লঞ্চডুবিতে ৫ নারীর লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ ২১

মালবাহী কার্গোর ধাক্কায় নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি থেকে এখনও পর্যন্ত ৫ নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিস। লঞ্চটিতে থাকা ৪৬ জন যাত্রীর ২০ জন দুর্ঘটনার সময় সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২১ জন নিখোঁজ আছেন। নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লা্হ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তাৎক্ষণিক মৃতদেহগুলোর নাম-পরিচয় জানা যায়নি। উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় ডুবে যাওয়া লঞ্চটির অবস্থান খুঁজে পেয়ে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। মৃত ও নিখোঁজদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে আছে শীতলক্ষ্যার দুই পাড়।

রবিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের মদনগঞ্জ এলাকায় নির্মাণাধীন তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এমভি ‘রাবিতা আল হাসান’ নামে লঞ্চটি নারায়ণগঞ্জ থেকে সন্ধ্যা ৬ টার দিকে মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

দিপু নামের লঞ্চটি থেকে জীবিত ফেরা এক যাত্রী বলেন, তিনি তার মাকে মুন্সীগঞ্জে দিয়ে আসতে লঞ্চে করে যাচ্ছিলেন। লঞ্চটি নির্মাণাধীন শীতলক্ষ্যা সেতুর কাছাকাছি যাওয়ার পর পেছন থেকে একটি কার্গো জাহাজ লঞ্চ বরাবর দ্রুত গতিতে আসতে থাকে। ওই সময় লঞ্চের পেছনে থাকা যাত্রীরা হাত নেড়ে লঞ্চ বরাবর না এসে পাশ দিয়ে যেতে ইশারা করেন। কিন্তু কার্গো থেকে লঞ্চটিকে সরে যেতে বলা হয়। এরপরই মুহূর্তের মধ্যে কার্গো জাহাজটি লঞ্চের পেছনে এসে সজোরা ধাক্কা দিলে সেটি ভেঙে ডুবে যায়।

এদিকে এই দুর্ঘটনাটি তদন্তে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক। তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে বিআইডব্লিউটিএ, পুলিশ ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে নিয়ে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে, চার সদস্যের পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, যাত্রীদের মধ্যে যারা সাঁতরে পাড়ে উঠতে পেরেছেন তাদের স্থানীয় লোকজন ও প্রশাসনের সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। লাশ বহন ও দাফন কাজের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।

লঞ্চটিতে উঠা যাত্রীদের স্বজনেরা এরই মাঝে নদীর দুই পাড়ে এসে ভীড় করছেন। তাদের মাঝে চলছে শোকের মাতম। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের হাতে লাশ বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin