বরিশালে ৬০ প্রজাতির ফুল গাছে ঘেরা অনিন্দ্য সুন্দর সবুজে এক মসজিদ!

সিটি নিউজ ডেস্ক:: পারিজাত, রঙ্গন, টগর, কাঠ গোলাপ, রক্তকরবী, ক্যামেলিয়া, কাঞ্চনসহ প্রায় ৬০ প্রজাতির ফুল। নানা রঙের প্রায় পঞ্চাশ রকমের বাহারি পাতা। আছে ক্যাটটাস। অন্যদিকে আম-জাম-লিচুর সঙ্গে সফেদা, চেরি, কমলা, বেদনা, জামরুল। আরো আছে কয়েক রকমের আম গাছ। পাঁচ রকমের পেয়ারা। দারুচিনি, কাজুবাদাম, শাল, সেগুন, মেহগনি, নারকেল, পান সুপারি এমনকি বাঁশের ঝাড়ও।

ছোট-বড় প্রায় দেড় হাজার সবুজ গাছে ঘেরা মসজিদটি। সবুজের বুক চিরে শুধু মিনারটি জানান দিচ্ছে মসজিদের উপস্থিতি। মসজিদ ঘিরে রয়েছে হরেক রকমের বিদেশি গাছও। বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোড় ইউনিয়নের দেওপাড়া গ্রামেই অবস্থিত শাহী জামে মসজিদ। শাহী ৯৯ জর্দ্দার মালিক শামিম আহমেদ মসজিদটি প্রতিষ্ঠাতা করেন। অনেকেই তাঁকে ডাকেন গাছ পাগল। আর তিনি নিজে ভাবেন সবাই ফুল পাগল, গাছ পাগল হলে দুনিয়াটা কতই না সুন্দর হত। কার্বন-ডাই অক্সাইডের সঙ্গে লড়াইটা বেশ জমত। বুক ভরে নিঃশ্বাস নেওয়া যেত তখন। এমন ভাবনা থেকেই শাহী ৯৯ পার্ক লাগোয়া মসজদটি তিনি প্রতিষ্ঠা করেন।

পুরো মসজিদ এবং ঈদগাঁ ঘিরে ফেলেছে সবুজে। শুধু নামাজ আদায় করতেই নয়, অনেকেই আসেন সবুজে ঘেরা মসজিদটি একনজর দেখতে। করোনাকালে পার্কটি বন্ধ থাকলেও দর্শনার্থীরা এখন আসছেন মসজিদ দেখতে। প্রতিদিন বিকেলে মসজিদকে ঘিরে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি। দুরদুরন্ত থেকে অনেকেই আসছেন মসজদ দেখতে।

প্রায় এক একর জমির উপর মসজিদ আর ঈদগাহ। মসজিদের রক্ষা প্রচীরে, ঈদগাহের চারপাশে, এমনকি প্রবেশের রাস্তায় সর্বত্র গাছ আর গাছ। বাহারি ফুল দেখতে অনেকেই ছুটে আসেন মসজিদে।

প্রতিদিন কোনও গাছের ডাল কাটা, কোনও গাছের গায়ে কোনও রোগপোকা বাসা বাঁধল কি না তা দেখা, সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া। গাছে জল দেওয়া এ সবই চলে একেবারে নিয়মমাফিক। এ সবই প্রতিদিনের অভ্যেস। সকালে এবং বিকালে গাছেদের পরিচর্যা করা হয়। শ্রমিক নিয়ে গাছেদের পরিচর্যায় মেতে উঠেন মসজিদের খাদেমরা।

বছর ২৭ বয়স তখন। এই সময় থেকেই গাছের নেশায় পড়েন শামিম আহমেদ। দিল্লী, মুম্বই, হায়দরাবাদ বা বিদেশে অন্য কোথাও যেখানেই বেড়াতে বা কোনও কাজে গিয়েছেন নজরকাড়া ফুল, পাতাবাহার, ক্যাটটাস দেখলেই সেগুলি যেভাবেই হোক সংগ্রহ করে নিয়ে এসেছেন মসজিদে।

তাঁর কথায়, ‘আমি একবেলা কম খেতে রাজি আছি। কিন্তু চোখ জুড়ানো গাছ-গাছালি দেখলে আমি সব ভুলে যাই। অন্য জায়গার বাহারি ফুলের গাছ নজরে এলে তা মসজিদে নিয়ে আসার জন্য অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। যদিও সব গাছ বাঁচাতে পারিনি।’

শত শত মানুষ একবার ঢু মেরে দেখে যান মসজিদের গাছ-গাছালিগুলিকে। অনেকে বলেন, গাছ পাগল। আমাদেরও এরকম পাগল হওয়া দরকার। আর শামিম আহমেদের কথায়, ‘যখন থেকে বুঝতে শিখলাম আমরা কার্বনের বিষে ডুবে যাচ্ছি, তখন থেকেই গাছ ও ফুলের প্রতি আমার ভালবাসা।’ তার আফসোস, সবাই যদি ফুল-ফল ও সবুজ গাছ-গাছালিদের ভালবাসত তা হলে পৃথিবীটা অনেক সুন্দর হয়ে যেত। মানুষের বসবাসের যোগ্য হতো।

তথ্য ও সুত্র: কালেরকন্ঠ রফিকুল ইসলাম।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin