‘ক্ষোভের আগুনে’ আবারও মারা পড়ল বাবুই ছানা

পিরোজপুরের ভবনীপুরে যার বিরুদ্ধে পাখির ছানা হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তিনি স্থানীয় কৃষক হেমায়েত হোসেন মোল্লা। তার দাবি, তিনি হত্যা করেননি। তবে তার ছোট ভাই কিছু পাখির বাসা নষ্ট করেছে। তিনি তাকে গালমন্দ করেছেন।

ক্ষেতের ধান খাওয়ায় এবার পিরোজপুরে দেড় শতাধিক বাবুই পাখির ছানাকে পানিতে ফেলে ও বাঁশ দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।

ইন্দুরকানী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে শনিবার সন্ধ্যার এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে ঝালকাঠির নলছিটিতে ক্ষেতের ধান খাওয়ায় অর্ধশতাধিক বাবুই পাখিকে পুড়িয়ে মারা হয়। যাকে ঘৃণ্য কাজ বলে অভিহিত করেন স্থানীয় জুলহাস মল্লিকসহ আরও অনেকে।

যিনি তাল গাছে বাবুই পাখির বাসায় আগুন দেন তার নাম জালাল সিকদার। কৃষক সিকদার বলেন, সিদ্দিক মার্কেটের সামনের তাল গাছে থাকা বাবুই পাখির বাসায় তিনি বাঁশের মাধ্যমে আগুন দেন।

আগুনে বাবুইয়ের ১১টি বাসা পুড়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ৩৩টি মৃত ছানা পাওয়া গেছে। তবে পুড়ে যাওয়া আরও কিছু পাখির হদিস পাওয়া যায়নি।

পিরোজপুরের ভবনীপুরে যার বিরুদ্ধে পাখির ছানা হত্যার অভিযোগ উঠেছে তিনি স্থানীয় কৃষক হেমায়েত হোসেন মোল্লা। তার দাবি, তিনি হত্যা করেননি। তবে তার ছোট ভাই কিছু পাখির বাসা নষ্ট করেছে। তিনি তাকে গালমন্দ করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের একটি জমিতে বোরো ধান আবাদ করেন হেমায়েতসহ কয়েকজন কৃষক। বাবুই পাখি ধান খেয়ে ফেলায় ক্ষুব্ধ হন হেমায়েত। তার নির্দেশে জমির পাশের দুটি তালগাছে থাকা বাবুই পা‌খির বাসা ভেঙে দেয় ছোট ভাই লুৎফর রহমানসহ তিনজন।

এ সময় বাঁশ দিয়ে আঘাত করে ও খালের পানিতে ফেলে ছানা হত্যা করে তারা।

স্থানীয় মারুফুল আজিজ বলেন, ‘প্রায় দেড় শতাধিক বাবুই ছানা হত্যা করা হয়েছে। মাটিতে দুই থেকে চারটি জী‌বিত পড়েছিল। কাছে গেলেই খাবারের জন্য মুখ হা করতে দেখা গেছে ছানাগুলোকে।’

অভিযুক্ত কৃষক হেমায়েত জানান, ‘গেল কয়েক দিন ধরেই পাখি ধান নষ্ট করছে। এতে ক্ষিপ্ত হয় আমার ছোট ভাই কিছু বাসা ভেঙেছে। আমি এ খবর শুনে তাকে গালমন্দ করেছি। আমি পাখির ছানা হত্যা করিনি।’

আরও পড়ুন: অমানবিক

সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য নিগার সুলতানা জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। বাসা ভাঙায় কিছু ছানা মারা পড়েছে। ঘটনাস্থলে রোববার যাবেন।’

উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক একরামুল শিকদার বলেন, ‘জমির মালিক গত দুই থেকে তিনদিন ধরে ওই পাখির ছানা ও বাসা নষ্ট করছে। এমন খবর শুনে শনিবার বিকেলে আমরা কয়েকজন সেখানে গিয়েছিলাম। জানতে পেরেছি তিন থেকে চারজনে মিলে পাখির বাসাগুলো ভেঙে ফেলছে।’

ইন্দুরকানী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা হরিস চন্দ্র বোস বলেন, ‘কোনো অভিযোগ পাইনি। বাবুই একটি বিলুপ্ত প্রজাতির পাখি। প্রাকৃতিক বৈচিত্র রক্ষায় এর রক্ষণাবেক্ষণ করা আমাদের সবারই কর্তব্য। এদের হত্যা করা একটি অমানবিক কাজ। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।’

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin