বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চাঁন‘র বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনী

বরিশাল বিভাগের কৃর্তি সন্তান, দক্ষিণ অঞ্চলের জনপ্রিয় প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির বরিশাল দক্ষিণ জেলার সভাপতি, বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি,বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং একজন বিনয়ী মানুষ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ এবায়েদুল হক চাঁন।এবায়েদুল হক চাঁন ১৯৫১ সালে ২৯ ডিসেম্বর বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ’র বাসভবনে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর পিতা মরহুম আব্দুল করিম, মাতা ছফুরা খাতুন। ৯ ভাই ৩ বোনের মধ্যে তার অবস্থান তৃতীয়। তিনি ১৯৫৬ সালে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন উদয়ন (প্রভাতী) স্কুল থেকে। তিনি ১৯৬৬ সালে বরিশাল বিএম স্কুল থেকে এস.এস.সি এবং ১৯৬৯ সালে তিনি বরিশাল সরকারি কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশ করেন। এবায়েদুল হক চাঁন ছাত্র জীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

বিএম স্কুল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। ১৯৬৯ সালে গণ আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি। তিনি ১৯৭৩ সালে বরিশাল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্র সংসদের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ছিলেন দির্ঘ দিন। ১৯৭১ সালে ২৭ মার্চ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আমানতগঞ্জ সংগ্রাম কমিটির মাধ্যমে প্রথমে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।

এরপর তিনি তালতলী, টেক্সটাইল রোড, নাজিরপুল, চরকাউয়া খেয়াঘাট এলাকায় পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে সম্মুখ যদ্ধে অংশ গ্রহন করে গুলাগুলি করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময়ে বিচ্ছু বাহিনীর নেতৃত্বে দেন তিনি মেহেন্দিগঞ্জ ভাসানচর এলাকায় পাকিস্তান পুলিশ বহনকারী দুইটি লঞ্চ অপারেশন করে অস্ত্র রেখে দেয়, যা তখনকার দেশ বিদেশের বড় বড় গণমাধ্যম এই সংবাদটি প্রকাশিত হয়।

এরপর তিনি ভারতের শিলিগুড়ি ক্যান্টমেন্ট এস.এল.আর.এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ নিয়ে মুজিববাহিনীর প্রধান জননেতা আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ নেতৃত্বে তিনি আগৈলঝাড়া উপজেলায় সম্মুখে যুদ্ধে অংশ নেন। এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেন। পরে অস্ত্র সমর্পণ করেন। তিনি ১৯৭৮ সালে জাগোদল দল (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাকালীন বরিশাল জেলা সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭৯ সালে জাতীয়তাবাদী যুবদলের শহর কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন।

তিনি ১৯৮৯ থেকে ৯১ সালে দেশের জাতীয় আন্দোলনে রাজপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি একাধিকবার গ্রেফতার ও কারাবরণ করেন। তিনি সরকারী বিএম কলেজ ও হাতেম আলী কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচনে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল সদর-৫ আসন থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস এর পক্ষে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে তিনি জাতীয় সংসদ উপ নির্বাচনে এবং ২০১৩ সালে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রধান সমন্বয়কারী দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯২ সালে কোতায়ালী বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন।

১৯৯৮ সালে বরিশাল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ২০১৩ সালে বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। এবায়েদুল হক চাঁন ২০০২ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে তিন বার বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে তিনি ঢাকায় এফবিসিসিআই এর পরিচালকের দায়িত্ব ছিলেন। তিনি ২০০৩ সালে মাওয়া সেতু বাস্তবায়নের জন্য তাঁর নেতৃত্বে মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট এবং বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে বৃহৎ পরিসরে একটি নিরাবতা মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত করেন।

তিনি সর্বমহলে প্রশংসিত হন। তিনি খাজা মাইনুদ্দিন মাদ্রসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং সৈয়দ কাউসার হোসেন এর মৃত্যুর পর তিনি মাদ্রাসার সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত হন। তিনি বরিশাল ইসলামিয়া কলেজ প্রতিষ্ঠা কালীন সময় গভর্নিং বডির সদস্য। ২০১২ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি বরিশাল আরবান সমবায় সমিতির সভাপতি ছিলেন। জামে কসাই মসজিদ এর সহ-সভাপতি এবং পলাশপুর কাজীর গোরস্থান জামে মসজিদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে আছেন। তিনি এ করিম আইডিয়াল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর স্ত্রী মরহুমা মাহমুদা বেগম।

তাঁর তিন ছেলে সন্তান। তাঁরা দেশের বাইরে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তাঁর বড় ছেলে অনুপ তিনি লন্ডন কিংস কলেজ থেকে বিট্রিশ ল’ অনার্স এল এল এম পাশ করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাশ করেন। তাঁর মেজো ছেলে অভি লন্ডন কিংস কলেজ থেকে মাস্টার্স ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ম্যানেজমেন্ট পাশ করেন। তাঁর ছোট ছেলে আবির ঢাকা অক্সফোর্ট কলেজ থেকে এলেবেল ওলেবেল নর্থসাউথ একাউন্টে অনার্স পাশ করেন। বর্তমানে তারা নিজ নিজ কর্মব্যস্ত।
সূত্র: Zahidul Islam Mamun ‍এর ফেসবুক থেকে নেয়া

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin