যৌবন ফিরে পাচ্ছে সেই ধানসিঁড়ি

সিটি নিউজ ডেস্ক ‍॥ আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে-এই বাংলায়। হয়তো মানুষ নয় হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে, হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে।’ এই কবিতাটি বাংলা সাহিত্যে ধানসিঁড়ি নদীটি প্রেম এবং ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এই নদীর সৌন্দর্য এতটাই বিমোহিত ছিল যা দেখে বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃৎ রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ তার জনপ্রিয় কবিতা ‘আবার আসিবো ফিরে’ রচনা করতে গিয়ে এই নদীটি নাম ব্যবহার করেন। কিন্তু সেই ধানসিঁড়ি নদীর যৌবন- জৌলস, নাম-যশ আর সুখ্যাতি দিনে দিনে হারিয়ে যেতে বসেছে অনেক কারণেই। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে নাব্যতা সংকট দূরীকরণ আর পর্যাপ্ত খনন কাজ না হওয়ায় অচলাবস্থা হয়ে পরেছে নৌ-চলাচল। ব্যহত হচ্ছে কৃষি কাজ, দেখা দিয়েছে কয়েকটি গ্রামে পানির তীব্র সংকট।

এর ফলে অর্থনৈতিকভাবেও চরম ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে এ জনপদের মানুষ। এখন শুধু কবিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে ধানসিড়িঁ নদীর নাম। কবি জীবনানন্দ দাশের সেই স্মৃতি বিজড়িত ধানসিড়ি নদীর পুন:যৌবন আর স্রোতধারা ফিরে আনতে তৃতীয় বারের মতো পুন:খনন কাজ শুরু শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড গত মার্চ মাসে শুরু করেছে নদীর পুনঃখনন কাজ।

ঝালকাঠি সদর উপজেলায় বয়ে যাওয়া এই ঐতিহ্যবাহী ধানসিঁড়ি নদী হতে রাজাপুরের জাঙ্গালিয়া নদীর মোহনা পর্যন্ত সাড়ে ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে নদীর ৪ লাখ ১৬ হাজার ৮০৬.৫ ঘ. মি. মাটি খনন করা হবে। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদীর সর্বশেষ ২০১০-১১ অর্থবছরে প্রায় ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডে রাজাপুর অংশের পিংড়ি-বাগড়ি-বাঁশতলার মোহনা পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার খনন করা হয়েছিলো। কিন্তু সঠিকভাবে খনন আর পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় সেই খননকৃত অংশও পুনরায় ভরাট হয়ে যায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঝালকাঠির নির্বাহী প্রকৌশলী এস.এম. আতাউর রহমান বাংলা’কে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শত বছর দীর্ঘ মেয়াদী ডেলটা প্লান বাস্তবায়ন করতে দেশের ছোট-বড় মৃত নদী ও খালগুলোর পুন:খনন করা হবে। সেই সঙ্গে নদী ও খালের পুন:যৌবন আর স্রোতধারা ফিরে আনতেও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তারই অংশ হিসেবে পুন:খনন প্রকল্পের আওতায় রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের প্রিয় ঝালকাঠি জেলার ধানসিঁড়ি নদীর সাড়ে ৮ কিলোমিটার পুন:খননের কাজ শুরু হয়েছে। নদীর পুন:খনন কাজে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ২ বছর মেয়াদে দুই কিস্তিতে প্রায় ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

তিনি আরো জানান, নদীর খননকৃত মাটি দিয়ে নদীর দু’পাশে রাস্তা সংস্কার ও বনায়ন করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এই নদীর খনন কাজ সম্পন্ন হলে এই এলাকার কৃষক সম্প্রদায়ের সেচ ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে সাফল্য বয়ে আসবে এবং ফিরে পাবে রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের স্মৃতি বিজরিত ধানসিঁড়ি নদীর পুন:যৌবন।

নদীর খনন কাজের ঠিকাদার মো. মনিরুজ্জামান হাওলাদার জানিয়েছেন, প্রকল্পের সকল শর্ত মেনেই দ্রুতগতিতে ধানসিড়িঁ নদীর পুন:খনন কাজ চলছে। প্রকল্পের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যেই আশা করি সমস্ত কাজ শেষ হবে। তিনি আরো জানান, এছাড়াও ধানসিড়িঁ নদীর দু’পাশে দৃষ্টি নন্দন করতে হরেক রকমের বৃক্ষ রোপন করা হবে। এ কাজের জন্য মনোনিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ঢাকার পুরানা পল্টনের আরএবি-পিসি (প্রা.) লি.-পিটিএসএল ও মৈত্রী (প্রা.) লি.-কে ২০১৯ সালের ১১ মার্চ কার্যাদেশ প্রদান করেন। চলতি বছরের ১২ মার্চ কাজ শুরু এবং ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল মাসে সম্পন্ন করার জন্য সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin