গভীর রাতে নগরীর অসহায় পরিবারের ঘরে হাসি ফোটাচ্ছেন সিটি মেয়র

সিটি নিউজ ডেস্ক ‍॥ অনেকটা অনিশ্চয়তা নিয়েই জরার্জীন ঘরের বিছানায় নগরীর খেটে খাওয়া মানুষেরা যখন ঘুমানোর চেষ্টা করছেন ঠিক তখন রাতের নিস্তব্দতা ভেঙ্গে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার মহৎ এ কাজটি নিরলস করে যাচ্ছেন সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

করোনা মহামারীতে কর্মহীন হয়ে পড়া খেটে খাওয়া মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার দেয়া খাদ্য সামগ্রী ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার এ কাজটি সরাসরি তত্ত্বাবধান করছেন মেয়র নিজেই। আর এ কাজ বাস্তবায়নে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি তিনি তাঁর রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সেবক হিসেবে যুক্ত করেছেন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের একটি সূত্রে জানা গেছে, করোনাকালীন সময়ে কর্মহীন মানুষদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার খাদ্য সামগ্রী চলতি মাসের ১১ তারিখ থেকে নগরীতে বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ওইদিন নগরীর ১০ ও ১১ নং ওয়ার্ডের বঙ্গবন্ধু কলোনী ও কেডেসি কলোনীর ২ হাজার ৫শ’ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় পরদিন অর্থাৎ গত ১২ জুলাই নগরীর ৯ নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর, ৬ নং ওয়ার্ডের কলাপট্টি শিশু পার্ক কলোনীর ২ হাজার ৫শ’ এবং গত ১৩ জুলাই ৫ নং ওয়ার্ডের পলাশপুর কলোনী ও ৪ নং ওয়ার্ডের ঝাপের পাড় কলোনীর ২ হাজার ৫শ’ পরিবারের ঘরে ঘরে গিয়ে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়। একই ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার রাতেও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, প্রতিদিন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর কালিবাড়ী রোডস্থ সেরনিয়াবাত ভবনে বিতরণকৃত খাদ্য সামগ্রী প্যাকেটজাত করা হয়। প্রতি প্যাকেটে প্রত্যেক পরিবারের জন্য ১০ কেজি করে চাল, ২ কেজি মসুর ডাল, ২ কেজি আলু ও এক কেজি সয়াবিন তেল বরাদ্দ করা হয়েছে। গত বছর করোনাকালীন সময়ে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর তত্ত্বাবধানে কয়েক দফা খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছিলো। যা নগরবাসীর কাছে ব্যাপক প্রশংসাও পেয়েছিলো।

এবছরও করোনার প্রকোপ বেড়ে গেলে কর্মহীন হয়ে হয়ে পড়া খেটে খাওয়া মানুষের কাছে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া খাদ্য সামগ্রী ঘরে ঘরে গিয়ে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব নেন সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ। গত কয়েকদিন ধরে মেয়রের বাসভবনে বসেই খাদ্য সামগ্রী প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। মেয়রের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই সকল খাদ্য সামগ্রী ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার কাজে যারা নিয়োজিতরা তারা রাত ৮ টার মধ্যে মধ্যেই মেয়রের বাসভবনের সামনে পোৗঁছে যায়। এরপর তারা তাদের দায়িত্ব বুঝে নিয়ে ট্রাকে করে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে ছোটে নগরীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে।

নির্ঘূম রাত কাটিয়ে তারা ঘুমিয়ে থাকা অসহায় মানুষগুলোকে জাগিয়ে তাদের হাতে পৌঁছে দেন খাদ্য সামগ্রী। এ বছর খাদ্য সামগ্রী পৌঁছানোর ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে নগরীর কলোনীগুলোকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। কারণ ওই সকল কলোনীতে নিম্ন আয়ের মানুষেরা বসবাস করেণ। খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার কাজে নিয়োজিত কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সবাই যখন গভীর ঘুমে অচেতন থাকেন, ঠিক তখন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া খাদ্য সামগ্রী উপহার হিসেবে অসহায়দের ঘরে ঘরে গিয়ে পৌঁছে দেয়া হয়।

অসহায় মানুষরা প্যাকেট ভর্তি খাদ্য সামগ্রী হাতে পেয়ে হাসি মুখে দু’হাত তুলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর জন্য দোয়া করেন। বিতরণের দায়িত্বরতরা আরো জানান, খাদ্য সামগ্রী প্যাকেটজাত হওয়া থেকে শুরু করে ওই সকল প্যাকেট ট্রাকে তোলা ও পুরো বিতরণ কার্যক্রম মেয়র সরাসরি তদারকি করেন। এক্ষেত্রে দীর্ঘ কয়েক রাত না ঘুমিয়েই কাটিয়ে দিয়ে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ খোঁজ রাখছেন প্রতিটি প্যাকেটে সকল পন্য সঠিক মতো দেয়া হয়েছে কিনা।

প্রতিটি প্যাকেট ট্রাকে ঠিকভাবে উঠানো এবং কলোনীর সকল পরিবার তা পেয়েছে কিনা সেই বিষয়েও কঠোর নজরদারী করেন। আপাতত কোরবানী ঈদের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত নগরীর নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাসকৃত এলাকাতে খাদ্য সামগ্রী দেয়া হবে। প্রতি রাতে ২ হাজার ৫শ’ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছানো হবে। ঈদের পর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হলে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।

এ ব্যাপারে নগরীর সচেতন মহল মনে করেণ, করোনাকালীন সময়ে অসহায় মানুষদের খাদ্য সহায়তা দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনন্য ভূমিকা পালন করছেন। আর প্রধানমন্ত্রীর সেই মহৎ উদ্যোগকে সফল করতে সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ প্রতিদিন যে বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করছেন তা সত্যিই বিরল ও প্রশংসার দাবিদার।

করোনাকালীন সময়ে অসহায়দের মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ যে গুরু দায়িত্ব পালন করছেন তা তাঁর মানবিক গুনাবলীরই বহিঃপ্রকাশ বলেই তারা মনে করছেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin