একাত্তরে শুধু অস্ত্র নয়, কলমও ছিল নূরুল আলম ফরিদের সঙ্গী

আহমেদ জালাল : মুক্তিযুদ্ধকালীন নয় নম্বর সেক্টরের বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল আলম ফরিদ৷ একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতেই অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন তিনি৷ এরপর যুদ্ধের মাঝেই প্রকাশ করতেন ‘বিপ্লবী বাংলাদেশ’ পত্রিকা৷ ৯ নং সেক্টরের মুক্তিযুদ্ধের মুখপত্র পত্রিকা ‘বিপ্লবী বাংলাদেশ’ এখনো আছে৷

একাত্তরে শুধু অস্ত্র নয়, কলমও ছিল নূরুল আলম ফরিদের সঙ্গী৷ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেই তিনি প্রকাশ করেন ‘বিপ্লবী বাংলাদেশ’৷ রণাঙ্গণের নানা সংবাদ দিয়ে সাজানো এই সাপ্তাহিক পত্রিকাটি মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে তৎকালীন সময়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল৷ যুদ্ধের পাশাপাশি এই পত্রিকাটি কলকাতা থেকে প্রকাশ করেন নূরুল আলম ফরিদ৷

এই বীর মুক্তিযোদ্ধার ভাষ্য, ‘‘আমরা পাঁচদিন থাকতাম যুদ্ধক্ষেত্রে৷ যোদ্ধাদের কাছ থেকে বিভিন্ন খবর সংগ্রহ করে কলকাতায় পত্রিকাটি প্রকাশ করা হতো৷ এরপর আবার সেগুলো পৌঁছে দেওয়া হতো মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে৷ এই পত্রিকার প্রয়োজনেই বাংলাদেশে বিভিন্ন রণাঙ্গণে ঘুরে বেড়ান তিনি৷ কখনো সহজেই যুদ্ধের তথ্য পেয়ে যেতেন, আবার কখনো বেশ কঠিন লড়াইয়ের মাঝেই কলম চালাতে হতো তাঁর৷” একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিটা বরিশালে খানিক আগেই শুরু হয়ে গিয়েছিল৷ ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই চূড়ান্ত লড়াইয়ের তোড়জোড় শুরু হয়৷

প্রতি সন্ধ্যায় দেশাত্ববোধক গান বাজানো হয় শহরের বিভিন্ন এলাকায়৷ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও সভা-সমাবেশে যুদ্ধের প্রস্তুতির কথা বলেন৷ এরপর মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ভাষণের ফলে ঐক্যের পথে আরো এগিয়ে যায় দেশবাসী৷ নূরুল আলম ফরিদ তখন তরুণ শিক্ষার্থী৷ বরিশাল শহরের বগুড়া রোডের পেশকার বাড়ির বাসিন্দা নূরুল আলম ফরিদ জানান, ২৫ মার্চ রাতেই যুদ্ধের জন্য অস্ত্র হাতে তুলে নেয় বরিশালবাসী৷ তিনি বলেন, আমিও ২৫ মার্চেই যুদ্ধে যোগ দিয়েছি৷
ভারতে প্রশিক্ষণ : এপ্রিলে পাক হানাদাররা প্রবেশ করে বরিশালে৷ শুরু হয় সম্মুখ যুদ্ধ৷ ফরিদরা তখন আরো প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে ভারতে পাড়ি দেন৷ তিনি বলেন, ‘‘পাকসেনারা ২৫ এপ্রিল বরিশাল আক্রমণ করে৷ ২৫ এপ্রিল নৌকা এবং লঞ্চ নিয়ে আমরা পহেলা মে ভারতের হাসনাবাদে পৌঁছাই ৷ গন্তব্য চব্বিশপরগনা, নয় নম্বর সেক্টর৷” সম্মুখ যুদ্ধ : একাত্তরে একাধিকবার সরাসরি পাকিস্তানি বাহিনীর মোকাবিলা করেছেন এই বীর সেনা৷

ঈদের দিনে পারুলিয়া এলাকা শত্রুমুক্ত করেছিলেন তাঁরা৷ সেদিনের কথা এখনো পরিষ্কার মনে আছে তাঁর৷ তিনি বলেন, ‘‘সেপ্টেম্বরের এক ঈদের দিন, সম্ভবত ২৬ সেপ্টেম্বর আমরা পারুলিয়া শত্র“মুক্ত করেছিলাম৷ সেসময় আমাদের বেশ কয়েকজন আহত হন৷ তবে শেষপর্যন্ত শত্রুপক্ষকে আমরা চারিদিক থেকে ঘিরে ধরতে সমর্থ হই৷ এভাবেই আমরা পারুলিয়া শত্রুমুক্ত করি৷” রণাঙ্গণের মুখপত্র ‘বিপ্লবী বাংলাদেশ’ ১৯৯৬ সালে দৈনিক পত্রিকায় রূপ নেয়৷

লেখক : নির্বাহী ও বার্তা সম্পাদক, রণাঙ্গণের মুখপত্র দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin