দেশের প্রথম পায়রা সেতুতে “ব্রিজ হেলথ মনিটরিং” সিস্টেম স্থাপন

বিপদের শংকা হলেই এলার্ম বেজে উঠবে!
মুরাদ আহমেদ, অতিথি প্রতিবেদক ॥ পদ্মার পর সারা দেশের সাথে পায়রা বন্দর ও সাগর কন্যা কুয়াকাটার সরাসরি যোগাযোগের সর্বশেষ অন্তরায় লেবুখালী ফেরি আর থাকছে না। এখানে স্থাপিত পায়রা সেতু চালুর প্রক্রিয়া এখন সময় মাত্র। সাড়ে ১৪ শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সেতুতে থাকছে দেশের প্রথম ব্রিজ হেলথ মনিটরিং সিস্টেম। কোথায় কোন ত্রুটি দেখা দিলেই মনিটরে বিপদ সংকেত বাজতে শুরু করবে। সাথে সাথে সেতুর উভয় পাশ থেকে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে। ত্রুটি সারানোর পর স্বাভাবিক হবে যান চলাচল। ব্রিজ হেলথ মনিটরিং সিস্টেম নামের এই পদ্ধতি চালু করতে ইতিমধ্যেই ভিয়েতনাম থেকে এসে পৌছেছেন বিশেষজ্ঞ। শুরু হয়েছে কাজ।
বরিশাল নগরী থেকে ২৬ কিলোমিটার দক্ষিনে লেবুখালী নদীতে নির্মিত এ সেতুর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৪৭০ মিটার আর প্রস্থ ১৯ দশমিক ৭৬ মিটার। এ সেতুতে ২০০ মিটারের দুটি স্পাম, এক্সট্রা ডোজ ক্যাবল সংযুক্ত রয়েছে। ৪৩ তলা ভবনের সমান ৪০টি পাইল রয়েছে এই সেতুতে। সর্বোপরি দেশে এই প্রথমবারের মতো কোন সেতুতে “সেতুর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষন পদ্ধতি এখানে সংযুক্ত করা হচ্ছে। এতে করে সেতুতে কোন বিপদ হবার আগেই সেন্সর ডিভাইজের মাধ্যমে তা আগেই জানা যাবে এবং ব্যবস্থা গ্রহন করা যাবে বলে জানিয়েছেন সেতু কর্তৃপক্ষ। পায়রা সেতু প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আশীষ মূখার্জী বলেছেন, করোনায় নির্মান কাজে কিছুটা গতি হারিয়েছে। এখন তাও স্বাভাবিক। পায়রা সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল হালিম বলেছেন, ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই শুরু হওয়া এ সেতুর কার্যক্রম শেষ হবার কথা ছিলো ছিলো এ বছরের ৩০ জুন। কিন্তু টোল প্লাজা, এপ্রোচ রোড ও প্রশাসনিক ভবন নির্মান না হওয়াতে ব্রিজ চালু পেছাচ্ছে অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তবে নির্মান কাজ সম্পূর্ণ শেষ করতে সময় চাওয়া হয়েছে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। দক্ষিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও দৃস্টি নন্দন এ সেতু নির্মানে ৭৫ ভাগ অর্থের সংস্থান এসেছে কুয়েত ও ওপেক ফান্ড থেকে। এক্সট্রা ডোজ ক্যাবল স্টেড ধরনের এ ব্রিজের কাজ বাস্তবায়নে রয়েছে একটি চীনা প্রতিষ্ঠান। কর্তৃপক্ষ বলছেন যে মূল ব্রিজের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। করোনার কারনে আটকে আছে অবশিষ্টাংশ। ইতিমধ্যে সময় বাড়ানোর প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগের তথ্য মতে লেবুখালী ফেরি দিয়ে বর্তমানে প্রতি ২৪ ঘন্টায় প্রায় ১১ হাজার যানবাহন পারাপার হয়ে থাকে। ব্রিজ চালু হলে এ সংখ্যা দ্বিগুন হবে। প্রচন্ড খরস্রোতা পায়রা নদীর উপর এ ব্রিজ নির্মানে শুরু থেকেই সংশ্লিস্টদের বিরুপ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে। এ ব্রিজের ২৮৬ টি পাইলের মধ্যে ৪০টি’র গভীরতা ৪৩ তলা ভবনের উচ্চতা সম্পন্ন। এ নদীর গভীরতা স্থান বিশেষে ছিলো পদ্মার চেয়েও বেশি। তাই মাঠ পর্যায়ে জড়িতরা যেমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন, তেমনি কাজের নয়া ধরনে আকৃস্টও ছিলেন। টানা ৬০ মাস ধরে এখানে প্রতিদিন গড়ে ৬শ থেকে ৯শ শ্রমিক কাজ করেছে। এখানে কাজ করতে গিয়ে দূর্ঘটনায় প্রান হারিয়েছে তিন শ্রমিক। তবে ব্রিজের কাজের সমাপ্ততে সবাই বেজায় খুশি বলে জানান ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার ওমর ফারুক ও সাইট ইঞ্জিনিয়ার আকবর আলী।

তবে দক্ষিনের সাথে নিবিড় যোগাযোগের জন্য পদ্মা সেতু কার্যক্রমের অন্যতম নেয়ামক এই পায়রা সেতুর সফলতা নিয়ে চিন্তিত স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজ। তাদের মতে এ সেতু নির্মানের সাথে সাথে বরিশালের গড়িয়ার পাড় থেকে সোনার গাও পর্যন্ত বাইপাস সড়ক নির্মান না করা হলে যানজটে পরিস্থিতি আরো অস্বাভাবিক হবে। পাশাপাশি এই সেতুর সাহে রেলপথ প্রযুক্তির দাবি ব্যবসায়ী সমাজের বলে দাবি করেছেন বরিশাল চেম্বার এন্ড কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস প্রেসিডেন্ড জাহাংগির হোসেন মানিক নদীর উপর সংযোগকারি পায়রা সেতু যাতে দক্ষিনের উন্নয়নের দিগন্ত উন্মোচনে বিশেষ অবদান রাখতে পারে সেমতে ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য আহবান জানিয়েছেন বরিশালের সুধীজন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin