শেবাচিমে সহায়তা পাচ্ছে না অসহায় রোগীরা !

স্টাফ রিপোর্টার॥ বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়য়(শেবাচিম) হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ডে একাধিক অজ্ঞাত রোগী পড়ে রয়েছে। হাসপাতালের ডাক্তাররা এসব রোগীদের চিকিৎসার খোঁজখবর রাখলেও,তাদের স্বজনদের দেখা মিলছে না। নিয়মিত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার পর রোগীরা সুস্থ্য হলেও তাদের শরীর দুর্গন্ধে ভরা। রোগীদের পরিহিত জামা-কাপড়ও নোংরা। আবার কারও মৃত্যু হলে বেওয়ারীশ হিসেবেই কবরস্থ অথবা সৎকার করা হয়। কিন্তু এসব রোগীদের ক্ষেত্রে কোন সহায়তা করছে না হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়। এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে সমাজসেবা কার্যক্রম দুই শিফটে চালু থাকলে ভাল হয়। এদিকে শেবাচিম হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়ের সিনিয়র অফিসার দিলরুবা রইচীর সঙ্গে সাক্ষাতে কথা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন,‘অনেক সময় ডিউটিতে ডাক্তার থাকেন না। আর ডাক্তারের সীল-স্বাক্ষর ছাড়া আমরা কোনরকম সহায়তা করতে পারি না। দিলরুবা রইচী আরও বলেন ডাক্তারের অনুমতি ছাড়া আমরা এমার্জেন্সী রোগীদের ওষুধ দেওয়ার কথা ভাবছি। আর এমন সহজীকরনে অসহায় ও অজ্ঞাত রোগীরা চাহিদা মত ওষুধ পাবে। কিন্তু হাসপাতাল কর্র্র্র্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতার কারনে আমরা অসহায় রোগীদের সর্বদা সহায়তা করতে পারবো না।

জানা গেছে,গত ২৭মে সকাল সাড়ে এগারোটায় আনুমানিক ৫৫ বছরের অজ্ঞাত পরিচয়ের এক বৃদ্ধাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন ইসলাম পাড়া এলাকার বাসিন্দা নুপুর বেগম। প্রথম দিন ওই বৃদ্ধার খোঁজখবর রাখলেও পরে আর নুপুরের দেখা মিলেনি। অজ্ঞাত নারীর দেখভালের দায়িত্ব যেন ডাক্তার ও নার্সদের কাঁধে বর্তায়। হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ডের বারান্দার ফ্লোরে অনেকদিন যাবত চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই বৃদ্ধা। এতদিনে তার পরিচয় সনাক্ত হওয়া যায়নি। চলতি মাসের ১৩ জুন উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন ৫০ বছরের এক অজ্ঞাত বৃদ্ধা। উজিরপুর থানা পুলিশের সহযোগীতায় তাকে উদ্ধার করে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু ১৫ জুন সকালে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। ১২ জুন বরিশাল নগরী থেকে আরেক অজ্ঞাত বৃদ্ধাকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেন বরিশাল মেট্রপলিটন পুলিশ। তবে পুলিশ ৬৫ বছরের ওই বৃদ্ধার খোঁজখবর রাখছেন। এর আগে ৮ জুন জিয়া সড়কের একটি ইলেক্ট্রনিক শোরুমের সামনে থেকে আরেক অজ্ঞাত বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। শোরুমের কর্মচারী শামিম ওই বৃদ্ধার কিছুদিন দেখাশুনা করেন। কিন্তু ১১ জুন ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হলে তার মরদেহ বেওয়ারীশ হিসেবেই দাফন করা হয়।

বিষয়টি নিয়ে কথা হলে হাসপাতালের মহিলা সার্জারী ওয়ার্ডের ইনচার্জ রেখা জানান, ‘শুধু অজ্ঞাত রোগী নয়,আমরা সকল রোগীদেরই সেবা করে থাকি। এখানে ২৪ ঘন্টা নার্সরা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। তাছাড়া অজ্ঞাত ওই রোগীদের এক্সট্রা কেয়ার নেওয়া হয়। অজ্ঞাতনামা এসব রোগীর মুখমন্ডলে মশা-মাছি বসতে দেখে আমি নিজেই তাদেরকে মশারি টাঙিয়ে দিয়েছি।তিনি আরও বলেন ডাক্তারের স্বাক্ষর ব্যতীত হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয় এসব রোগীদের কিছু দেয় না। ’

তবে হাসপাতাল পরিচালক এইচ.এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সমাজসেবা কার্যক্রম দুই শিফটে চালু থাকলে ভাল হয়।কারন আমাদের ডাক্তার ২৪ ঘন্টা ডিউটিতে থাকেন। কিন্তু হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত খোলা থাকে। আর হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয় বন্ধের সময় কোন এমার্জেন্সী রোগীদের ওষুধ দেওয়ার সুপারিশ করলেও তা পরের দিন সকালে পাওয়া যায়। অর্থ্যাৎ অনেক দেরী হয়ে যায়।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin