ছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য: হত্যার অভিযোগ বাবার

সিটি নিউজ ডেস্ক: বরিশাল নগরীতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মৃত্যুর এক‌দিন পর অপমৃত্যু মামলা হয়েছে থানায়। তবে ওই ছাত্রীর বাবার অভিযোগ, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, দুই মাস আগে নগরীর একটি বাসা ভাড়া নেন ওই ছাত্রী। শনিবার রাত ১১টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এরপর স্বজন দাবি করে এক দম্পতি বাসা থেকে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাড়িওয়ালা জানিয়েছেন, ভাড়াটের তথ্য ফরমে ২৭ বছরের এক চাকরিজীবী যুবককে স্বামী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন ওই ছাত্রী। ফরমে তিনটি ফোন নম্বর রয়েছে। সবকটি তার কথিত ওই স্বামীর।

তবে ওই ছাত্রীর সেই কথিত স্বামী বলেন, ১০/১২ বছর আগে ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তিন বছর আগে তার সঙ্গে আবার যোগাযোগ হয়েছিল। তবে পরে তিনি সরে আসেন। বর্তমানে তিনি বিবাহিত এবং ঢাকায় থাকেন।

তিনি আরও বলেন, ‘ওই ছাত্রীর এক বান্ধবী আমাকে ফোন করে জানায়। তারপর ছাত্রীর বাবাও আমাকে কল করেছিলেন। কিন্তু ওর ভাড়াটে তথ্য ফোরামে কেন আমার ফোন নম্বর দেয়া হয়েছে সেই বিষয়টি আমার কাছেও পরিষ্কার না।’

ওই ছাত্রীর বান্ধবী বলেন, ‘আমার জানামতে, ফেব্রুয়ারি থেকে আমার বান্ধবী ওই বাসায় একাই থাকত। তবে এর আগে দুই বছর ওর সঙ্গে ওর প্রেমিকও থাকত। সে আমার বান্ধবীর সাথে প্রতারণা করায় খুব ডিপ্রেশনে ভুগছিল। তা ছাড়া গত বছর জুন মাসে ওর মায়ের মৃত্যুর পর বাবা আবার বিয়ে করায় কষ্টে প্রতিদিন প্রচুর ঘুমের ওষুধ সেবন করত।

‘সর্বশেষ ৬ মে আমার বান্ধবীর বাসায় যাই। ওর বিছানায় কয়েক প্যাকেট ঘুমের ওষুধ দেখতে পাই। ওকে এগুলো খেতে বারণ করায় আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে এবং বাসা থেকে তাড়িয়ে দেয়। কষ্টে আমিও এতদিন কথা বলিনি।

‘তবে ৮ মে রাতে ফেসবুকের একটি ফ্রিল্যান্সিং গ্রুপে কোনো এক ব্যক্তি ওর ছবি দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলে আমি ওর সাবেক প্রেমিক ও বাবাকে জানাই। তবে আমি হাসপাতালে যেতে পারিনি। আমার ধারণা ডিপ্রেশনে সে প্রচুর ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে।’

ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ের গলায় দাগ আছে। যারা ওরে বাসা থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিছে, তাদের আমি চিনি না। যে স্বামী-স্ত্রী আমার মেয়েকে হাসপাতালে নিছে তারা পুলিশ। তাদের বাসা নগরীর আমতলার মোড়ে। আমার মেয়ে ৬ বছর আগে একটি ছেলের সাথে ঘর থেকে পালিয়ে বিয়ে করে। বিষয়টি আমরা মেনে নিই না।

‘এর কিছুদিন পর ও বাসায় চলে আসে। ওর স্বামী ডিভোর্স দেয়। এরপর ওর সাথে কার সম্পর্ক ছিল তা জানি না। বাড়িতেই ছিল ১৬ রমজান পর্যন্ত, তবে কাজের কথা বলে ২৭ এপ্রিল বরিশাল আসে সে। আমার পরিষ্কার মনে হচ্ছে এটি হত্যাকাণ্ড। এ বিষয় আমি ওসি সাহেবকে জানিয়েছি। মামলাও করতে গেছি। কিন্তু থানা নেয় নাই। তারা বলছে পোস্টমর্টেমের রিপোর্ট আসলে ঠিকঠাক ব্যবস্থা নেবে।’

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম বলেন, ওই ছাত্রীর মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin