প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর ভাংচুর: ইউপি সদস্যসহ গ্রেফতার-৫

সিটি নিউজ ডেস্ক ॥ অবশেষে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখারে মুজিববর্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ঘরের পিলারগুলো ভাঙ্গার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি দীপু দত্তের নেতৃত্বে ও পরিকল্পনায় কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক নির্মানাধীন ১২ ঘরের ওই ৩২ পিলার ভেঙেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত নির্মাণ কাজের সাব ঠিকাদার রাম প্রসাদ মন্ডল ও স্থানীয় ইউপি সদস্য দিপু দত্তসহ ৫ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। জিঙ্গাসাবাদে তারা পিলার ভাঙার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।


পুলিশ জানায়, নারীঘটিত ঘটনায় এক শ্রমিককে মারধর করায় স্থানীয় যুবক সুমন কাজীকে শায়েস্তা করতে এ নাশকতা করেছেন নির্মাণ শ্রমিকরা। পুরো ঘটনার পরিকল্পনায় ছিলেন চাখার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি
সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি দীপু দত্ত।সোমবার বিকালে বরিশালের পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন তার কার্যালয়ে ব্রিফিং করে বলেন, বানারীপাড়ায় একদল দুবৃর্ত্ত প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প- ২ এর নির্মাণাধীন ঘরের ৩২টি পিলার ও ১ ঘরের দেয়ালের আংশিক ভেঙে ফেলেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা পিলার ও দেয়াল ভাঙার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় রোববার অভিযান চালিয়ে চাখার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য দীপু দত্ত (৪৭), আশ্রয়ণ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের সাব-ঠিকাদার রাম প্রসাদ মন্ডল (৩৩), নির্মাণ শ্রমিক সর্দার ইমরান সিকদার (২৭), শ্রমিক মো. সাদিক শেখ (৩২) ও মো. মিশকাত মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার (০১ মার্চ) বিকেলে বানারীপাড়া থানা পুলিশ তাদেরকে বরিশাল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে। এসময় আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক শারমিন সুলতানা সুমি ওই ৫ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


পুলিশ জানায়, রাম প্রসাদ মন্ডল ও ইমরান সিকদার পুরো ঘটনার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। তারা জানান, নির্মাণ কাজের শ্রমিকদের রান্নার জন্য নিযুক্ত এক নারীর সঙ্গে প্রধান রাজমিস্ত্রী এমদাদের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দুইদিন আগে রাতে স্থানীয় যুবক সুমন কাজী একটি বাগানের মধ্যে ওই নারীসহ এমদাদকে হাতেনাতে আটক ও মারধর করেন। এসময় সেখানে উপস্থিত হন ইউপি সদস্য দীপু দত্ত। তার সঙ্গেও উগ্র আচরণ করেন সুমন কাজী। এছাড়া গৃহ নির্মান কাজের মান নিম্ন মানের হওয়ায় সুমন কাজী এর প্রতিবাদ করেন। এসব কারণে সুমনকে শায়েস্তা করতে নির্মাণাধীন বাড়ির পিলার ভেঙে তাকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন ইউপি দীপু দত্ত। তার পরিকল্পনায় সাব ঠিকাদার রাম প্রসাদ মন্ডলের নির্দেশে ২১ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে ৩২টি পিলার ও একটি ঘরের দেয়ালের আংশিক ভেঙে ফেলেন গ্রেপ্তার তিন শ্রমিক।

এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়।
পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন জানান, বানারীপাড়া থানার পাশাপাশি পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) তদন্ত করে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে।উল্লেখ্য, বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নের সাকরাল গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ২ একর খাসজমির ওপর ৬৫টি বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে ঘুম থেকে উঠে শ্রমিকরা ১২টি ঘরের ৩২টি পিলার ভাঙা দেখতে পান বলে দাবি করেন। এ ঘটনায় সাকরাল গ্রামের যুবক সুমন কাজীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও তিন-চার জনকে আসামি করে ২২ ফেব্রুয়ারি বানারীপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন চাখার ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. বাদশা মিয়া। সুমন কাজী সোমবার আদালতে হাজির হয়ে জামিনের প্রার্থণা করলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন।
এদিকে সোমবার বেলা ১১ টায় বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার চাখারের সাকরাল গ্রামে আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শণ করেন। এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর এ প্রকল্পের নির্মানাধীন ঘরের পিলার ও দেয়াল ভাঙ্গার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin