দক্ষিণাঞ্চলের ১৭৩ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আগামীকাল

করোনা আতঙ্কের মধ্যেই বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলার ১৭৩ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামীকাল সোমবার। যদিও ইতোমধ্যে ২৬টিতেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন সরকারি দলের প্রার্থীরা।

একই সঙ্গে ৩১ জন সদস্য প্রার্থীও ভোটের আগেই নির্বাচিত হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। যার মধ্যে বরিশালেই ১৫ জন ও ভোলাতে ৬ জন ছাড়াও বরগুনায় ৪, পটুয়াখালীতে ৩, ঝালকাঠিতে ২ ও পিরোজপুরে একজন রয়েছেন। ২১ জুন দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি জেলার ৪২টি উপজেলার ৩৩টিতে উল্লেখিত ১৭৩টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ২৮ লাখ ৯৮ হাজার ৮৬৯ জন ভোটারের মধ্যে নারী ১৪ লাখ ৩০ হাজার ২৫ জন।

এছাড়া ঝালকাঠি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৩ জন ও ৩টি সংরক্ষিত ৩ নারী কাউন্সিল পদে ১৬ জন প্রতিদন্দ্বিতা করছেন। তবে এ শহরে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩১ জন প্রতিদন্দ্বিতা করলেও ৩টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

আষাঢ়ের শুরুতে ভরা বর্ষায় করোনা মহামারির তৃতীয় ঢেউ দক্ষিণাঞ্চলের দরজায় কড়া নাড়ছে। সেই ঝুঁকির মধ্যেই দক্ষিণাঞ্চলের মোট ১ হাজার ৬৩৩টি কেন্দ্রে এসব ইউনিয়ন পরিষদের ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন তার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।

ইতোমধ্যে খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরিশাল সফর করে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণে কমিশনের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। নির্বাচনে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পায় না দাবি করে তিনি সুষ্ঠু ভোট গ্রহণে সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারি কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনাও দিয়ে গেছেন।

এদিকে আসন্ন এ নির্বাচনে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার যে ৭টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে তার ৬টিতে এবং ভোলার চরফ্যাশনের ৫টি ইউনিয়ন পরিষদের সবটিতেই চেয়ারম্যান পদে সরকারি দলের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া বরিশালের বাকেরগঞ্জের ১১টি ইউনিয়নের ১টি, বানরীপাড়ার ৭টির মধ্যে ৫টি, উজিরপুরের ৫টির মধ্যে ১টি ও মুলাদীর ৬টির মধ্যে একটিতে চেয়ারম্যান পদে সরকারি দলের প্রার্থীরা ভোটের আগেই নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দুটি, ঝলকাঠি সদর, নলছিটি ও রাজাপুরের ১টি করে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এমনকি ভোলার বোরহানউদ্দিনের ২টির মধ্যে একটি ইউপি চেয়ারম্যান পদেও ভোটের আগেই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন সরকারি দলের একমাত্র প্রার্থী।

এছাড়া পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার যে ৫টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা, সেখানেরও ১টিতে ভোটের আগেই নির্বাচিত হয়েছেন একজন। দক্ষিণাঞ্চলে এবার যে ১৭৩ ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানে বরিশালের ১০টির মধ্যে ৯টি উপজেলার ৫০টিতে, পটুয়াখালীর ৭টির মধ্যে ৪টি উপজেলার ১৯টিতে, পিরোজপুরের ৭টি উপজেলার ৩২টিতে, ঝালকাঠির ৪টি উপজেলার ৩১টিতে, ভোলার ৭ উপজেলার ৪টির ১২টি ইউপিতে এবং বরগুনার ৫টি উপজেলার ২৯টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

গত এপ্রিলে যখন দেশব্যাপী করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়, তখন এসব ইউপির নির্বাচন স্থগিত হলেও নির্বাচন কমিশন থেকে পুনরায় ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্তকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা খুব ভালোভাবে নিচ্ছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, যেখানে সাধারণ মানুষকে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার তাগিদ দিয়েও তা অনুসরণ করানো যাচ্ছে না, সেখানে স্থানীয় সরকার পরিষদের নির্বাচনী ডামাডোলে কে কতখানি স্বাস্থ্যবিধি মানবেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

ইতোমধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামেগঞ্জে নির্বাচনী ডামাডোলে সরগরম হয়ে উঠেছে। আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচারণার ব্যস্ততায় চাপা পড়ে গেছে করোনা মহামারির আতঙ্কও। তবে থেমে নেই করোনার সংক্রমণ।

ইতোমধ্যে দক্ষিণাঞ্চলে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা সরকারি হিসাবেই ১৬ হাজার ছুঁতে চলেছে। মৃত্যুর সংখ্যাও ৩শ’র কাছে। এমনকি চলতি মাসের প্রথম ১৪ দিনে সংক্রমণের সংখ্যা গত মাসের একই সময়ের চেয়ে বেশি বলে জানা গেছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin