পদ্মা-পায়রা সেতুতে খুলবে দক্ষিণাঞ্চলের ভাগ্য দুয়ার

সিটি নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নির্মাণাধীন অবকাঠামো পদ্মা সেতুর পর দৃশ্যমান হলো লেবুখালীর পায়রা সেতুও।

পদ্মা ও পায়রা সেতুকে ঘিরে বরিশাল তথা গোটা দক্ষিণাঞ্চলে গড়ে উঠছে হোটেল-মোটেলসহ বহু ছোট-বড় শিল্পায়ন-কল-কারখানা। সেতু দুটিতে যান চলাচল শুরু হলে দক্ষিণাঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে। পাশাপাশি গড়ে উঠবে ব্যবসায়ীক সর্ম্পক।

বাড়বে এখানকার পর্যটন কেন্দ্রেগুলোতে পর্যটক সমাগম। এতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য দুয়ার খুলে যাবে আশা করা যাচ্ছে।

পর্যটন করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগজুড়ে পর্যটন শিল্পে ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে। বিশেষ করে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, পায়রা সমুদ্রবন্দর ও তার পার্শ্ববর্তী গঙ্গামতী, কাউয়ারচর, বরিশালসহ পদ্মার পাড় এলাকা।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরিশাল জেলার লেবুখালী এলাকার পায়রা নদীর ওপর সেতুর ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করেন। এরপর কয়েক দফা সেতু নির্মাণ কাজের প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়। তবে তার আগেই চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে সেতু চালু করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। মূল সেতুর ৯৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হলেও এখন চলছে শেষ মুহূর্তের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ।

স্থানীয় জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, দক্ষিণাঞ্চল সব সময়ই অবহেলিত ছিল। এখন পদ্মা সেতু পুরোপুরি চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। এবং পর্যটন সেক্টর উন্নয়নের পাশাপাশি সম্ভবনার নতুন দ্বার উন্মোচন হবে।

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর তা বাস্তবায়ন করছেন তারই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি আরও বলেন, স্বপ্নের পদ্মা ও পায়রা সেতু নির্মাণ হওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও জীবন-জীবিকা বদলে যাবে। দক্ষিণাঞ্চল বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের দিক দিয়ে পিছিয়ে আছে। এই জনপদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বিরাট সুযোগ সৃষ্টি করবে পদ্মা ও পায়রা সেতু।

পর্যটন করপোরেশনের কুয়াকাটার ব্যবস্থাপক সুভাষ চন্দ্র নন্দি জানান, পদ্মা ও পায়রা সেতুকে সামনে রেখেই পায়রা সমুদ্র বন্দর, গঙ্গামতী, কাউয়ারচর, কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় গড়ে উঠছে আধুনিক মানের হোটেল-মোটেল, শিল্পায়নসহ নানা স্থাপনা।

পদ্মা ও পায়রা সেতু চালু হলে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বিঘ্নে এখানকার পর্যটন এলাকাগুলো ঘুরে যেতে পারবেন। বিশেষ করে কুয়াকাটা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে পর্যটকদের বেশি সমাগম হবে। এছাড়াও রেল সংযোগ চালু হলে এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থারও পরিবর্তন ঘটবে। এতে দক্ষিণাঞ্চলে বেকারত্বের হার কমার পাশাপাশি স্বাবলম্বী হবে এখানকার ব্যবসায়ীরা।

পায়রা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল হালিম জানান, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর পর্যন্ত ফেরিবিহীন সড়ক যোগাযোগ চালু করার লক্ষ্যে লেবুখালীর পায়রা নদীর ওপর নির্মিত হচ্ছে ফোরলেন বিশিষ্ট পায়রা সেতু । সেতুটি নির্ধারিত সময়ের আগেই চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, মূল পায়রা সেতুর ৯৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নদীর উভয়প্রান্তে মোট ১ হাজার ২৬৮ মিটার এ্যাপ্রোচ সড়ক, টোলপ্লাজা, প্রশাসনিক ভবন, ইলেক্ট্রিফিকেশনসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক কাজের ৮৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ। পায়রা সেতু খুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের সর্ব দক্ষিণে কুয়াকাটা পর্যন্ত ফেরিবিহীন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হবে। যা বর্তমান সরকারের একটি নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।

বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদল জানান, স্বপ্নের পদ্মা ও পায়রা সেতুতে পুরোপুরি যানবাহন চালু হলে গোটা দক্ষিণাঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে। একই সাথে এসব অঞ্চলের সাথে গড়ে উঠবে দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসায়ীক সর্ম্পক।,পাশাপাশি পায়রা সমুদ্র বন্দরসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক ভাবে গড়ে উঠবে কল-কারখানা। এতে করে দক্ষিণাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর বিনিয়োগ বাড়বে, তৈরি হবে কর্মসংস্থানের।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin