আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত

সিটি নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে কেন্দ্র করে একদিনের জন্য বরিশালে কর্মবিরতি স্থগিত করেছে আন্দোরনরত বাস শ্রমিকরা।

শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে নগরের রুপাতলীস্থ বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক ও শ্রমিক সমিতির নেতারা বৈঠক শেষে কর্মবিরতি স্থগিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিকেল সাড়ে ৫ টায় বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নিলেও শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে পারেনি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় বাস মালিক ও শ্রমিক নেতারা সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে ২১ ফেব্রুয়ারির জন্য কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষাণা দিলে বরিশাল-পটুয়াখালী, বরিশাল-ঝালকাঠি-পিরোজপুর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন বলেন, শুক্রবার রাতে হঠাৎ করেই পুলিশ তাদের দুইজন শ্রমিকদের ধরে নিয়ে যায়। কিন্তু কি কারণে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তা তারা তখন জানতে পারেন নি। পরে জানতে পারেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু ওই দুই শ্রমিক নিরাপরাধ। বাস মালিক কিংবা শ্রমিক কেউই সন্ত্রাসে বিশ্বাসী নয়, তারা শ্রমের মাধ্যমে মানুষের সেবা দিয়ে উপার্জন করেন। কারা হামলা চালিয়েছে তা পুলিশ খতিয়ে দেখবে এবং তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।

তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে রুপাতলী বাস টার্মিনালে শ্রমিকরা কর্মবিরতিতে যায় এবং সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যার পরে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক শেষে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কারণে কর্মবিরতির কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করা হয়। ফলে শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২ টা ১ মিনিট থেকে রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২ টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি স্থগিত থাকবে।

তিনি বলেন, আমরা নিরাপরাধ শ্রমিক দুইজনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছি নয়তো সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে পুনরায় কর্মবিরতিতে যাবে শ্রমিকরা। এছাড়া পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে ওই বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সামনের সড়কে শিক্ষার্থীদের কথায় কথায় বেরিকেড বন্ধ, মালিক-শ্রমিকদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া গ্রেফতার না করা, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ বেশি কয়েকটি দাবি জানিয়েছি। দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মালিক ও শ্রমিকরা।

এদিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মোকতার হোসেন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সড়ক অবরোধ রেখে কর্মবিরতির পথ থেকে সরে আসার কথা জানিয়েছে। এছাড়া তারা বেশ কয়েকটি দাবি তুলেছেন। যার মধ্যে গ্রেফতারদের মুক্তি দেওয়া, ভবিষ্যতে কোন শ্রমিককে গ্রেফতার না করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামেন বাসে আগুন দেওয়া ও কাউন্টার ভাংচুরের ঘটনায় মামলা নেওয়ার বিষয়গুলো রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা সবকিছু আইনি কাঠামোতে থেকে কাজ করবো। যারা আইন ভঙ্গ করবে তাদের জন্য আইন প্রয়োগ করবো।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin