শেবাচিমের জনবল নিয়োগ ইস্যুতে তদন্ত কমিটি গঠনের সুপারিশ

সিটি নিউজ ডেস্ক: শেবাচিম হাসপাতালে সদ্য জনবল নিয়োগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের সুপারিশ করেছেন হাসপাতাল স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও পাবর্ত্য চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষন কমিটির সভাপতি (মন্ত্রী) আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি। গত ৩ মার্চ এক চিঠির মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে নিয়োগে অনিয়ম দূর্নীতি হয়েছে এমন সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি তদন্ত কমিটি গঠনের অনুরোধ জানান। বিস্ময়কর খবর হচ্ছে নিয়োগের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন। স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালককে চিঠির অনুলিপি প্রদান করা হয়। তবে করোনা পরিস্থিতি ও মন্ত্রনালয়ের সচিব বদলীজনিত কারনে এখনো তদন্ত কমিটি গঠনকরতে সক্ষম হয়নি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব (পার-২) বেগম শাহিনা খাতুন বলেন সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তদন্ত গঠিত হয়নি বলে মনে হচ্ছে। প্রায় একই কথা জানিয়েছেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর একান্ত সহকারী খাইরুল বাসার। তিনি বলেন পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি আমাদের কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে। এখন প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ হয়েছে কিনা তা পরিস্কার হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তাই তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই সে প্রক্রিয়া শুরু হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রীর কাছে প্রেরিত চিঠিতে আবুল হাসানাত আবদুল্লা’হ চিঠিটি তুলে ধরা হলো।

প্রিয় সহকর্মী,২০২০ সালের ২৫ ডিসেম্বর শেবাচিম হাসপাতালের জন্য জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারী লিখিত পরীক্ষা গ্রহন করা হয় এবং ৬ ফেব্রুয়ারী লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ১৪ ফেব্রুয়ারী মৌখিক পরীক্ষা গ্রহন শুরু করা হয়। এর মধ্যে হাইকোর্টের আদেশে মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও ২৭ ফেব্রুয়ারী পুনরায় মৌখিক পরীক্ষা গ্রহন করা হয় এবং একই দিনে তড়িঘড়ি করে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগ পত্র প্রদান করা হয়। অত্যন্ত দুখের সাথে জানাচ্ছি আমি হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কিন্তু আমার সাথে পরামর্শ ব্যাতিরেকে হাসপাতালে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। যা আমার বোধগম্য নয়। তাছাড়া হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ বাকির হোসেন যেহেতু ২৭ মার্চ অবসরে যাবেন তাই এ নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়ম সংঘঠিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পুরো বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। তাই একটি তদন্ত কমিটি করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

জানতে চাইলে খাইরুল বাসার বলেন চিঠি প্রেরন করা হয়েছে দেড় মাস অতিক্রম করেছে। কিন্তু যতদুর জানি এখনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। তিনি বলেন চলমান করোনা ও লকডাউন পরিস্থিতি ও সার্বিক বিবেচনায় এটা বেশী সময় নয়। কিছু দিন আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে নতুন সচিব যোগদান করেছেন তার সাথে যোগাযোগ করে তদন্ত কমিটি গঠন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য বিজ্ঞপ্তিতে ৩২ জন জনবল নিয়োগের কথা থাকলেও বিভিন্ন পদে অযোগ্যতা দেখিয়ে মোট ২৬ জন কে নিয়োগ প্রদান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি অনিয়মের মধ্য দিয়ে শেষ করা হয়। যার প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক ডাঃ বাকির হোসেন। বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে নিয়োগ দেওয়া ২৬ জনের মধ্যে ১১ জনই ছিলো পরিচালকের প্রার্থী। এদের মধ্যে কয়েকজন তার নিকট আত্মীয়। এছাড়াও হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুর রাজ্জাকেরও ঘনিষ্ট কয়েকজন রয়েছে। জন প্রতি ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা নিয়ে নিয়োগ প্রদান করার অভিযোগ রয়েছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin