আটকের পর ইয়াবা দিয়ে নির্যাতন : ২৪ ঘণ্টায় প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ

সিটি নিউজ ডেস্ক: বরিশালে আটকের পর হাতে ইয়াবা দিয়ে মারফ শিকদার (২০) নামে এক যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার।

বুধবার (১০ মার্চ) সকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের বরিশালের বিভাগীয় প্রধান অতিরিক্ত পরিচালক পরিতোষ কুমার কুন্ডুকে এ নির্দেশ দেয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন পরিতোষ কুমার কুন্ড

সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও’তে দেখা যায়, বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদফতরের পরিদর্শক আব্দুল মালেক তালুকদার নিজ কার্যালয়ে মারুফ সিকদার নামে এক যুবককে লাঠি দিয়ে বেধরক পেটাচ্ছিলেন।

এসময় মারুফের হাতে হাতকড়া ছিল। মারুফ চিৎকার ও আর্তনাদ করছিলেন। ছেড়ে দেয়ার আকুতি জানাচ্ছিলেন পরিদর্শক আব্দুল মালেকের কাছে।

তবে এতে কাজ হয়নি। একপর্যায়ে পরিদর্শক মালেক তার পা দিয়ে মারুফের মাথা মেঝেতে চেপে ধরে মারধর করেন।

এ সময় মারুফ পানি পান করতে চাইলেও পানি না দিয়ে তাকে গালাগাল করা হয়। একটা সময় খুলে দেয়া হয় হাতকড়া। এরপর যুবকের হাতে ৫ পিস ইয়াবা দিয়ে নেয়া হয় স্বীকারোক্তি।


খোজ নিয়ে জানা গেছে, ভুক্তভোগী যুবক মারুফ বরিশাল নগরীর কাউনিয়া বিসিক রোডের বেগের বাড়ির এলাকার বাদশা সিকদারের ছেলে ।

গত ২২ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে পরিদর্শক আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে মারুফকে নগরীর কাউনিয়া বিসিক রোড থেকে আটক করা হয়।

পরে মারুফের কাছ থেকে ৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার দেখিয়ে ওই রাতেই নগরীর কাউনিয়া থানায় একটি মামলা করেন পরিদর্শক আব্দুল মালেক।

মারুফের স্বজনরা জানান, ২২ সেপ্টেম্বর রাতে মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদফতর থেকে ফোন দিয়ে জানানো হয় মারুফকে ইয়াবা সহ আটক করা হয়েছে।

এরপর মারুফের পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরে মারুফের বিরুদ্ধে মাদক মামলা দিয়ে কাউনিয়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

ওই মামলায় ১৭ দিন কারাগারে ছিলেন মারুফ। পরে জামিনে থেকে মুক্ত হলেও পরবর্তীতে হয়রানির আশংকায় নির্যাতনের বিষয়টি গোপন রাখেন মারুফ ও তার পরিবারের সদস্যরা।

তবে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদফতরের পরিদর্শক আব্দুল মালেক তালুকদার বলেন, মারুফ সিকদার কাউনিয়া এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

আর তাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ সত্য নয়। তার শরীর তল্লাশী করে ইয়াবা পাওয়া গিয়েছিল। তার সঙ্গে মাদক কেনাবেচায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি-না তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তবে নির্যাতন করা হয়নি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদফতরের বরিশালের বিভাগীয় প্রধান অতিরিক্ত পরিচালক পরিতোষ কুমার কুন্ডু জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরিদর্শক আব্দুল মালেক তালুকদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করছি ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঘটনার প্রতিবেদন প্রধান কার্যালয় পাঠাতে পারবো।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin