বরিশালে সাংবাদিকদের সাথে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের মতবিনিময় সভা

সিটি নিউজ ডেস্ক:: বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) করোনা ওয়ার্ডে ৩০০ শয্যার বিপরীতে বুধবার রোগী ভর্তি ছিল ৩৪৯ জন। বিগত ২৪ ঘণ্টায় এই ওয়ার্ডে মারা গেছেন ১৫ জন রোগী। দিন দিন পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এখন আর রোগী রাখার জায়গা নেই শেবাচিমের করোনা ওয়ার্ডে।

পরিস্থিতির আরও অবনতির আশংকায় ১০০ শয্যার বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল (সদর) বিশেষায়িত করোনা হাসপাতালে পরিণত করা হয়েছে। এই হাসপাতালের অন্যান্য ওয়ার্ডের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ করে রোগীদের পাঠানো হচ্ছে শের-ই বাংলা মেডিকেলের সাধারণ ওয়ার্ডে।এদিকে, করোনা উপসর্গ ও আক্রান্ত গর্ভবতী এবং দুগ্ধদায়ী মায়েদের জন্য বরিশাল নগরীর কালীবাড়ি রোডের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ২০ শয্যার বিশেষায়িত করোনা ইউনিট চালু করা হয়েছে। অপরদিকে স্বচ্ছল রোগীদের জন্য নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালও বিশেষায়িত করোনা হাসপাতালে পরিণত করার জন্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। 

বুধবার দুপুরে বরিশাল সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের এক মতবিনিময় সভায় জানানো হয় এসব তথ্য। 

সভায় জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, বরিশাল বিভাগের বাইরের বাগেরহাট, মাদারীপুর, শরীয়তপুর এবং গোপালগঞ্জ থেকেও শের-ই বাংলা মেডিকেলে রোগী পাঠানো হচ্ছে। ওইসব জেলায় করোনা চিকিৎসার পরিধি বাড়ানো হলে শেবাচিম হাসপাতালে রোগীর চাপ কমবে। একই সাথে বিত্তবানদের জন্য নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল করোনা বিশেষায়িত হাসপাতাল করা হলে শেবাচিমে রোগীর চাপ কিছুটা হলেও কমবে বলে তিনি জানান।

বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, জেনারেল হাসপাতালে জনবলে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও ১শ’ রোগীর চিকিৎসা দেয়ার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছেন। সেখানে ১শ’ রোগীকে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। জেনারেল হাসপাতালে শীঘ্রই ৫ শয্যার একটি আইসিইউ ইউনিট করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

করোনা পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারন করায় জেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০টি করে মোট ১৮০টি শয্যা করোনা উপসর্গ ও আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান সিভিল সার্জন।

শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, উপসর্গহীন অনেক ব্যক্তি নিজের অজান্তে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাদের মাধ্যমে অন্যরা আক্রান্ত হচ্ছেন। এ কারণে করোনা প্রতিরোধের জন্য সবাইকে মাস্ক পরিধান, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, বারবার স্যানিটাইজার মাখা এবং সাবান দিয়ে বারবার হাত ধোয়ার পরামর্শ দেন তিনি। 

মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার, শের-ই বাংলা মেডিকেলের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মো. মনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) প্রশান্ত কুমার দাস সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।সুত্র,বাংলাদেশ প্রতিদিন

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin