বজ্রপাতে ১৭ স্বজন হারিয়ে শোকে স্তব্ধ বর-কনে

কনে দেখতে গিয়েই বিয়ে হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের সূর্যনারায়ণপুর গ্রামের জনতাপাড়ার শরিফুল ইসলামের ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন এর। গেল রোববার সন্ধ্যায় শিবগঞ্জ উপজেলার দক্ষিনপাঁকার হোসেন আলীর মেয়ে সুমি খাতুনের সঙ্গে। বিয়ের দিন থেকেই শশুর বাড়ীতেই অবস্থান করছিলেন বর আবদুল্লাহ আল মামুন। পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর খবর শুনে বুধবার দুপুরেই ফিরেন নিজ বাড়ীতে।

শুক্রবার সকালে সূর্যনারায়ণপুর গ্রামের জনতাপাড়ায় আবদুল্লাহ আল মামুন এর বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর মা চেমালী বেগম বাড়ীর বাইরে বিলাপ করছে। এসময় প্রতিবেশীসহ আত্মীয় স্বজনরা তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। তাঁর পাশ দিয়ে বাড়ীর ভিতর প্রবেশ করতে চোখে পড়ল কয়েকজন যুবক আঙিনায় দাঁড়িয়ে আছে। সবার বয়স ২২ থেকে প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে হওয়ায় ঠিক চেনা যায়নি বরকে। জিজ্ঞেস করতে চিনিয়ে দিলেন নতুন বর কে। অন্যদের মত শোকে স্তব্ধ আবদুল্লাহ আল মামুন। প্রতিবেদক কথা বলতে চাইলে তিনি কথাও বলতে পারছিলেন না।

দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে তিনি বলেন, আমার জন্যই এতগুলো মানুষ মারা গেল। আমি পরিবারের বড় ছেলে। আব্বার পছন্দেই বিয়ে হয়েছে। আব্বা নতুন বউয়ের মুখ দেখতে পেল না। এত আত্মীয় স্বজন মারা গেল এখন আমরা কাকে নিয়ে বাঁচবো। এই বলে আর কথা বলতে পারেনি বর আবদুল্লাহ আল মামুন।

এদিকে নববধূ সুমি খাতুন শশুড়বাড়ীতে এসে পেল আনন্দ-আপ্যায়নের পরিবর্তে পেয়েছে বিষাদের রুপ। চারিদিকে কান্না আর আহাজারিতেও তিনিও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, পিতার বাড়ীতেই খবর পায় মৃত্যুর। তাড়াহুড়ো করেই আসতে হয় শশুর বাড়ীতে। গ্রামে ঢুকেই যে দিকে দেখি শুধু কান্না আর লাশ। এমন মৃত্যু মেনে নেয়া যায়না। এমন শোক থেকে মুক্তি পেতে এবং নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin