মাকে সুস্থ করে করোনা আক্রান্ত হলেন পিঠে সিলিন্ডার বহনকারী সেই যুবক

সিটি নিউজ ডেস্ক: করোনায় আক্রান্ত মায়ের সুস্থতার জন্য নিজের পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে মুখে সেই অক্সিজেনের মাস্ক পরিয়ে মোটরসাইকেলে করে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা সেই ছেলেটি এখন করোনা পজিটিভ।

ছয় দিন চিকিৎসার পর মা সুস্থ হলে বিজয়ীর বেশে সেই মোটরসাইকেলেই শুক্রবার সকালে মাকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন জিয়াউল হাসান টিটু। মায়ের সেবা করতে গিয়ে ছয় দিন হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে পড়েছিলেন জিয়াউল হাসান টিটু।

রাতে করোনা ওয়ার্ডের কেবিনের মেঝেতে ঘুমাতে হয়েছিল তাকে। করোনা ওয়ার্ডে থাকার কারণে এবং মায়ের সেবা করায় টিটু করোনা আক্রান্ত হয়। মা রেহেনা পারভীন, ছেলে জিয়াউল হাসান টিটু ও ছোটভাই রাকিব হাসান ইভান শনিবার সকালে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে অ্যান্টিজেন টেস্ট করান। মায়ের ও ছোট ভাইয়ের প্রতিবেদন নেগেটিভ আসলেও টিটু করোনা পজিটিভ। 

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মুনীবুর রহমান জুয়েল ফোন করে টিটুকে এ খবর জানান। টিটু বলেন, আমার শরীরে করোনার কোনো উপসর্গ নেই। কোনো সমস্যাও নেই। সুস্থই আছি, অক্সিজেন স্যাচুরেশনও ভালো। আমি সবার কাছে দোয়া চাই। 

টিটু আরও বলেন, যতই বিপদ আসুক না কেন, আমার মা ও ছোটভাই সুস্থ আছে, এতেই আমার আনন্দ। 

জানা যায়, গত ১৭ থেকে ২২ এপ্রিল ছয় দিন ধরে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের কেবিনে চিকিৎসাধীন মায়ের সার্বক্ষণিক সেবাযত্ন করেছেন জিয়াউল হাসান টিটু ও তার ছোটভাই রাকিব হাসান ইভান। ঝুঁকি আছে জেনেও তারা মায়ের সুস্থতার জন্য সেখানেই অবস্থান নেন। এমনকি এ কাজে তাদের থামাতে পারেননি চিকিৎসক, নার্স ও স্বজনরা। 

ঝালকাঠি সদরের কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা জিয়াউল হাসান টিটু বলেন, শনিবার সকালে মা ও ছোটভাইকে নিয়ে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাই। সেখানে মাকে অ্যান্টিজেন কিট দিয়ে ফলোআপ টেস্ট করানো হয়। এরপর আমরা দুই ভাইও টেস্ট করাই। দুজনের ফলাফল নেগেটিভ এলেও আমার পজিটিভ এসেছে। 

টিটুর মা স্কুলশিক্ষিকা রেহেনা পারভীন বলেন, আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি। আমার অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৮-৯৯ আছে। কিন্তু আমার যত্ন নিতে গিয়ে ছেলেটা (টিটু) করোনা আক্রান্ত হয়েছে। ওকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন। 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin