চুলের টুপি যাচ্ছে চীনে

সিটি নিউজিডেস্ক: লাইজু খাতুন একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। চুলের টুপি তৈরি করে বদলেছেন ভাগ্য। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে অনেক অসহায় নারীর। তাদের নিপুণ হাতে চুল দিয়ে তৈরি করা মাথার টুপি দেশের বাজার ছাপিয়ে এখন রফতানি হচ্ছে চীনে।

লাইজু খাতুনের সফলতার গল্প, ভাগ্য জয়ের গল্প জানতে-বুঝতে ও শিখতে ছুটে আসছে কৌতূহলী মানুষ। এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা ফুলবাড়ীর প্রত্যন্ত অঞ্চলের এ নারী উদ্যোক্তা। নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে আরও ৩০ নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ।

ফুলবাড়ী সদর ইউপি চেয়ারম্যান হারুন জানান, ব্যতিক্রম ধর্মী এ শিল্পকর্ম নিয়ে তৈরি হয়েছে অপার সম্ভাবনা। ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা বালাতাড়ি গ্রামের কৃষক হেছার আলী মেয়ে লাইজু খাতুন। বাণিজ্যিকভাবে মাথার চুল দিয়ে টুপি তৈরি করে এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা ও সফল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এই নারী উদ্যোক্তা।

কৃষক হেছার আলীর তার পাঁচ মেয়ের মধ্যে লাইজু চতুর্থ নম্বর। বড় তিন মেয়ের অর্থাভাবে লেখাপড়া করাতে না পেরে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেন দরিদ্র কৃষক। তবে শত বাধার মুখেও নিজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় লাইজু খাতুন রংপুর সরকারি কলেজ থেকে বাংলা বিষয় মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

২০১৫ সালের উপজেলার পার্শ্ববর্তী শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের সোনাইকাজী গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে সামিউল ইসলাম সেলিমের সঙ্গে লাইজুর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তার স্বামী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে আড়াই বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

লাইজু খাতুন বলেন, আমার অনেক দিনের ইচ্ছা ও স্বপ্ন ছিল একজন সফল উদ্যোক্তা হবো। চাকরির পেছনে ছুটবো না নিজেই সৃষ্টি করবো কর্মসংস্থানের। নারীদের ভাগ্যবদলে নিবো বিশেষ উদ্যোগ।

এই স্বপ্নটা পূরণ করতে আমার স্বামীর সহযোগিতায় ময়মসিংহে ৫ দিন এবং ঢাকা উত্তরায় ১০ দিন চুল দিয়ে টুপি তৈরির প্রশিক্ষণ নেই। প্রশিক্ষণ নিয়ে গ্রামের ৩০ জন নারীকে আমার নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় একমাসের প্রশিক্ষণ দেই।

আমার বাবার বাড়িতে একটি টিনসেড ঘরে স্বল্প পরিসরে ‘সিনহা বিনতে সামিউল হেয়ার ক্যাপ নিটিং লিঃ’ প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু করি চলতি বছরের তিন মাস আগে। প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠানটি চালু করি।

এখন গড়ে মাসে ৯০-১০০টি চুলের টুপি তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিটি টুপিতে গড়ে সাড়ে তিনশ টাকা খরচ করে ঢাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫শ টাকায়। আমাদের তৈরিকৃত চুলের টুপিগুলো ঢাকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চীনে রফতানি করে। উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সোহেলী পারভীন বলেন, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। একটা অসাধারণ কাজ করেছে লাইজু।

নারীরা সমাজে সু-প্রতিষ্ঠিত হোক সবাই চায়। লাইজুর প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উপজেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে লাইজুর প্রতিষ্ঠানটি সমিতির অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা হলে উপজেলার শতাধিক নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আমার বিশ্বাস।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমান দাস বলেন, উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। এটা খুবই ইতিবাচক। নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হলে দেশ ও জাতি এগিয়ে যাবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন নতুন উদ্যোক্তাদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin