আজ বানারীপাড়া ও মুলাদী পৌরসভা নির্বাচন

স্বতন্ত্র প্রার্থী মিন্টুর অভিযোগ, আমি গৃহবন্দি

সিটি নিউজ ডেস্ক ॥ বিএনপি ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর ঘোর অভিযোগের মধ্য নিয়ে আজ অনুষ্ঠিত হবে বরিশাল বানারীপাড়া পৌরসভা নির্বাচন। বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ তারা প্রচারনায় দু একটি জায়গায় বাঁধা প্রদান ও ভয়ভীতি আর আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর অভিযোগ প্রচার প্রচারনায় বাঁধা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নিজ বাস ভবনে এক ধরনের জিম্মি করে রাখা হয়েছে।এক কথায় তাদের দাবী সুষ্ঠু ভোটের কোন সম্ভাবনাই নেই এ নির্বাচনে।

উভয় প্রার্থীর এমন অভিযোগের তীর আওয়ামীলীগ সমর্থীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও তার দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এমনই অভিযোগ করেছেন বানারীপাড়ার আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কৃত সাবেক বানারীপাড়া উপজেলা আওয়াম লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল হক মিন্টুর। তার অভিযোগ মার্কা পাবার পর থেকে তার নেতাকর্মীদের মাঠে নামতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি তার স্ত্রীকেও অশ্লীল গালিগালাজ করা হয়েছে। তার বাসার গেটে লাথি মারা হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে মিণ্টু বলেন, তিনি সঙ্কিত যে, তার এজেন্টদের কেন্দ্রে থাকতে দেওয়া হবে কি না। তবে এত কিছুর পরেও শেষ পর্যন্ত ভোটে মাঠে থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জিয়াউল হক মিন্টু।


এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীলের দাবী নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত এমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি যে এ ধরনের অভিযোগ উঠতৈ পারে? তাদের অভিযোগ নির্বাচনী কৌশলগত কারণে এ অপপ্রচার চলছে। প্রায় একই কথা জানিয়েছেন নির্বাচনে রিটানিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করা বরিশাল জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার। তার বক্তব্য শতভাগ সুষ্ঠু ভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সব ধরনের অরাজকতা কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলেও হুশিয়ারী উচ্চারন করেছেন এই কর্মকর্তা। গতকাল সরেজমিনে একাধিক মেয়র প্রার্থী, রিটানিং কর্মকর্তা ও সাধারন ভোটারদের সাথে কথা হয় পরিবর্তনের টিমের সাথে। এদিকে আজ একই সময়ে বরিশালের অপর এক পৌরসভা মূলাদীতেও ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে।


শেষ সময়ে ভোট গ্রহনের মাত্র ২০ ঘন্টা পূর্বে আ’লীগের মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রচার প্রচারনায় বাঁধা দেওয়া ও ভয়ভীতি দেখানোসহ এক ধরনের জিম্মিদশার অভিযোগ তুলেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জিয়াউল হক মিন্টু। তবে আশ্চর্য হলেও সত্যি তার চেয়ে অভিযোগের পাল্লা কিছুটা কম ভারী বিএনপি প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিন আহমেদের। তার অভিযোগ দুএকটি স্থানে শুধু নির্বাচনী প্রচারনায় বাঁধা সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী পরিবেশ আপাতত দৃষ্টিতে সুন্দর রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।


তবে অভিযোগের ফুলঝড়ি ছড়াচ্ছেন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জিয়াউল হক মিন্টু। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি আওয়ামীলীগের প্রার্থীর পাশাপাশি অভিযোগ তোলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন প্রতীক পাওয়ার দিন থেকেই তিনি ও তার কর্মীরা প্রচারনা চালাতে পারছেন না। রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক এমনকি নির্বাচন কমিশন বরাবরে অন্তত ২ ডজন অভিযোগ করেও কোন ধরনের প্রতিকার পাননি তিনি। রাতে তার পোষ্টার ছিড়ে ফেলা হচ্ছে,বাসার গেটে এসে পিটানো হচ্ছে রাতের আধারে করা হচ্ছে গালমন্দ। তার ভাষায় এক ধরনের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে তাকে। তিনি আরো বলেন যতজন ভোটার রয়েছে তার চেয়ে বেশী বহিরাগত বাহির থেকে পৌর শহরে প্রবেশ করিয়েছে আওয়ামীলীগ। যার নের্র্তৃত্ব দিচ্ছে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মাওলাদ হোসেন সানা। তিনি নিজেও একজন বহিরাগত। নির্বাচনের কয়েকদিন আগে যিনি শহরের ২ নং ওয়ার্ডে একটি ভাড়া বাড়িতে উঠেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাওলাদ হোসেন সানা বলেন, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ। এধরনের অভিযোগের কোন সত্যতা নেই। আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কার হওয়ার পর জিয়াউল হক মিন্টু আবোলতাবোল বকছেন।

এদিকে বিএনপি প্রার্থী উপজেলা সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘ভোটের মাঠ এখনও ভালো আছে। তবে বহিরাগতদের আনাগোনা চলছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ধানের শীষের বিজয় হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল বলেন, করার খাতিরে করতে হয় তাই এসব অভিযোগ। মূলত বানারিপাড়া পৌর নির্বাচনে এখন পর্যন্ত এমন কোন ঘটনা ঘটেনি যেখানে কেউ অভিযোগ তুলতে পারে। পুরো নির্বাচনী মাঠে শুরু থেকে শান্তিপূর্ন পরিবেশ বিরাজ করছে। তিনি বলেন বানারীপাড়ার মানুষ শান্তিপ্রিয় মানুষ। এখানে দেশের অনেক জ্ঞানীগুনীর জন্ম। বানারীপাড়ার মানুষ একমাত্র আওয়ামীলীগের কাছেই নিরাপদ। তাই তারা আওয়ামীলীগকেই ভোট দেবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা যদি প্রতিটি কেন্দ্রে এজেন্ট দিয়ে থাকে তাহলে তাহলে তাদের থাকতে সব ধরনের সহযোগীতা করবে আওয়ামীলীগ।


প্রার্থীদের অভিযোগ ও নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশের বিষয়ে জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার মোঃ নুরে আলম বলেন যেসব প্রার্থী লিখিত অভিযোগ করেছের সব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। কোন প্রার্থীকেই বাড়তি সুবিদা দেওয়া হচ্ছে না। তিনি আরো কঠোর নিরাপত্তায় ও রেকর্ড সংখ্যক অঅইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। তাই সব ধরনের বিশৃঙ্খলতা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
উল্লেখ্য বানারীপাড়া পৌরসভায় তিন মেয়র প্রার্থী ছাড়াও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৮ ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৯ হাজার ১২৭ জন। আজ রোববার এখানে ভোট হবে ব্যালটে।


মূলাদীঃ বরিশালের মুলাদী পৌরসভায় ১০ বছর ধরে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আওয়ামী লীগের শফিকুজ্জামান রুবেল। এবারের নির্বাচনেও দলের প্রার্থী তিনি। তবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী দিদারুল আহসান খানের দাবি আগের মেয়র কোনো উন্নয়নই করেননি। উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক দিদারুল বলেন, আগের মেয়র পৌরসভায় নানা উন্নয়ন করেছেন বলে থাকলেও আসলে সব মিথ্যা। রাস্তা ভাঙাচোরাসহ কোনো উন্নয়নই হয়নি এখানে। তিনি আরও বলেন, এখানকার মানুষ আমাকে খুব ভালোবাসে। তাদের ভালোবাসার ভোটেই আমি জয়ী হব। আমি নির্বাচিত হলে মুলাদীবাসীর কষ্ট লাঘবে সর্বদা কাজ করব।

বিদ্রোহী প্রার্থীর অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী শফিকুজ্জামান রুবেল। তিনি বলেন, ‘গত ১০ বছরে মুলাদী পৌরসভার অনেক উন্নয়ন করা হয়েছে। উন্নয়ন না হলে এ পৌরসভা প্রথম শ্রেণির হতো না। তিনি দাবি করেন, প্রচার আর উঠান বৈঠকে নৌকার জোয়ার বইছে। সাধারণ মানুষ নৌকাকেই সমর্থন করছে। নৌকার বিজয় নিয়ে তিনি শতভাগ আশাবাদী। দলের প্রার্থীকে না মেনে ভোটে দাঁড়ানোয় স্বতন্ত্র প্রার্থী দিদারুল আহসান খান ও তার নয় সঙ্গীকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। তারপরও ভোট থেকে না সরার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

এ পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী দলের পৌর সাধারণ সম্পাদক আল মামুন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হয়েছেন মঞ্জুরুল ইসলাম। ভোটে সহিংসতার আশঙ্কা করেছেন বিএনপির প্রার্থীও। তিনি বলেন, ‘নৌকা বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছ থেকে আমাদের ওপর চাপ না থাকলেও তারা নিজেরাই ঝগড়াঝাটি করছেন। আওয়ামী লীগ দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাওয়ায় সহিংসতা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। মেয়র ছাড়া মুলাদী পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২২ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে আট জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এ পৌরসভায় ভোটারের সংখ্যা ১৭ হাজার ৫৬১ জন। এ পৌরসভায় ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin