ফায়ার ফাইটাররা চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেনি বকটিকে

সিটি নিউজ ডেস্ক: বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র বিবির পুকুরের পাশেই বৃক্ষরাজি জুড়ে সাদা বক ও পানকৌড়ি চোখ জুড়িয়ে যায়।

আছে চড়াই, শালিখসহ আরো বেশ কিছু পাখির বাস। পুরো জায়গাটা জুড়ে পাখির অভয়ারণ্য সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যায় এই পাখিদের ঝাঁক থেকে একটি পাখি হঠাৎ একটি বড় বৃক্ষে একটি সাদা বকের গলায় পেঁচিয়ে ঘুড়ির সুতা।

এ দৃশ্যটি দেখে স্থানীয় সাংবাদকর্মীরা ফায়ার ফাইটারদের খবর দেয়।

খবর পেয়ে তারা ছুটে এসেছে কিন্তু ফায়ার ফাইটারদের কোনও বড় লেডার না থাকায় উঁচু গাছ থেকে বকটি নামাতে ২০-২৫ ফুটের বাঁশ ব্যবহার করা হয়। যখন বকটিকে নামানো হয়, তখন বকটি জীবন্মৃত।

ফায়ার ফাইটার নাসির দ্রুত বকটিকে মুখ দিয়ে কৃত্তিম শ্বাস দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করে।

বেশ কয়েকবার শ্বাস দিলেও আস্তে আস্তে পাখিটির চোখ বুজে এল। পাঁচজন ফায়ার ফাইটারের আপ্রাণ চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে অবশেষে পাখিটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো। বৃহস্পতিবার রাত ১০ টা থেকে এক ঘণ্টার চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেলো।

ফায়ার ফাইটার ও দল নেতা, সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. হাসান আলী বলেন, আজ যদি একটি বড় লেডার পাওয়া যেতো তাহলে পাখিটিকে বাঁচানো যেতো। একটি বড় লেডার সাধারণ দেড়শো ফুটের মতো হয়।

তবে ফায়ার ফাইটারদের এই প্রচেষ্টা মনে রাখার মতো। উপস্থিত অনেকেই বলেছেন, একটি পাখি বাঁচাতে সম্মিলিত এই প্রচেষ্টা মনে করিয়ে দেয়, পাখির প্রতি ভালবাসা।

হাজার হাজার পাখির কলরবে বিবির পুকুরের পূর্ব পাড় একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।

এই এলাকাটিকে পাখিদের অভয়াণ্য হিসেবে সংরক্ষণ করা জরুরি।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin