শপিংমল-দোকান খুলতেই পুরনো চেহারায় বরিশাল

তুষার হোসেন তুহিন: মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ায় টানা ১১ দিন বন্ধ থাকার পর রোববার (২৫ এপ্রিল) থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান ও শপিংমল ও ব্যবসায়িক দোকানপাট খুলেছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী রোববার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দেশের সব শপিংমল ও দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। তবে, সব খুলতেই পুরনো চেহেরায় ফিরেছে বিভাগীয় শহর বরিশাল।

আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত যে লকডাউন বা সরকারি বিধিনিষেধের বলবৎ আছে, রোববার সকালে সড়কে মানুষের ভীর দেখে তা বোঝার উপায় নেই! কোথাওই স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। মানুষ স্বাভাবিক নিয়মেই আবারও বাইরে বের হচ্ছেন এবং কেনাকাটাও করছেন। রোববার সকাল থেকেই বরিশালের বিভিন্ন সড়কে সিএনজি,ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল আরও বেড়েছে। এছাড়া হাট-বাজার, দোকানপাট, মার্কেট সর্বত্রই জনসমাগম বেড়েছে। চকবাজার মার্কেটে যেন মানুষের ঢল নেমেছে। ব্যবসায়ীরাও তাদের দোকানপাট খুলে স্বাভাবিক নিয়মেই ব্যবসা করছেন। এছাড়া মার্কেটের সামনের সড়কের ব্যবসায়ীরাও আগের মত বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসতে দেখা গেছে।

ফাইল ফটো

ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করেই তাদের দোকানপাট খোলা রেখেছেন। প্রতিটি দোকানের সামনের অংশে কেবল নামকাওয়াস্তে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই তা ব্যবহার করছেন না। এছাড়া জীবাণুনাশক স্প্রে রাখা হলেও তা স্প্রে করা হচ্ছে না। তবে, ব্যবসায়ীরা এখন মুখে মাস্ক পরে ব্যবসা করছেন। ক্রেতাদের মধ্যে কিছু সচেতন মানুষ মুখে মাস্ক পরছেন। তবে, নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব কেউই বজায় রাখছেন না। পাশে থাকা দায়িত্বরত পুলিশ বার বার স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছে ঠিকই। কিন্তু কেউ তার তোয়াক্কা করছেন না। এদিকে সড়কে কোনো গণপরিবহন দেখা না গেলেও রোববার অসংখ্য ব্যক্তিগত মটরসাইকেল, সিএনজি ও অটোরিকশা চলাচল করছে।এছাড়া পণ্য পরিবহনের ট্রাক ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক আছে।

বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ যানবাহন চলাচল সীমিত করার চেষ্টা করছে। এছাড়াও গণজমায়েত ঠেকানোরও চেষ্টা চলছে। মুখে মাস্ক ছাড়া বাইরে বের হলে তাদের সতর্ক করছে পুলিশ।করোনার সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় এর আগে গত ৫ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা পর্যন্ত লকডাউন বা বিধিনিষেধ ছিল। নথুল্লাবাদ এলাকার তরিকুল ইসলাম নুর নামে একব্যাক্তি দাবি করে বলেন গণপরিবহন, মার্কেট খোলা রেখে এই লকডাউন অনেকটাই অকার্যকর হয়েছে। সরকার ১৪ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত কঠোর লকডাউন জারি করেও বেশি একটা লাভ হয়নি বলে যানায় তিনি। এদিকে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে ২৫ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শপিংমল ও দোকানপাট খোলা রাখা যাবে বলে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।যা আজ রোববার সকাল থেকে কার্যকর হয়েছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin