এবার স্ত্রী-সন্তান হত্যাকারী শাহিনকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা

সিটি নিউজ ডেস্ক: বরগুনায় নিজের মেয়েসহ স্ত্রী হত্যাকারী শাহিনকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেছে পুলিশ। হত্যা মামলা দায়ের করেছেন সুমাইয়ার বাবা রিপন হাওলাদার। প্রধান আসামীরা হচ্ছে শাহিন মুন্সী, তার মা শাহিনুর বেগম, মামাতো ভাই ইমাম হোসেন ও ইমামের শ্যালক রিপন। আরও ২/৩ জনকে করা হয়েছে অজ্ঞাত আসামী। শনিবার সকাল ১০টার দিকে পাথরঘাটার পূর্ব হাতেমপুর গ্রামের খালের পাড়ের মাটির গর্ত থেকে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হচ্ছে সুমাইয়া ও তার ৯ মাসের শিশু কন্যা সামিরা আক্তার জুঁই। সুমাইয়ার শাশুড়ি শাহিনুর বেগম, নানী শাশুড়ি জাহানারা বেগম ও মামাতো দেবর ঈমাম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলেও শাহিনুর বেগম ও ইমাম হোসেনকে গ্রেফতার দেখিয়ে জাহানারাকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের রুহিতা গ্রামের রিপন হাওলাদার জানিয়েছেন, তার মেয়ে সুমাইয়ার সাথে একই ইউনিয়নের পূর্ব হাতেমপুর গ্রামের খলিল মুন্সীর ছেলে শাহিন মুন্সীর প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। বিয়ের আগেই সুমাইয়া গর্ভবতি হয়। শাহিন তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে প্রায় দেড় বছর আগে সুমাইয়া বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় শাহিনকে কারাগারে পাঠানো হয়। শাহিন কারাগারে থাকা অবস্থায় সামিরা আক্তার জুঁইয়ের জন্ম হয়। ৫ মাস হাজতবাস শেষে জামিনে মুক্ত হয়ে সুমাইয়াকে তার প্রেমিক শাহিন বিয়ে করে।

শাহিনের পরিবার তাদের এ বিয়েকে মেনে নেয়নি। সুমাইয়ার উপর চলতে থাকে নির্যাতন। রিপন আরও জানিয়েছেন, গত বুধবার তিনি মেয়ে-জামাইকে বাড়িতে দাওয়াত দিয়েছিলো। সুমাইয়া বাবার বাড়ি গেলেও শাহিন তার শ্বশুর বাড়িতে যায়নি। বুধবার দুপুরে দাওয়াত খেয়ে সুমাইয়া তার মেয়েকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে চলে আসে। ধারনা করা হচ্ছে, বিকেলের কোন এক সময়, অথবা রাতে সুমাইয়া ও তার মেয়েকে হত্যা করে মাটি চাপা দেয়া হয়েছে। সুমাইয়া ও তার মেয়েকে না পেয়ে বৃহস্পতিবার পাথরঘাটা থানায় জানানো হয়েছিলো।

পাথরঘাটা থানার ওসি আবুল বাসার জানিয়েছেন, সুমাইয়ার একটি হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সুমাইয়া ও তার মেয়েকে নির্যাতনের পরে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে খালের পাড়ের মাটি খুড়ে তাদের মরদেহ পাওয়া গেছে। সুমাইয়ার হাত-পা বাধা অবস্থায় ছিলো। পা ভাজ করে মাটি চাপা দেয়া হয়েছিলো।

পাথরঘাটার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল হোসেন সরকার জানিয়েছেন, পলাতক শাহিনকে ধরিয়ে দিলে পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে পুরস্কৃত করা হবে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin