ষিণ আলেকান্দা মেডিকেল কলেজ লেনের একটি স্টিল ফার্নিচার কারখানা থেকে ৩১ পিস ইয়াবাসহ ধরা পড়েন জগলুল হয়দার প্রিন্স। ওইসময় তার আরও দুই সহযোগীকে আটক করে পুলিশ।

এ ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ১ মার্চ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় জগলুল হায়দার প্রিন্সকে। বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত বরখাস্তের আদেশে উল্লেখ করা হয়, ‘সংগঠন বিরোধী কর্মকা-ে লিপ্ত থাকায় এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় জগলুল হায়দার প্রিন্সকে দলীয় পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হল।

পাশাপাশি বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক ও দলীয় সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয় ওই আদেশে। এক বছর পূর্বে দেয়া তার বহিষ্কার আদেশ এখনো বহাল রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ.কে.এম জাহাঙ্গীর।

অপরদিকে, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ‘মহানগরীর অন্যান্য ওয়ার্ডের ন্যায় ২৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরু করেছে মহানগর আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার চার ফেব্রুয়ারি ওই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন সংক্রান্ত সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন যেকোন সময় ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেছেন প্রিন্স এর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না হলেও তিনি এককভাবে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে তোড়জোড় শুরু করেছেন। এমনকি সম্প্রতি তিনি তার মন:পুত একটি খসড়া কমিটি’র তালিকাও মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তরে জমা দিয়েছেন। যেখানে স্থানীয় বিড়ি শ্রমিক, মাদকের সাথে সম্পৃক্ত এবং আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ফলে প্রিন্সের এ কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে জগলুল হায়দার প্রিন্স এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে যান। তাছাড়া তার বরখাস্তের আদেশে প্রত্যাহারসহ কমিটি প্রসঙ্গে কিছু জানতে হলে মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

অপরদিকে, ২৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মেজবাহউল বারী নওরোজ মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার আমাদের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটির বিষয়ে সভা হয়েছে। সেখানে মহানগর নেতৃবৃন্দের কাছে প্রিন্স এর বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার হয়েছে কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন রেখেছিলাম। তারা এ বিষয়ে আমাকে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানায়নি। তবে প্রিন্সকে বহিষ্কারের বিষয়ে ইতিপূর্বে আমাকে মহানগর থেকে কোন চিঠি দেয়নি। যে কারণে সে আসলেই বহিষ্কৃত হয়েছে কিনা সে বিষয়টিও আমি নিশ্চিত নই।

কমিটি গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গত ৩১ জানুয়ারি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির একটি খসড়া তালিকা মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তরে জমা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটি আবার ফেরত পাঠানো হয়েছে। তালিকার সাথে পদ প্রত্যাশী নেতাদের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অবদান, রাজনৈতিক কর্মকা- এবং জীবনবৃত্তান্ত নতুন করে জমা দিতে বলেছেন। সে অনুযায়ী আমরা নতুন করে তালিকা এবং কমিটি পুনর্গঠন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।

তবে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এ.কে.এম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘প্রিন্সকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তার বহিষ্কারাদেশ এখনও বহাল রয়েছে। তবে সাময়িকভাবে বহিষ্কার মানে এই নয় যে তিনি দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না হলেও তিনি রাজনৈতিক এবং দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র: বিএসএল নিউজ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin