বরিশালে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে উদাসীন লঞ্চের যাত্রীরা

সিটি নিউজ ডেস্ক ।। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দীর্ঘ ২২ দিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) থেকে দক্ষিণাঞ্চলের সাথে দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে নৌযান চলাচল শুরু হয়েছে।

বরিশাল ও ভোলার নৌপথে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ক্যাটামেরন সার্ভিসে বিপুল যাত্রী চলাচল করলেও সরকারী-বেসরকারী নৌযানগুলোতে যাত্রী চলাচল শুরু হয় বৃহস্পতিবার রাতে।

প্রথম দিন যাত্রীর আধিক্য কম থাকায় কিছুটা দুরুত্ব বজায় রেখে চলাচল করতে দেখা গেলেও প্রায় সব নৌযানেই অর্ধেক যাত্রীর মুখেই মাস্ক ছিলনা।

দক্ষিণাঞ্চলের অভ্যন্তরীন রুটের নৌযানগুলেতেও একই চিত্র লক্ষ করা গেছে।তবে, স্বাস্থ্যবিধি মানাতে লঞ্চ মালিক ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌযান চলাচল কর্তৃপক্ষ কঠোর হলেও উদাসীন যাত্রীরা।

যাত্রীদের মাস্ক পরা ও সমাজিক দূরত্ব মানতে একটু অনীহা লক্ষ্য করা গেছে। বৃহস্পতিবার লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই সদরঘাট প্লাটুন ছিল যাত্রীদের ভিড়।

তবে, কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে কঠোর অবস্থানে থাকলেও উদাসীন যাত্রীরা। যাত্রীদের মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা গেলেও সঠিক নিয়ম মানছেন না কেউ। অনেকেই মুখের নিচে মাস্ক নামিয়ে রাখতে দেখা গেছে।

সামাজিক দূরত্ব বার বার প্রচারণা করেও মানানো যাচ্ছে না।এ দিন লঞ্চ মালিক ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও মাস্ক ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিতের জন্য কাজ করতে দেখা গেছে।

টার্মিনালে মাইকে বার বার প্রচার করা হচ্ছে লঞ্চে প্রবেশের সময় যাত্রীদের হাতে জীবাণুনাশক স্প্রেসহ যাত্রীদের মাস্ক নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া অনেক লঞ্চে প্রবেশের সময় যাত্রীদের হাতে জীবাণুনাশক দেওয়া এবং শরীরের তাপমাত্রা মেপে যাত্রীদের লঞ্চে উঠাতে দেখা গেছে এমভি গ্রিন লাইনের টিকিট কাউন্টারের কর্তকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা আজ শুধু টিকিট কাউন্টার পরিষ্কারের জন্য এসেছি।

তবে যাত্রীরা টিকিট নিতে এলে তাদের দিচ্ছি। বৃহস্পতিবার থেকে পুরোদমে টিকিট বিক্রি হবে।

এছাড়া আমাদের অনলাইনে টিকিট বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে আগামী ১৫ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। আমরা এক আসন ফাঁকা রেখে টিকিট দিচ্ছি।

আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই লঞ্চ পরিচালনা করছি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, আমরা কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে লঞ্চ ছাড়ছি।

স্বাস্থ্যবিধি মানতে সব লঞ্চ মালিকদের বলা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করলে কর্তৃপক্ষ যদি কোনো জরিমানা করে তাহলে আমাদের কিছু করার থাকবে না। আমরা এবার স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে কঠোর অবস্থানে আছি।

আশা করছি, আমরা আমাদের ওয়াদা রাখতে পারবো। তবে, নৌযানে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মানানো অনেক কষ্টকর বিষয়।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin