রাত হলেই ভিড় বাড়ে বরিশাল নগরীর অলিগলিতে

শফিক মুন্সি, বরিশাল গত মঙ্গলবার রাত ৯ টা ১৫ মিনিট। বরিশাল নগরীর সাগরদি ধান গবেষণা সড়কের পুরানো খেয়াঘাট এলাকায় গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ। সেখানকার ছোট্ট বাজারটির সবগুলো দোকান খোলা, মানুষের ভিড় খাবার হোটেলে। সবকটি চায়ের দোকানে আড্ডারত স্থানীয়রা। চলমান কঠোর লকডাউনে যেখানে যেকোনো ধরণের জনসমাগম বন্ধ থাকার কথা সেখানে জনাকীর্ণ পুরো জায়গাটি। কিছুক্ষণ আগে বাজারের পাশেই একটি মাঠে লাইট জ্বালিয়ে স্থানীয় তরুণরা শুরু করেছে শর্টপিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট।

জুলাই মাসের প্রথম দিন থেকেই সারাদেশের ন্যায় বরিশালে চলছে কঠোর বিধিনিষেধ। দিনের বেলা লকডাউন কার্যকর করতে মাঠে থাকে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পরিচালিত হয় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান। সে কারণে ফার্মেসী ছাড়া প্রায় সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকে নগরীর বিভিন্ন অলিগলি থেকে শুরু করে মূল শহরেও খোলা পাওয়া যায় দোকানপাট।
সাগরদি এলাকা থেকে মোটরসাইকেলযোগে এই প্রতিবেদক যান রূপাতলী হাউজিং এবং সেখান থেকে মুন্সি গ্যারেজ এলাকায়। সবজায়গার চিত্র একই। এ ব্যাপারে রূপাতলী হাউজিং এলাকার এক মনোহারি সামগ্রীর দোকানদারের সঙ্গে কথা হলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদেরও তো বেঁচে থাকতে হবে৷ লকডাউনে দোকান বন্ধ রাখলেও মাস শেষে মালিককে ভাড়া কম দেয়ার উপায় নেই। তাই এশার নামাজের পর দোকান খুলি রাত ২ টার দিকে বন্ধ করে বাসায় যাই। কাস্টমাররাও দোকান খোলা রাখার এই নতুন সময়সূচি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল।
এভাবে দোকান খোলা রাখার বিষয়ে ক্রেতা – বিক্রেতা শুধু নয়, জ্ঞাত আছেন প্রশাসনের অনেকেও। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মোঃ ফারুকের সঙ্গে গত সোমবার রাতে আলাপ হয় এ ব্যাপারে। তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন অলিগলিতে দোকানপাট খোলা হয় বলে শুনেছি। বর্তমান সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেখানে প্রাণ বাঁচানো সেখানে এমনটা করা অনুচিত। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সাথে নিয়ে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
এদিকে লকডাউন কার্যকর করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। লকডাউনের সপ্তম দিনে আজ বুধবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমান আদালতের ১৪ টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলায় ৭৯ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পৃথক মামলায় ৬৭ হাজার ৫০ টাকা জরিমানা করা হয় এসময়। এছাড়া চলমান কঠোর লকডাউনে স্বাস্থ্য বিধি ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করায়  গত সাতদিনে বরিশাল জেলায় জরিমানা আদায় হয়েছে ৯ লক্ষ ৪১ হাজার ৯০০ টাকা । এসময় মহামারি নিয়ন্ত্রণ ও সংক্রমণ রোধে দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারা মোতাবেক ৭৭৯ টি মামলা দায়ের করা হয়।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin