ঘুষ না দেওয়ায় হিজলায় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বঞ্চিত ৬ হাজার হতদরিদ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: বরিশালের হিজলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবিদুর রহমানের দাবিকৃত তিন লাখ টাকা ঘুষ না দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দকৃত ঈদ উপহারের নগদ টাকা বঞ্চিত হলেন ৬ হাজার হতদরিদ্র নারী-পুরুষ। অভিযোগ উঠেছে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নের হতদরিদ্ররা ইতিমধ্যে বরাদ্দকৃত জনপ্রতি ৪৫০টাকা পেলেও শুধুমাত্র ১নং হরিনাথপুর ইউনিয়নের ৬ হাজার হতদরিদ্র প্রধানমন্ত্রীর ঈদের এই উপহার থেকে বঞ্চিত হলেন। বিষয়টিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ঘুষ দুর্নীতির কালো ছোবল বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ খান। এদিকে বিষয়টি জানতে পিআইও আবিদুর রহমানের সেলফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বকুল চন্দ্র কবিরাজ বলেন, সকল ইউনিয়নের হতদরিদ্র লোকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দকৃত ঈদ উপহার এসেছে। যে ইউনিয়নের লোকজন এখনো পায়নি তারা অবশ্যই পাবেন। পিআইওকে তিন লাখ ঘুষ না দেওয়ায় হতদরিদ্র লোকজনের টাকা তুলতে পারেননি বলে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বকুল চন্দ্র কবিরাজ বলেন, এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা সত্যিকারে দুঃখজনক। বিষয়টি আমার জানা নেই। খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। হরিনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ খান জানান, আসন্ন ঈদে হরিনাথপুর ইউনিয়নের ৬ হাজার হতদরিদ্র নারী-পুরুষকে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক জনপ্রতি সাড়ে ৪শ’ টাকা করে বরাদ্ধ করেন। তিনি জানান, একইভাবে উপজেলার বাকী ৫ ইউনিয়নের হতদরিদ্র লোজনের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা উত্তোলন করে অনেক ইউনিয়নের হতদরিদ্র লোকদের টাকাও বিতরণ করা হয়। কিন্তু উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবিদুর রহমানের দাবিকৃত ৩লাখ টাকা ঘুষ পরিশোধ না করায় এখনো হতদরিদ্ররা টাকা পায়নি। নির্ভরযোগ্য একটি সুত্র জানায়, স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিভাজন থাকায় হরিনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যানকে কোনঠাসা করতেই মূলত ঈদ মুহূর্তে হতদরিদ্রদের টাকা আটকে রাখার কৌশল নিয়েছে একটি পক্ষ। উল্লেখ্য: স্থগিত থাকা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভ করেন বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ খান। কিন্তু তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা তৌফিকুর রহমান। আর তাকে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত একটি মহলের বিরুদ্ধে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin