‘এল্লার আয়ে এল্লা চলি’

সিটি নিউজ ডেস্ক: সন্ধ্যার পর ছোট্ট একটি লাল বালতি নিয়েই বরিশালের লঞ্চঘাটে নোঙর করা লঞ্চের সামনেই বসে পড়েন তিনি। সেখানে ডিম বিক্রি চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। লঞ্চ বন্দর ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে তিনিও চলে যান বাসায়।

তিনি একাই থাকেন বাসায়। স্ত্রী মারা গেছেন ৯ বছর আগে। এক মেয়ে ছিল, তাকে ঢাকায় বিয়ে দেয়ার পর তিনি একা হয়ে পড়েন।

তার নাম জালাল হাওলাদার। ৭০ বছরের মানুষটিকে ডিম দাদু বলেই চেনেন অনেকে। বরিশালের লঞ্চঘাটে ছয় বছর ধরে ডিম বিক্রি করছেন তিনি।

আগে তিনি পান বিক্রি করতেন। উচ্ছেদের কবলে পড়ে ডিম বিক্রি শুরু করেন। বলেন, ‘নগরীর টাউন স্কুলের সামনে বাসা মোর। পানের দোহান আছিল আগে। হেয়া সিটি করপোরেশন উচ্ছেদ কইরা হালানের পর দিয়াই ডিম বেচি। সন্ধ্যা হইতে ৯টা তামাইত ৮০ হইতে ৯০ ডা ডিম বেচি।’

এই বৃদ্ধ বয়সে একা একা থাকা কিংবা ডিম বিক্রির আয়ে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকা নিয়ে তার কোনো খেদ নেই। তিনি বলেন, ‘হেয়া দিয়া মুই ভালোই আছি। লাভ হিসাব হরলে ডেইলি ২৫০-৩৫০ টাহা থাহে মোর। মুই তো এল্লা মানুষ। বউ মরছে, মাইয়াও বিয়া দিছি। হেতো খরচ নাই। এল্লার আয়ে এল্লা চলি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এহানে আমার হাঁসের ডিম কেনা পড়ে ১৩ টাহা। আর বেচি ২০ টাহা। তয় দুইটা কেনলে ৩৫ টাহায় বেচি। ফার্মের ডিম কিনি সাড়ে ৭ টাহায়। বেচি ১০ টাহা। আর দেশিডা কেনা পড়ে ১০ টাহা, বেচি ১৫ টাহায়। দুই রহম ডিম বেচি। কেউ ফুল সিদ্ধ চায় আবার কেউ হাফ সিদ্ধ। যে যে রহম চায় আর কী।’

লঞ্চঘাটের এই ডিম দাদুর বিষয়ে কথা হয় লঞ্চঘাটের চানাচুর বিক্রেতা মো. হারুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘অনেকেই আয় এহানে ওনার ধার দিয়া ডিম খাইতে। এহানের লঞ্চের স্টাফরাও হের ধার দিয়াই ডিম খায়। ওনারে সবাই ডিম দাদু কয়। মোর পাশে বইয়াই বেশির ভাগ সময় ব্যবসা করে। নিরিবিলি মানুষ, কোনো ঝামেলায় নাই।’

ঢাকা বরিশাল রুটের অ্যাডভেঞ্চার ৯ লঞ্চের স্টাফ মাহাবুব শাওন বলেন, ‘জালাল দাদু, মানে ডিম দাদু। অনেক সময় আমাদের লঞ্চের সামনে বসেই ব্যবসা করেন। তার কাছ থেকে শুধু আমরা না, নগরীর অনেক জায়গা থেকেই ডিম খেতে আসেন। শান্ত মানুষ হওয়ায় এখানে সবাই তাকে বেশ পছন্দ করে।’

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin