বরিশালে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু, প্রতিরোধে উদ্যোগ নেই

শফিক মুন্সি, বরিশাল ‍॥ বর্ষাকালে নগরবাসীর অন্যতম আতঙ্কের নাম ডেঙ্গু। এডিস মশা বাহিত এ রোগে আক্রান্ত হলে রোগীর প্রাণ পর্যন্ত হারাতে হতে পারে। প্রতি বছর ডেঙ্গু রুখতে বরিশালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ থাকে। তবে এবার বর্ষা মৌসুমের বেশকিছুদিন কেটে গেলেও এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের তেমন কোনো পদক্ষেপ চোখে পরেনি। আর চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একবার ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে গেলে চলমান করোনা পরিস্থিতিতে এ অঞ্চলের স্বাস্থ্য পরিষেবা ভেঙে পরবে।

সাধারণত প্রতিবছর এ বিভাগের ডেঙ্গু আক্রান্তদের মূল অংশ হিসেবে চিহ্নিত হয় নগরবাসী। তাই সিটি কর্পোরেশন এলাকার জনগনকে এডিস মশার আক্রমণ থেকে মুক্ত রাখতে বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়। মশার ওষুধ ছিটানো, ডোবা-নালা পরিষ্কার রাখা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচারণা চালায় স্থানীয় প্রশাসন ও নগর কর্তৃপক্ষ। তবে চলতি বছরে এ ধরণের কোনো কার্যক্রম চোখে পরেনি এখনো।
প্রতিবছর জুন-জুলাই থেকেই ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হতে শুরু করে। এছাড়া এ বছর গত ১৫ থেকে ২০ দিন যাবৎ প্রায় প্রতিদিনই মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টির পানি বাসা-বাড়ির আশেপাশে ডোবা-নালা বা অন্য কোনো জায়গায় জমে থাকলে সেখানে ডিম পাড়ে এডিস মশা। আর এই এডিস মশার কামড়েই আক্রান্ত হতে হয় ভয়াবহ ডেঙ্গু জ্বরে। চলমান করোনা মহামারীতে তাই মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে ডেঙ্গু প্রকোপ চায় না কেউ।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা.বাসুদেব কুমার জানান, বৃষ্টির জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি তরান্বিত হয়। এই এডিস মশাই মূলত ডেঙ্গু রোগের কারণ। সাধারণত জুন-জুলাই মাসের বর্ষাকালে এই রোগের প্রকোপ দেখা দেয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখনি উদ্যোগী হতে হবে।
এই চিকিৎসক বলেন, বাসা – বাড়ির আশেপাশে ছোট ডোবা কিংবা গর্ত, অব্যবহৃত টায়ার, প্লাস্টিকের বোতল ইত্যাদিতে পানি জমে থাকলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেগুলো পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মশা প্রতিরোধে কীটনাশক ও ওষুধ ছিটানো এবং নালা-ড্রেন পরিষ্কারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
আর করোনাকালীন সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পেলে ভয়ানক পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমানে বরিশাল বিভাগে করোনা সংক্রমণ হার সর্বোচ্চ। এরমধ্যে ডেঙ্গুর মৌসুম চলে এসেছে। এখন থেকেই এ ব্যাপারে সকলে সচেতন না হলে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পরবে।
তিনি আরো বলেন, বিগত দিনে দেখা গেছে ডেঙ্গুর প্রকোপ একবার বৃদ্ধি পেলে সেটি কমতে বেশ সময় লেগে যায়। বর্তমান সময়ে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়েই হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদের। এছাড়া এখানে জনবলও সংকট অনেক। তাই ডেঙ্গুর উৎপাত শুরু হবার আগেই এটিকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া জরুরী।
এসব নিয়ে আলাপকালে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মো. ফারুক আহমেদ জানান, নগরীর খালগুলো পুনঃখনন ও পরিষ্কারের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এডিস মশার প্রজনন হ্রাস করতে এই উদ্যোগ বেশ কার্যকরী হবে। এছাড়া নালা- নর্দমা পরিষ্কার ও মশার ওষুধ ছিটানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে।
এছাড়া জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার জানান, ডেঙ্গুর ব্যাপারে তারা সচেতন রয়েছে। দ্রুতই এ ব্যাপারে দৃশ্যমান কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin