বরিশালে ৩ ঘণ্টা পর বাস চলাচল শুরু

সিটি নিউজ ডেস্ক ‍॥ আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাসে তিন ঘণ্টা পর বরিশালে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। ব‌রিশাল সি‌টি কর‌পো‌রেশ‌নের মেয়র সের‌নিয়াবাত সা‌দিক আব্দুল্লাহর নি‌র্দেশে ‌বাস চলাচল শুরু করা হয়েছে ব‌লে জানান বাস মা‌লিক নেতারা।

এর আগে শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বরিশালের দুই টার্মিনাল থেকে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ করে দেন পৃথক বাস মালিক সমিতি।

লকডাউন শিথিলের পর গণপরিবহন চলাচল শুরুর এক দিনের মাথায় এমন ঘটনা ঘটে।

শ্রমিকরা জানান, বরিশাল জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের দুটি কমিটি নতুনভাবে গঠন হয়। এরপর থেকে দুই গ্রুপের শ্রমিকনেতাদের মধ্যে বিভিন্ন সময় ছোটখাটো মারামারি ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটে আসছিল।

কয়েকজন শ্রমিক জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টার্মিনাল ভবনের নিচতলায় কাউন্টারের সামনে সুলতান মাহামুদ ও সহিদুল ইসলাম টিটুর নেতৃত্বাধীন কমিটির শ্রমিকদের সঙ্গে পরিমল চন্দ্র দাস ও শাহারিয়ার বাবুর নেতৃত্বাধীন কমিটির শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। এতে পরিমল ও বাবু গ্রুপের বেশ কয়েকজন আহত হন।

পরে বাস টার্মিনাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বাস চলাচল বন্ধ হয় ৪ ঘণ্টার জন্য।

আহমেদ শাহরিয়ার বাবু বাদী হয়ে সুলতান মাহামুদসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুলতান মাহামুদসহ হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে চার ঘণ্টা পর বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করায় শুক্রবার সকাল থেকে আবারও বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ ও রুপাতলী টার্মিনাল থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

রুপাতলী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপন বলেন, ‘সুলতান মাহামুদ তার লোকজন নিয়ে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা করেছেন। পুলিশের আশ্বাসে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার না করায় শুক্রবার সকাল থেকে ১৭ রুটে বাস চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।’

বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে বলেন, ‘আমাদের বাস মালিক নেতা ও শ্রমিকনেতাদের মারধর করেছে সুলতান মাহামুদ ও তার লোকজন। তাদের গ্রেপ্তারে আশ্বাস দেয়া হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। সুলতান মাহামুদ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে গ্রেপ্তার করা না হলে বাস বন্ধই থাকবে।’

এদিকে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালের সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।

পরে মেয়রের মধ্যস্ততায় ও পুলিশের আশ্বাসে বাস চলাচল শুরু করেন শ্রমিক ও বাস মালিক নেতারা।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin