বরিশালে নারী বাদীকে যৌন হয়রানি, এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

সিটি নিউজ ডেস্ক: বরিশাল মেট্রোপলিটিনের কোতয়ালি মডেল থানায় ডেকে নিয়ে নারীকে যৌন হয়রানি করেছেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদমর্যদার এক কর্মকর্তা। নারীর অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি তদন্তের নামে থানায় এনে একটি কক্ষে তাকে রেখে শ্লীলতাহানি করেন কোতয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুল। থানা অভ্যন্তরের এই ঘটনায় নারী ওসির কাছে নালিশ করে কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় বিষয়টি এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ত্রিশোর্ধ্ব ওই নারী এসআই আসাদুলের বিরুদ্ধে গত ২৪ মে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করলে বিচারক তা তদন্তে পিবিআইকে নির্দেশ দেন। বিষয়টি এতদিন লুকোচাপা থাকলেও অপরাপর পুলিশ সদস্যদের কানাঘুষায় সপ্তাহখানেক বাদে প্রকাশ পেতে শুরু করে।

নারীর করা মামলার নথিতে উল্লেখ আছে, গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর কোতয়ালি মডেল থানায় প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করেন ওই নারী। একদিন বাদে অর্থাৎ ২৮ ওই ডায়েরির তদন্তের জন্য নারীকে থানায় ডাকেন এসআই আসাদুল এবং নিজের কক্ষে বসতে দেন। এসময় জমি নিয়ে আলাপচারিতার একর্যায়ে নারীকে পুলিশ কর্মকর্তা শ্লীলতাহানির চেষ্টা করলে তখন তার স্বামী এসে পড়েন।

আর্জিতে বলা হয়েছে, এই বিষয়টি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অভিযোগ আকারে অবহিত করলে তিনি বিচার করার আশ্বাস দেন। এবং বিষয়টি অপর নারী পুলিশ কর্মকর্তা (এএসআই) রুমা পারভীনকে দিয়ে তদন্ত করার আশ্বাস দেন।

এর পরে দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও এসআইয়ের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এবং ২৩ মে নারী যোগাযোগ করে জানতে পারেন ওসি তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিলেও এই ধরনের কোনো দিকনির্দেশনা পাননি এএসআই রুমা আক্তার। ফলে বাধ্য হয়ে গত ২৪ মে তিনি বাদী হয়ে বরিশাল আদালতে এসআই আসাদুলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। জানা যায়, নারী করা মামলাটি বিচারক পিবিআইকে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই আসাদুলের কোনো বক্তব্য না পাওয়া গেলেও বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম বলছেন, ঘটনাটি তারাও তদন্ত করে দেখছেন।’

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin