বরিশাল সদর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর খাবার তালিকায় ব্রয়লারের কেজি ৩৩০ টাকা

সিটি নিউজ ডেস্ক ‍॥ বরিশাল সদর হাসপাতলের ভর্তি রোগীর খাদ্য সরবরাহে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত পরিমাণের কম এবং নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের অভিযোগ করেছেন রোগীরা।গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,

স্বাভাবিক রোগীর সকালের খাবার তালিকা>> পাউরুটি ১৫০ গ্রাম,সিদ্ধ ডিম ১টা,পাকা কলা ১টা।

দুপুরের খাবার>> চাউল ২০০ গ্রাম,মুরগীর মাংস ৭০ গ্রাম, সবজী /আলু,চাল কুমড়া,ও মিষ্টি কুমড়া,পুই শাক,লাউ,কাচা পেপে ১৫০ গ্রাম,ডাল ৯ গ্রাম,তৈল ৮ গ্রাম,লবন ৪ গ্রাম,পিয়াজ ৭.৫ গ্রাম,মশল্লা ৩০গ্রাম, গ‍্যাস খরচ জন প্রতি ৪৬/৪৪ পয়সা।

রাতের খাবার>> চাউল ২০০ গ্রাম, মাংস ৭০ গ্রাম,সবজী সবমিলে ১৩০ গ্রাম,তৈল ৮ গ্রাম, লবন ৪ গ্রাম,পিয়াজ ৭.৫ গ্রাম,মশল্লা, মসুরি ডাল ৯ গ্রাম,

ডায়াবেটিস রোগীর খাবার তালিকা সকালে রুটি ১ টি ১৫০ গ্রাম, সিদ্ধ ডিম ১টি, সবজী সবমিলে ২০০ গ্রাম, বিস্কুট নোনতা ৯০গ্রাম।

দুপুরের খাবার>> চাউল ১০০ গ্রাম,মুরগীর মাংস ৮০ গ্রাম, সবজী /আলু,চাল কুমড়া,ও মিষ্টি কুমড়া,পুই শাক,লাউ,কাচা পেপে ২০০ গ্রাম,ডাল ৮ গ্রাম,তৈল ৮ গ্রাম,লবন ৪ গ্রাম,পিয়াজ ৭.৫ গ্রাম,মশল্লা ৩০গ্রাম, গ‍্যাস ৩০ গ্রাম।খরচ জন প্রতি ৪৫/৩২ পয়সা।

রাতের খাবার>> রুটি ১টি ১৫গ্রাম, মুরগীর মাংস ৭৫ গ্রাম, সবজী /আলু,চাল কুমড়া,ও মিষ্টি কুমড়া,পুই শাক,লাউ,কাচা পেপে ২০০ গ্রাম,ডাল ৮ গ্রাম,তৈল ৮ গ্রাম,লবন ৪ গ্রাম,পিয়াজ ৭.৫ গ্রাম,মশল্লা ৩০গ্রাম, গ‍্যাস ৩০ গ্রাম।খরচ জন প্রতি ৪২/৭৬ পয়সা।

শুকনো খাবার>> পাউরুটি ৪০০ গ্রাম, সিদ্ধ ডিম ৪টি, পাকা কলা ৪টি,মিষ্টি বিস্কুট ৪টি, গ্যাস ৮ পয়সা। খরচ প্রতিজন ১২৫ টাকা।

তালিকা অনুযায়ী প্রতিদিন একজন রোগী খাবার পায় ১২৫ টাকার।কিন্তু খাবারের যে মূল্য ধড়া হল,তাতে রোগীরা কি পরিমান খানা পায়। সকালে স্বাভাবিক রোগীর জন্য পাউরুটি ১৫০ গ্রাম ১টা মূল্য ১৬. ৫০,সিদ্ধ ডিম ১টা ৯.৯৫পয়সা,পাকা কলা ১ টা ৬.৯০ পয়সা মোট সকালের খরচ ৩৩.৩৫ পয়সা, ধড়া হলেও পাচ্ছেন না রোগীরা। দুপুরের খাবার প্রতিজনের চাউল ২০০ গ্রাম ১১.৯৬ পয়সা যাহা এক কেজির মূল্য ৫৯.৮০ পয়সা,ব্রয়লার মুরগীর মাংস ৭০ গ্রাম ২৩.১০ পয়সা যাহা প্রতি কেজির মূল্য ৩৩০ টাকা,সবজী / আলু,চাল কুমড়া ও মিষ্টি কুমড়া, পুই শাক, লাউ,কাচা পেপে সব মিলে ২০০ গ্রাম ৪.৫ পয়সা যাহা এক কেজির মূল্য ২৭ টাকা। কিন্তু মাত্র আলু আর পেপে দিয়ে সবজী,ডাল ৯ গ্রাম ১.১৭ পয়সা তাতে প্রতি কেজির মূল্য ১৩০ টাকা,তৈল ৮ গ্রাম ১.১১ পয়সা কেজি আসে ১২৪ টাকা,লবন ৪ গ্রাম ০.১৫ পয়সা প্রতি কেজি ৩৭.৫০ পয়সা,পিয়াজ ৭.৫ গ্রাম ০.৪৬ পয়সা কেজির মূল্য ১৩৯ টাকা,মশল্লা ৩০ গ্রাম ৩.১৩ পয়সা, গ্যাস ৩০ গ্রাম, প্রতি কেজি ১০৪.৪৪ পয়সা।দুপুরের খাবারের মূল্য ৪৬.৪৪ পয়সা।

স্বাভাবিক রোগীর তিন বেলা খাবার খরচ ১২৫ টাকা এবং ডায়াবেটিক রোগীর খাবার ২৫০ টাকা।

রাতের খাবার দুপুরের খাবার একই খাবার তবে ডায়াবেটিক রোগীদের খাবার ও স্বাভাবিক রোগীদে চেয়ে অতিরিক্ত খাবার আরো ১টি খাবার আছে রাতে শুকনো খাবার পাউরুটি ১টি ৪০০ গ্রাম মূল্য ৪৪ টাকা, সিদ্ধ ডিম ৯.৯৫ পয়সা ৪টি ৩৯.৮০ পয়সা পাকাকলা ৬.৯০ পয়সা ৪টি ২৭.৬০ পয়সা, মিষ্টি বিস্কুট ৭৬ গ্রাম ১৩.২০ পয়সা। গ্যাস ০.৮ পয়সা। রাতে অতিরিক্ত খাবারের মূল্য ১২৫ টাকা।

প্রথমে ধরা যাক মুরগী প্রতিকেজি ৩৩০ টাকা ধরে স্বাভাবিক রোগী পাবেন ৭০ গ্রাম এবং ডায়াবেটিক রোগী পাবেন ৮০ গ্রাম। কিন্তু রান্না করা মুরগীর মাংসের টুকরা ওয়েটে আসে ৩৮ গ্রাম। তবে ৮০ গ্রাম মুরগীর দাম জদি ৩৩০ টাকা হয় সেখানে ৩৮ গ্রাম মুরগী পায় তার দাম আসে ৬৬০ টাকার বেশি।

এমন অনিয়মের বিষয় আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ মলয় কৃ্ষ্ণ বড়াল বলেন, আসলে খাবারের তালিকায় অনিয়ম আছে তা ঠিক তবে খাবারের তালিকা করতে গেলে থার্ট পার্সন লোকের কথা মতো করতে হয়। তিনি জানান, আসলে বাংলাদেশের কোথায় ব্রয়লার ৩৩০ টাকা ধরে নেই কিন্তু আমার কিছু করার নেই বলেই আমি খাবারের তালিকায় স্বাক্ষর দিয়েছি।

হাসপাতালের খাবার থেকে সকল অনিয়মের বিষয় সিভিল সার্জন-কাম-তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মনোয়ার হোসেন জানান, আসলে কবে কোথায় স্বাক্ষর করেছি তা আমার খেয়াল নেই। তিনি আরো বলেন, তবে অনিয়মের বিষয় গুলো দেখবো। এক সংবাদকর্মীর বলেন, স্যার আমি একটি বিষয় আপনার কাছে স্বাক্ষর নিতে এসেছিলাম আপনি আমার ওয়ার্ড কাউন্সিল এর প্রতায়ন পত্র ছাড়া দেন নি। আসলে আপনি সব কিছুই জানেন। যখনই আমরা আশি তখন বলেন বিষয়টি দেখবো। প্রতিনিধি আরো বলেন, আপনার হাসপাতালে কোটি কোটি টাকার ওষুধ ডেট ওভার হয়েছে তা কি জানেন? তিনি বলেন, আমি তা জানিনা, তবে ওষুধের ডেট ওভার এটা এমন কিছুই না। অন্য এক সংবাদকর্মী বলেন, স্যার আপনার হাসপাতালে খাবারের তালিকা কোথায় নেই। আমরা হাসপাতালে ভর্তি হলে জানিনা আমাদের জন্য কি খাবার বরাদ্দ আছে। সংবাদকর্মী আরো বলেন, স্যার আপনার কাছে একটি অনুরোধ প্রতিটি রোগীর সিটের মাথায় খাবারের তালিকা কি দেয়া যাবে! এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন বিষয়টি দেখবো। অন্যএক সংবাদকর্মী বলেন, স্যার সদর হাসপাতাল থেকে কোন তথ্য আমাদের দেয় না। তিনি বলেন, যে কোন তথ্য আমি দেব সবাইকে জানিয়ে দিয়েছি তাই তারা দেবেন না। সংবাদকর্মী বলেন, স্যার আপনি বড় মাপের অফিসার আপনাকে সামান্য বিষয় আসলেই কি পাওয়া যাবে? তিনি বলেন, না পেলে আমি কি করবো।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin