বজ্রপাতে সাড়ে চার বছরে ১৩৬ জনের মৃত্যু

সিটি নিউজ ডেস্ক: হাওর জেলা নেত্রকোনা। কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে এ জেলা অন্যতম। কিন্তু সম্প্রতি বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় শঙ্কিত সর্বস্তরের  মানুষ।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, নেত্রকোনায় গত চার বছর পাঁচ মাসে (প্রায় সাড়ে চার বছর) বজ্রপাতে নারী-শিশুসহ ১৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালে ২১ জন, ২০১৮ সালে ৪৩, ২০১৯ সালে ৩১, ২০২০ সালে ২৭ ও চলতি বছরের গেল সপ্তাহ পর্যন্ত ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে এই মৃত্যুর ঘটনা অনেক বেশি। 

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, বজ্রপাতে অনেক মৃত্যু সরকারিভাবে লিপিবদ্ধ হয় না। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে যেগুলো জানতে পারে প্রশাসন সেগুলোর জন্য ১০ বা ১৫ হাজার টাকা দিয়ে দেন দাফনের জন্য। এইটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকে প্রশাসনিক দ্বায়িত্ব। পরবর্তীতে তারা আর রাখেন না সেই পরিবারগুলোর খোঁজ। সেইসঙ্গে প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকদের মাঝেও প্রচার করেন না কোনো সচেতনতামূলক বার্তা বা কার্যক্রম।

এ বছর বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ঘনঘন বজ্রপাতে নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ১৮ মে জেলার হাওরাঞ্চলসহ বিভিন্ন উপজেলায় একদিনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বজ্রপাতে ৯ জন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। এদিন আহত হন ছয়জন। এ ছাড়া চলতি মাসেই ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। তাদের মধ্যে জেলার হাওরাঞ্চল মদনের তিনজন, কেন্দুয়ার দুই, খালিয়াজুরীর তিন ও পূর্বধলার একজন রয়েছেন। এ ছাড়া আহত ছয়জনের মধ্যে এখনো মদনের রবিন নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিহতের পরিবারগুলোতে এখনো বিরাজ করছে শোকের মাতম।

হাওরাঞ্চলে মাছ ধরা বা জমিতে কৃষিকাজরত অবস্থায় ও বৃষ্টিতে শিশুদের মাঠে খেলাধুলা করার সময় বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনাগুলো ঘটেছে। এতে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। 

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ হিসেবে অবাধে গাছ কেটে ফেলা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণকেই দায়ী করছেন পরিবেশবিদরা। 

এমন অবস্থায় বজ্রপাত নিরোধে অচিরেই জনসচেতনতার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদকর্মী মোতাহার হোসেন চৌধুরী, বেসরকারি ও অলাভজনক উন্নয়ন গবেষণা সংস্থা বারসিকের মো. অহিদুর রহমানসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং হাওর জনপদের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক।

জেলা প্রশাসক কাজি মো. আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin